সংবাদ শিরোনাম

খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট নিয়ে যা বললেন চিকিৎসক২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন কাদের মির্জাটাঙ্গাইলে ভন্ড পুরুষ কবিরাজ নারী সেজে যুবককে বিয়ে! অতঃপর…ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ঢাকা ভ্রমণ!শেরপুরের সেই শিশু রোকনের পরিবারের পাশে ইউএনও!কক্সবাজারে অস্ত্রসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতারকক্সবাজারে অনুপ্রবেশকারীর পক্ষ না নেয়ায়, আ’লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি!শাহজাদপুরে ট্যাংকলরি সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১রমজান মাসে আলেমদের হয়রানি মেনে নেয়া যায় না: নুরুল ইসলাম জিহাদীখালেদা জিয়াকে পাকিস্তান-জাপান দূতের চিঠি

  • আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাবাকে ‘আব্বু’ ডাকল খাদিজা, মাকে ডাকল ‘আন্টি’

৪:৪৯ অপরাহ্ন | বুধবার, অক্টোবর ২৬, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা বেগম মঙ্গলবার তার বাবাকে ‘আব্বু’ বলে ডেকেছেন। খাদিজার বাবা মাশুক মিয়া সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

_92090250_khadiza_1সৌদি আরবপ্রবাসী মাশুক মিয়া তাঁর একমাত্র মেয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে ৬ অক্টোবর দেশে ফেরেন। একই দিনে দেশে আসেন খাদিজার ভাই শাহীন আহমেদ। এখন খাদিজার পাশে আছেন তাঁর বাবা মাশুক মিয়া ও মা মনোয়ারা বেগম।

স্ত্রী নিয়ে মুমূর্ষু কন্যাকে দেখতে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন সিলেটের মাশুক মিয়া। হাসপাতালের ‘হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে’ চিকিৎসাধীন খাদিজার কাছে গিয়ে মি. মিয়া মেয়ের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘কিগো মা, চিনছো নাকি আমাকে’?

জবাবে খাদিজা বললেন, “হ্যাঁ চিনছি” মাশুক মিয়া ফের শুধান, “আমি কে বলো চাইন?” খাদিজার জবাব, “আব্বু”। খাদিজার মা-ও ছিলেন মি. মিয়ার সঙ্গে। কিন্তু তাকে চিনতে পারেননি খাদিজা। তাকে খাদিজা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন। অবশ্য এতে দুঃখিত নন খাদিজার মা কিংবা বাবা। তাদের মেয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন, এতেই স্বস্তি। মাকে ‘আন্টি’ ডাকায় হেসে ফেলেন মাশুক মিয়া।

মি. মিয়া বলেন, তার মেয়ে এখন কথাবার্তা বললেও সেগুলোর বেশীরভাগই অসংলগ্ন। “তার তো ব্রেইন ঠিক নেই। একসময় ভালো কয়, একসময় উল্টা কয়”।

এর আগে ডাক্তারদের কথাবার্তায় তো খাদিজা কবে কথা বলবে, কবে সবাইকে চিনবে, এমন কোন আশাই পাওয়া যায়নি। একসময় খাদিজার বাঁচবে সেই আশাই ছিল না ডাক্তারদের কণ্ঠে।

খাদিজা বেগমের চিকিৎসক স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের পরামর্শক রেজাউস সাত্তার বলেছেন, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর খাদিজার শরীরের ডান দিকে সাড়া ফিরলেও, বাঁ হাত-বাঁ পা নাড়তে পারছিলেন না। এই সপ্তাহের শুরু থেকে খাদিজা বাঁ পা সামান্য নাড়তে পারছেন। তবে বাঁ পা নাড়তে তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছে।

জানা গেছে, খাদিজা এখন হাসপাতালের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে আছেন। তার শরীর থেকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্রপাতি ও খাওয়ানোর জন্য যন্ত্রপাতি খুলে নেয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হওয়ায় হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট থেকে খাদিজাকে কেবিনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা।

১৭ অক্টোবর তার ডান হাতে অস্ত্রোপচার হয়। বাঁ হাতটি এখনও নাড়াতে পারছেন না। এই হাতে অনুভূতি ফিরে এলে আরও এক দফা অস্ত্রোপচার করা হবে।

উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের (ডিগ্রি) ছাত্রী খাদিজা বেগম পরীক্ষা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কোপায়। খাদিজার অপরাধ ছিল তিনি বদরুলের প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া দেননি।