• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। বিকাল ৩:১৪মিঃ

ব্যাপক আলোচিত ছবি ‘আয়নাবাজি’ ফাঁস, ক্ষতিগ্রস্ত প্রেক্ষাগৃহ

⏱ | মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৫, ২০১৬ 📁 বিনোদন, স্পট লাইট

বিনোদন ডেস্ক- দেশের প্রেক্ষাগৃহে আয়নাবাজি দেখার জন্য দর্শকেরা যখন টিকিটের জন্য হাহাকার করছেন, ঠিক তখনই এল একটি দুঃসংবাদ। ২০ অক্টোবর রাতে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি টেলিভিশন-এ আপলোড করা হয় পুরো ছবিটি। এরপর সেখান থেকে অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায় ছবিটি। এমনকি ফেসবুক লাইভেও চলে আসে আয়নাবাজি। বিষয়টি টের পেয়ে পরদিনই ছবিটি সরিয়ে নেয় যথাযথ কর্তৃপক্ষ।

112659aynabaziএমন সময় ছবিটি এত সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় ফেসবুকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় আয়নাবাজি চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষও। তাদের মতে, যেভাবে সবাই দলে দলে ছবিটি দেখতে হলে ছুটছিলেন, তাতে দীর্ঘদিনের দর্শক–খরা কাটিয়ে উঠছিল বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো। কিন্তু অন্য মাধ্যমে সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক আকতার হোসেন বলেন, ‘আয়নাবাজি ছবিটির মাধ্যমে আমরা আশার আলো দেখছিলাম। মুক্তির পর থেকে আয়নাবাজি ছবির প্রতিদিনের আয় থাকত ১ লাখ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। আর গত দুই দিন ১ লাখও অতিক্রম করেনি।’

মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটার ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের প্রধান ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘সিনেমা হলের পাশাপাশি আমরা ছবিটির ডিজিটাল মুক্তির কথা চিন্তা করেছি। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই মোবাইল টিভিতে ছবিটি মুক্তি দিই। কিন্তু গ্রাহকেরা এক মোবাইল থেকে আরেক মোবাইল দিয়ে ভিডিও করেছে এবং ফেসবুকে “লাইভ” দিয়ে দিয়েছে। আমরা আইনি পদক্ষেপও নিয়েছি।’

আয়নাবাজি ছবিটি এভাবে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই ক্ষুব্ধ। অনেকে ফেসবুকে মন্তব্য দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

আয়নাবাজি নির্মাতা অমিতাভ রেজা বলেন, ‘আয়নাবাজি আমার প্রথম সিনেমা। গত চার বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে সিনেমাটা বানিয়েছি, যার এক বিন্দু ছাড় দেই নাই কোনো কিছুতে। অনেক মানুষের পরিশ্রম এখানে আছে। এই সব কিছু সম্ভব হয়েছে যখন আমার উপর ভরসা করে কেউ লগ্নি করেছে। মুক্তির আগে আয়নাবাজি কেউ স্পনসর করতে এগিয়ে আসে নাই। আমার আপত্তি ছিলো কোনো নিবেদিত আয়নাবাজি হতে দিবো না। মাত্র ২০ হলে আমাদের সিনেমা নিয়েছিল, যা আয়নাবাজির লগ্নি আসার অসম্ভব কিছু। তারপর ভরসা করে আমরা মুক্তি দেই। কোনো প্রিমিয়ার শো ছাড়া সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য মুক্তি দেয়া হয়েছে। টিকেট কেটে সিনেমা দেখাই ছিল আমার ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য। আমি, চঞ্চল ভাই’সহ সবাই টিকেট কেটে সিনেমা দেখেছি।

আয়নাবাজি অনলাইনে মুক্তি দেওয়া প্রসঙ্গে অমিতাভ রেজা বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল পার্টনার শুধু রবি। কিন্তু রবির কাছে সিনেমার রাইট বিক্রীর প্রশ্নই আসে না। শুধুমাত্র রবি টিভিতে অর্থাৎ মোবাইল ডিভাইস ছাড়া এটা আর কোথাও দেখা যাবে না। তাও তিনদিনের জন্য, কেউ সাবস্ক্রাইব করলে আমরা রেভ্যিনিউ শেয়ার পাবো আর কিছু না। শর্ত ছিল আমাদের পুরোপুরি গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। কিন্তু বাংলাদেশের সাইবার ক্রিমিনালরা অনেক মেধাবী।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভুল সিদ্ধান্ত অবশ্যই আমাদের ছিলো। কিন্তু গত দুই দিন যাবত যখন ‘লোভী’ ‘প্রতারক’ বলে আমাদের মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছেন তখন খবর পাই সিয়াটল এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে আয়নাবাজি সেরা বর্ণনাত্মক চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে। এটাই আয়নাবাজি চলচ্চিত্রের প্রথম পুরস্কার। কিন্তু আমি পুরষ্কার পেয়েছি এ দেশের মানুষের কাছে যখন ২০ হল থেকে ৭৪টা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে সিনেমাটি। যে যত গুজব ছড়াক আমি বলছি আয়নাবাজির একমাত্র পাওয়া আপনাদের ভালবাসা।’

এদিকে কোনো ওয়েবসাইটে কিংবা ফেসবুক পেজে আয়নাবাজির পাইরেটেড কপি দেখলেই পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ফেসবুক লাইভ, ওয়েবসাইটে ছবিটি দেখানো হচ্ছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ‘আয়নাবাজি’র পাইরেসি বন্ধে কাজ করছে পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ। সোমবার সন্ধ্যায় ডিএমপির ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দেশবাসীর কাছে এই আহ্বান জানানো হয়।

http://www.dainikamadershomoy.com/assets/gallery/0/11/12/12/15/15/15/16/17/18/19/20/22/23/25/27/29/30/31/01/02/03/5/6/10/12/19/20/555/21/24/26/28/29/30/01/4/5/7/13/16/22/22/DMP-Screen20161024192712.jpgপোস্টে ডিএমপি জানায়, ‘আয়নাবাজি’ বাংলাদেশের অন্যতম সফল একটি চলচ্চিত্র। ইতোমধ্যে এ চলচ্চিত্র বেশ সফলতার সাথে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। কিন্তু কিছু অসাধু মানুষ এই সিনেমা কপি করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে Live দিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের বিদ্যমান সাইবার আইন ও কপিরাইট আইনের পরিপন্থী। এ সংক্রান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ অভিযোগ পেয়েছে এবং রমনা থানায় সিনেমা কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ ইতোমধ্যে ফেসবুকে Live দেয়া কয়েকটি Profile শনাক্ত করেছে এবং যেসব Domain বা Website এ ওই সিনেমার কপি upload করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্র নিয়ে উপরোক্ত বিষয়ে (Facebook Live/Website Upload) কারো কোনো তথ্য জানা থাকলে- [email protected] এই ইমেইলে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।’