• আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্যাকবেঞ্চারদের ‘ডিজিটাল কোশ্চেন’ পেল জাতীয় পুরস্কার

১:৩০ অপরাহ্ন | বুধবার, অক্টোবর ২৬, ২০১৬ বিনোদন

বিনোদন প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- ‘শেখ রাসেল জাতীয় শিশুতোষ চলচিত্র উৎসব-২০১৬’ এ তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ব্যাকবেঞ্চারদের ছবি ‘ডিজিটাল কোশ্চেন’। এই উৎসবে বিচারকদের নীতিতে তৃতীয় হলেও দর্শক জরীপে এই ‘ডিজিটাল কোশ্চেন’ শর্টফিল্মটি ছিল প্রথম। ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ড এর এই শর্টফিল্ম এর কাহিনী ছিল একটা পথশিশুকে ঘিরে। পথশিশুটি তার হারানো বাবা মা কে ফেসবুকের মাধ্যমে খুঁজে দিতে আকুতি জানায় এক যুবকের কাছে।

14804948_1443567925672763_1332650046_nইতিপূর্বে স্বদেশী সল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব এ এই শর্টফিল্মটি ৪ টি ক্যাটাগরীতে সর্বোচ্চ পুরষ্কার পায়। পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে ব্যাকবেঞ্চার টিমের সাথে কথা বলে জানা গেল তাদের স্বপ্নের কথা। তাদের স্বপ্ন ছিল একটা ফিল্ম বানবে। কিন্তু কিভাবে ভাবে বানাবে তা তাদের জানা ছিল না। ছিলনা কোন ক্যামেরা, ছিলনা অভিনেতা। কি ভাবে করতে হয় শুটিং সেটাও জানা নেই। কিন্তু স্বপ্ন একটাই ফিল্ম তারা বানবেই। সব কিছু শুন্য নিয়েই তারা মাঠে নেমে পরে। অবাক করার মত হলেও সত্যি ৪মিনিট ২২ সেকেন্ড এর শর্ট ফিল্ম বানাতে তাদের সময় লেগেছে প্রায় ২ বছর।

ইতিমধ্যে তারা একটা গল্পও প্রস্তুত করে ফেলল। তাদের গল্পে একটা পথশিশুর চরিত্র আছে। সেই চরিত্রে তারা কোন সাধারণ শিশুকে দিয়ে অভিনয় করাবে না বলে মনস্থির করে। তাদের চাই পারফেকশন এজন্য তারা খুঁজতে থাকে পথশিশু। কিন্তু কোন পথশিশুই আবার ভালো অভিনয় করতে পারে না। তবুও তারা হাল ছাড়ে না। অবশেষে তারা সুমাইয়া কে খুঁজে পায়। পথ শিশুটার কয়েকটা ডায়ালগের জন্য তাকে শিখিয়ে শুটিং করতেই লেগে যায় ৫ দিন। পাশাপাশি আরেকজন অভিনেতা নাহিল কেও খুঁজে পেতে তাদের অনেক বেগ পেতে হয়। প্রথম অবস্থায় সে নতুনদের সাথে কাজ করতে রাজি হয় না। এরপর তারা খুঁজতে বেরুল ক্যামেরা আর চিত্রগ্রাহকের খোঁজে। সিনিয়র কোন চিত্রগ্রাহক নতুন বলে কাজ করতে রাজি হয় না। অবশেষে তাদের কাজের প্রতি এমন আগ্রহ দেখে ‘রঙ্গিন দুনিয়ার’ ফটোগ্রাফার রিয়াদ এগিয়ে আসে। এই শর্টফিল্ম এর মূল চরিত্রে অভিনয় করে নাহিল ও সুমাইয়া। সুমাইয়া একজন রাস্তার টোকাই অর্থাৎ সত্যিকারের পথশিশু। শ্যুটিং শেষে এডিট হল এখন মিউজিকের পালা। আর এর মিউজিক করেছেন সময়ের প্রতিশ্রিতিশীল সংগীতশিল্পী তানজীব সারোয়ার। এভাবেই একটা দীর্ঘ সফরের মধ্য দিয়ে ‘ডিজিটাল কোশ্চেন’ শেষ হল।

এই দীর্ঘ যাত্রার কথা বলল ব্যাকবেঞ্চার টিমের তরুন পরিচালক তানিম শাহরিয়ার। সবশেষে এটাও বলল এই ঘটনাটা বলার কোন দরকার ছিল না। বলার কারণ হল যারা আমাদের মত যারা স্বপ্ন দেখে তারা যেন উৎসাহ পায়। প্রতিটা কাজে সমস্যা আসবেই কিন্তু সেটার জন্য থেমে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলল তরুণ নির্মাতাদের।

ব্যাকবেঞ্চার টিমের অন্যতম সদস্যরা হচ্ছেন-তানিম শাহরিয়ার,সিজন আনাম, বাপ্পি, অর্ণব , আসাদুজ্জামান সুপ্ত, আনোয়ার হোসেন ও অন্যান্য। এদের সকলের স্বপ্ন একটাই; তারা একটি সিনেমা বানবে। আর সেই সিনেমা পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে। পৃথিবীর সেরা ফিল্ম এ্যাওয়ার্ড নিজের দেশের ঘরে আনবে।

‘ব্যাকবেঞ্চার ফিল্মস’ এর প্রযোজনায় ‘ইঁচড়েপাকা’-র ব্যানারে প্রকাশিত ডিজিটাল কোশ্চেন এর গল্প,চিত্রনাট্য ও পরিচালনয় ছিলেন তানিম শাহরিয়ার। ক্রিয়েটিভ হিসেবে ছিলেন সিজন আনাম। সহকারী পরিচালক হিসেবে ছিলেন বাপ্পী ও অর্ণব। চিত্রগ্রহণ করেন রিয়াদ আহমেদ। সম্পাদনা ও আনিমেশন করেন ফারিদুল ফারদিন। মিউজিক করেছেন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী তাঞ্জিব সারোয়ার।

শর্টফিল্ম ‘ডিজিটাল কোশ্চেন’ দেখুন নিচের লিঙ্কে-
https://www.youtube.com/watch?v=qRFGh4O23yo