• আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৭:৪৭মিঃ

সিরাজগঞ্জে স্কুল বন্ধ রেখে গরুর হাট

২:৫৮ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৫, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

সিরাজুল ইসলাম শিশির, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: স্কুল বন্ধ রেখে গরুর হাট বসিয়ে ঐক্য গড়েছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার আওয়ামীলীগ ও জামায়াতের নেতারা। স্কুল বন্ধ রেখে প্রতি রবিবার উল্লাপাড়া উপজেলার পাগলা বোয়ালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাগলা বোয়ালিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও বোয়ালিয়া বাজার আলিম মাদ্রসার সামনের মাঠে নিয়মিত বসছে গরুর হাট। হাটের দিন নিয়ম বহিভূতভাবে স্কুল বন্ধ রেখে গরুর হাট বসিয়েছেন ইজারাদার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ।

hat

বিগত সময়ে এই গরুর হাট অন্যত্র বসলেও গত ২ বছর হলো নিয়মিত হাট বসছে স্কুল মাঠে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের এই হাটের তদারকি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। গরুর হাটের কারনে বছরে প্রায় ৫২ দিন স্কুল বন্ধ থাকছে। এই স্কুলের পাশে একটি মাদ্রাসা ও একটি উচ্চবিদ্যালয় রয়েছে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় সহ স্রাতাধিক শিক্ষার্থী। হাটের কারনে স্কুল-মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খারাপ ফলাফলের পাশাপাশি বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থী কমে আসছে। স্কুল মাঠে হাট বসার কারনে গরুর মল মুত্রে পুরো মাঠ সয়লাব হয়ে যায়। এ কারনে মানসিক ও শারীরিক উৎকর্ষের জন্য খেলাধুলা করতে পারছে না ওসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাগলা বোয়ালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাগলা বোয়ালিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় সামনের মাঠ দখল করে বসেছে বিশাল গরুর হাট। উত্তরাঞ্চলে বড় হাটের মধ্যে এটি একটি। দেশের দুর-দুরন্ত জেলা থেকে গরুর পাইকাররা এখানে আসেন গরু কিনতে। ঢাকা-নগবাড়ি মহাসড়কের উল্লাপাড়া উপজেলার পাগলাবোলিয়া স্কুল মাঠের গরুর হাটের ইজারাদার উপজেলার বড়হর ইউনিয়ন জামায়াত নেতা আব্দুস সোবহান ফকির।

হাটের ইাজারার দরপত্রে হাটের স্থান উল্লেখ করা হয়েছে পাগলা মৌজায়। অথচ হাট বসানো হচ্ছে স্কুল মাঠে বোয়ালিয়া মৌজায়। তার সাথে আর্থিক সহযোগিতা ও পার্টনার হিসেবে রয়েছেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা জহুরুল ইসলাম নান্নু এবং উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আতিকুল ইসলাম তোতা। আর তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন স্কুলের প্রদান শিক্ষক মিজানুর রহমান।

স্কুল মাঠ দখল করে প্রতি রবিবার স্কুল মাঠে হাট বসানো হয়। এ জন্য বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ দিন শিক্ষকরাও স্কুলে আসেন না। স্কুল গেটে লাগানো হয় তালা। স্থানীয় সচেতন মহল ও ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা স্কুল মাঠে হাট বসানো বিরোধীতা করলেও স্থানীয় সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের স্কুল মাঠ বন্ধ রেখে হাট বসানো হচ্ছে। এর মূল কারন হচ্ছে প্রভাবশালী এই মহল হাট থেকে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। হাটে গরু প্রতি ৩১০ টাকা ও ছাগল প্রতি ১শ টাকা করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতি হাটে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খাজনা আদায় হচ্ছে। স্কুল মাঠে হাট বসানোর কারনে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

স্কুল মাঠে হাট বসানো কারনে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি আর্থিক ভাবে লাভবান হলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতির পাশাপাশি বিনোদন সংকটেও পড়েছেন। হাট চলাকালে স্কুল মাঠের চারপাশে বাজার, চায়ের দোকান শুরু করে শত শত নসিমন রাখা হয়েছে। যাতায়াতের বিন্দু মাত্র জায়গা নেই। সকাল ৮টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটে বেচাকেনা হয়। এ অবস্থায় স্কুল খোলা রাখলেও তা ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন হুমকীর মুখে পড়বে। গরু ছাগলের আঘাতে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার সম্ভবান রয়েছে। এ জন্য স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা স্কুল মাঠে হাট বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।

সরেজমিনে স্কুল মাঠে গিয়ে দেখা গেছে হাটের কারনে স্কুল ও মাদ্রাসা বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা। এ ব্যাপারে পাগলা বোয়ালিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে ঘটনাস্থল থেকে ফোন করা হয়। জানতে চাওয়া হয় স্কুল বন্ধ কেন। তিনি বলেন হাটের কারনে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত স্কুল খোলা রাখা হয়। আমি সিরাজগঞ্জে আছি বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

হাটের সাবেক ইজারাদার হীরম্ভ সাহা জানান, হাটটি এখানে ছিলো না। আমি যখন ইজারাদার ছিলাম তখন হটটি অন্যত্র ছিলো। নতুর যারা হাটটি ইজারা নিয়েছেন তারাই সম্পূর্ন্য অবৈধ ভাবে স্কুল মাঠে হাট বসিয়েছেন। হাটতো পেরিফেরি ভুক্ত সরকারী হাট। ইজারার দরপত্রে হাট এখানে বসার কথা নয়। দরপত্রের উল্লেখিত স্থানেই হাট না বসিয়ে স্কুল মাঠে বসানো হয়েছে যা দুঃখজনক।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা জহুরুল ইসলাম নান্নু জানান, হাটের দিন স্কুল বন্ধ রাখা হয়না। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে আলোচনা করে হাটের দিন স্কুলে সকাল বেলায় ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি রেজুলেশন করে শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জিব কুমার সরকার সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, সাময়িক ভাবে হাটটি স্কুল মাঠে বসেছে। হাটের জন্য জমি ক্রয় করার চেষ্টা চলছে। জমিটি পেলেই স্কুল মাঠে হাট বসানো বন্ধ হবে। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।