• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দেশে দুই লাখ মানুষ ডাউন সিনড্রোমে ভুগছে !

১১:৫৯ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৫, ২০১৬ আপনার স্বাস্থ্য, আলোচিত, জানা-অজানা, দেশের খবর, সমস্যা ও সমাধান

সময়ের কণ্ঠস্বর, স্বাস্থ্য ডেস্কঃবিশ্বে প্রতি ৮শ শিশুর মধ্যে একজন ‘ডাউন সিনড্রোম’ শিশু জন্মগ্রহন করে থাকে। সে হিসেবে বাংলাদেশে ২ লাখ লোক ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত। এসব ব্যক্তিরা সমাজে অবহেলিত। অথচ ডাউন সিনড্রোম কোন রোগ নয়, বরং এটি শরীরের একটি জেনেটিক পার্থক্য (ভিন্নতার মাত্রা) এবং ক্রোমজমের একটি বিশেষ অবস্থা। ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তির দেহ কোষে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজম থাকে।

সাধারণত চাপা মুখ, চিবুক, ঘাড় ও চোখ ছোট হয় এই শিশুদের। অন্যদের তুলনায় এরা দেরিতে বসে, হামাগুড়ি দেয় ও হাঁটে। কথাও বলে দেরিতে। সব মিলিয়ে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা দেখা দেয়। অথচ অনেক অভিভাবক জানেন না, ডাউন সিনড্রোম সন্তানের সাথে কী ধরনের আচরণ করতে হবে, কীভাবে তাকে অন্যান্য সাধারণ মানুষের মত গড়ে তুলতে হয়। সঠিক মত, পুষ্টিকর খাবার, স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ এবং ফিজিক্যাল থেরাপির মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম শিশু স্বাভাবিক শিশুর মত পড়ালেখা করে স্বনির্ভর হতে পারে।

down-syndrom

ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটার-এর আর সি মজুমদার অডিটরিয়াম আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন দেন। আমদা বাংলাদেশ ডাউন সিনড্রোম প্যারেন্টস সার্পোট গ্র“প, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল (জেবিএফএইচ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. হাকিম আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ডা. জিয়া রহমান, আমদা ইন্টারন্যশনালের ডাউন সিনড্রোম অ্যাম্বাসেডর, জাপান থেকে আগত মিস কাজুকো তাকেতানী, ডাউন সিনড্রোম প্যারেন্টস সার্পোট গ্র“পের আহবায়ক এস. এ. রাজ্জাক, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটালের সিইও ডা. সামিউল হাসান প্রমূখ।

picture-1

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবি এবং ডাউন সিনড্রোম পিতা মাতাদের নিয়ে এই সেমিনারে উপস্থিত প্রতিনিধিবৃন্ধ ডাউন সিন্ড্রোম শিশু ও ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেমিনার শেষে ডাউন সিনড্রোম শিশু ও ব্যক্তিদের অংশগ্রহনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।