• আজ রবিবার। গ্রীষ্মকাল, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। বিকাল ৩:২০মিঃ

আ.লীগের সন্মেলন: সভাপতিমণ্ডলী ও যুগ্ম সম্পাদক পদে রদবদলের গুঞ্জন

১০:৪৩ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৫, ২০১৬ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে গত শনিবার ও রোববার। কাউন্সিল সভার অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় হলো কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর অধিকাংশই পূরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো রকম ক্ষোভ বা হতাশা দেখা যায়নি। এ দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে হাঙ্গামা-হুজ্জত নতুন কিছু নয়। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তার আছর পড়েনি। দল সরকারে থাকায় এবং দলের ওপর সভাপতি শেখ হাসিনার পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব থাকায় তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটিও উচ্চারিত হয়নি। দলের নেতৃত্বের জন্য এটা শ্লাঘার বিষয়।

a-lik-logu-1-1-1তবে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত ১৬ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী ও চার সদস্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে কিছুটা রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার দিনভর দলের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির অফিসে এমন ধরনের সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে বিদায়ী কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারা নিজেদের মধ্যে প্রকাশ্যে আলোচনাও করেছেন।

দলের নীতিনির্ধারক চারজন নেতা জাতীয় এক দৈনিককে জানিয়েছেন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপিকে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করার গুঞ্জন রয়েছে। তিনি নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটিতে তৃতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানককে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হলে দলে সিনিয়রিটি নিয়ে সমস্যা দেখা দেবে।

এ কারণে বর্তমানের প্রথম ও দ্বিতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি এবং ডা. দীপু মনি এমপিকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করার গুঞ্জনও রয়েছে। ১৯ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীতে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। তবে মাহবুবউল আলম হানিফ ও ডা. দীপু মনিকে যথাক্রমে তৃতীয় এবং চতুর্থ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করার সম্ভাবনাও আছে। সে ক্ষেত্রে চতুর্থ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এমপিকে দ্বিতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে। ছাত্র রাজনীতির সিনিয়রিটি দেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিদায়ী কার্যনির্বাহী সংসদে এটা অনুসরণ করা হয়নি।

এদিকে সভাপতিমণ্ডলীতে একজন নেতার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দলের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে। আলোচিত ওই নেতার বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে। তবে বিদায়ী কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি ও যশোর জেলার সিনিয়র সহসভাপতি পিযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্যকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করায় শুধু নেতাকর্মীই নন, রাজনীতিমনস্ক লোকজনও খুশি হয়েছেন। সেই সঙ্গে তারা সতীশ চন্দ্র রায় ও ড. নূহ-উল-আলম লেনিনকে কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, তার বিচার-বিশ্লেষণ করছেন।

কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, বিদায়ী কার্যনির্বাহী সংসদের সাত সাংগঠনিক সম্পাদকই একই পদে বহাল থাকতে পারেন। নতুন একটি সাংগঠনিক সম্পাদকের তালিকায় রয়েছেন একেএম এনামুল হক শামীম কিংবা এসএম কামাল হোসেন। এ ছাড়া বিদায়ী কার্যনির্বাহী সংসদে বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা কম। তবে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন। কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য পদে কয়েকটি নতুন মুখ আসতে পারে। তবে মন্ত্রীদের অনেকেই কার্যনির্বাহী সংসদে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

দলের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, আজকালের মধ্যে সম্পাদকমণ্ডলী এবং তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্যদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। জানা গেছে, ওবায়দুল কাদের আজ মঙ্গলবার সকালে গণভবনে গিয়ে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন। সেখানে নতুন কার্যনির্বাহী সংসদের তালিকা চূড়ান্ত হলে আজকেই তা ঘোষণা করা হবে। সেটা হলে নতুন নেতারা আজ বিকেলে বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শ নিয়ে নতুন কার্যনির্বাহী সংসদ গঠন করেন। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি আগামী বৃহস্পতিবার লন্ডন যাচ্ছেন। এ অবস্থায় আজকেই নতুন কার্যনির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কাউন্সিলরদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে গত সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হলেও অন্য পদগুলোতে নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এবারকার সম্মেলনে সভাপতিমণ্ডলীর ১৬ সদস্য ও চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ কোষাধ্যক্ষ নির্বাচন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে নেতাকর্মী বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা খুশি। এ সব পদে কাউন্সিলে নির্বাচন না হলে পরে কিছুটা হলেও দলের শীর্ষ পর্যায়ে মতপার্থক্য তৈরি হতো বলে নেতাকর্মীদের ধারণা। তবে আট সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো বলে অনেকেই মনে করছেন।