• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কাউখালীর চিরাপাড়া নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার : বাজারগুলোতে মাছের সয়লাব

১২:৩৪ অপরাহ্ন | বুধবার, অক্টোবর ২৬, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী প্রতিনিধি: পিরোজপুরের কাউখালীর চিরাপাড়া নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করছে একদল দুষ্কৃতকারী। গত সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে বিষ প্রয়োগ করে এরা প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। ওই দিন ভোরে লোকজন নদীর সর্বত্র মাছের মড়ক দেখতে পায়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার উৎসুক শত-শত নারী-পুরুষ বিভিন্ন প্রকার জাল, মশারি, গামছা নিয়ে মাছ ধরার জন্য নদীতে নেমে পড়ে।

mass

এভাবে মাছ শিকার করায় প্রকৃত জেলেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এবং পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে এভাবে মাছ নিধন বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গত দুই দিন সকালে চিরাপাড়া নদীর নৈকাঠী, বড় বিড়ালজুড়ি ছোট-বিড়ালজুড়ি, কাঠালিয়া এলাকায় মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখা গেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকার ফলে চিরাপাড়ানদীর কাঠালিয়া গ্রামের প্রান্ত থেকে ঝালকাঠী জেলার রাজাপুরের নৈকাঠী পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে চিংড়ি, টেংরা, বোয়াল, কই, শিং, পুঁটি, মলা, বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা হয়েছে। গত সোমবার ও মঙ্গলবার রাত ১২টার পর একদল দুষ্কৃতকারী এভাবে মাছ ধরে নিয়ে যায়। সকালে নদীতে কিছু মরা মাছ ভেসে উঠলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়।

অতিরিক্ত মুনাফার আশায় দুষ্কৃতকারীরা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় প্রায় ৭/৮ বছর ধরে কার্তিক মাসের শেষ অথবা অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিকে উপজেলার কচুয়াকাঠী, জোলাগাতী, নিলতী, গারতা, সোনাকুর খাল, চিরাপাড়া নদী বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

কাঠালিয়া গ্রামের চুন্নু বলেন, বছরের পর বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট সময় নদীতে বিষ দিয়ে এভাবে মাছ চুরি করায় এলাকাবাসীর আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। গতকাল রাতে দুষ্কৃতকারীরা প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মাছ ধরে নিয়ে গেছে।

কাউখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাফিজুর রহমান শাহীন জানান, দুষ্কৃতকারীরা এ কাজটি প্রতি বছর করে। এভাবে মাছ নিধনের কারণে মাছ শূন্য হবে চিরাপাড়া নদী। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, চিরাপাড়া নদীতে বিষ দিয়ে মাছ মারার কথা শুনেছি। বিষ দিলে মাছের সঙ্গে সব প্রজাতির জলজ প্রাণীই মারা যায়। এটা জীব বৈচিত্র্যের জন্য খুবই মারাত্মক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাবনী চাকমা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।