• আজ ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জবি শিক্ষার্থী দীপা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

৬:২০ অপরাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ Breaking News, শিক্ষাঙ্গন

মো: আশিক, জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) গণিত বিভাগের মাষ্টার্স শেষ সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী দীপা রাণী নাথ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও দীপার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা দীপার স্বামী সুব্রত চেীধুরী ও দীপার শ্বশুর-শাশুড়িকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দীপার বাবা দীজেন্দ্র লাল দেবনাথ বলেন, “আমার মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষিত, বুদ্ধিমতি, কর্মচাঞ্চল্যের অধিকারী, সচেতন। সে সবসময় অপমৃত্যুর বিপক্ষে কথা বলত। সে কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না। মৃত্যুর দিন বিকাল সাড়ে ৪টায় আমি তার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছি। সে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলেছে। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে দীপার স্বামী আমাকে দীপা আত্মহত্যা করেছে ও দীপার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে আছে বলে জানায়। এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীপা ও সুব্রত প্রায় দেড় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে করে। বিয়ের পর সুব্রতের বাবা-মা দীপাকে মেনে নেয়নি। তারা বিভিন্ন সময় দীপাকে যৌতুক, পড়াশুনা বন্ধ করাসহ নানান অজুহাতে দীপাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। সর্বশেষ এ বছরের ২৩ জানুয়ারি স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়ে দীপা বাবার বাড়িতে চলে আসে। পরে দীপার স্বামী সুব্রত দীপার বাবার হাতে পায়ে ধরে এবং পরবর্তীতে আর এমন ঘটনা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীপাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে।

jobi-manob

সহপাঠীদের দাবি, দীপা গত ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শেষ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিল। সেদিনও দীপা তাদের সঙ্গে হাসিখুশির মধ্যে সময় কাটায়। মৃত্যুর কয়েকঘণ্টা আগেও সে তার বাবার সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপা রাণীর স্বামী জানায়, দীপা আত্মহত্যা করেছে এবং দীপার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে। এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ও আত্মহত্যার নাটক। কারণ দীপা রাণী যখন আত্মহত্যা করেছে তখন তার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও বাসায় ছিল। দীপা রাণী যে রুমে আত্মহত্যা করেছে সে রুম আটকানো ছিল না এবং দীপা রাণীর ফাঁসি দেওয়ার পর আইনানুগভাবে দীপার স্বামী পুলিশকে খবর না দিয়ে নিজেই দীপার লাশ ফাঁসির দড়ি থেকে নামিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। এছাড়া হত্যাকান্ডের চিহ্ন মুছে ফেলতে দীপার স্বামী দীপার লাশ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পুড়িয়ে ফেলার চাপ দেয়।

এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দীপা রাণীর মা রুপালী দেবনাথ, দীপা রাণীর বড় বোন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুবর্ণা দেব নাথ, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান মহিলা ঐক্য পরিষদের ঢাকা মহানগরের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গণিত বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আইয়ুব আলী, প্রধান প্রকেীশলী সুকুমার চন্দ্র সাহা, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এফ এম শরীফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলামসহ প্রমুখ।

দীপা রাণীর স্বামী সুব্রত চেীধুরীকে মুঠোফোনে হত্যাকান্ডর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ময়না তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য জানা যাবে। এ সম্পর্কে এখন কোন মন্তব্য করতে চাই না।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, দীপা রাণী হত্যায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।