• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আটঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

৫:৩৩ অপরাহ্ন | বুধবার, অক্টোবর ২৬, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মধ্যে অবস্থিত প্রায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক অনিয়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের অনিয়ম গুলোর মধ্যে প্রধান হল তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন কম আর থাকলেও ৯০ ভাগ শিক্ষক বাচ্চাদের ক্লাসে গিয়ে কোন পাঠদান করেন না।

ovijog

অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটঘরিয়া উপজেলায় ৭৮টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন ব্যাপক অনিয়ম, দূর্ণীতির মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। তাদের অনিয়মের বিষয়ে সহকারি শিক্ষকরা বিন্দু মাত্র প্রতিবাদ করার সাহস করেন না। কারন প্রধান শিক্ষকের অধস্তন থেকে তাদের চাকুরী করতে হয়। প্রধান শিক্ষকরা প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী সকালে বিদ্যালয়ে হাজিরা দিয়ে চলে যান গ্রাম/মফস্বল এলাকার চা-স্টলে কিংবা বাসা কাছে থাকলে ব্যক্তিগত কাজ করতে। অধিকাংশ সময় তারা অফিসের কাজের কথা বলে উপজেলা সদর কিংবা জেলা শহরেই বেশি সময় পার করেন। এক্ষেত্রে পড়াশুনা করানো বা ক্লাস আদায়ে সহকারি শিক্ষকদের উপড় চাপ প্রয়োগে সচেতন তারা। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রমের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন একজন প্রধান শিক্ষককে সর্বনিম্ন দুইটি ক্লাস নেয়ার কথা রয়েছে। আটঘরিয়া প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মোট তিনটি ক্লাস্টারে বিভক্ত। এই তিন ক্লাস্টারের মধ্যে দেবোত্তর ক্লাস্টারের অধিনেই বেশি প্রধান শিক্ষকরা এই সকল অনিয়মে জড়িত।

আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক প্রতিনিধি প্রধান শিক্ষক এই সকল অনিয়ম বেশি করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও প্রধান শিক্ষকরা সহকারি শিক্ষকদের সাথে প্রায় সময়ই বৈসম্য মুলক আচরন করে চলেছেন। বিদ্যালয়ে শিশুদের ক্লাস না নিয়েও অধিকাংশ সময় তারা টাকার লোভে বিষয় ভিত্তিক ট্রেনিং এ অংশ গ্রহন করেন। এই বিষয় ভিত্তিক ট্রেনিং শুধু সহকারি শিক্ষকদেরই প্রাপ্য। এক্ষেত্রেও প্রধান শিক্ষকরা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ক্লাস না নিয়েও সকল বিষয়ে উপজেলা অফিসে টাকার লোভে ট্রেনিং করে চলেছেন।

এ সকল বিষয়ে আটঘরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইসরাইল হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, সুনির্দিষ্ট স্কুলের কোনো প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যদি আমরা লিখিত অভিযোগ পাই তাহলে নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুই একজন খারাপতো থাকবেই। আর স্ব স্ব ক্লাস্টারের অফিসারদের আমরা বলে দেবো যাতে তারা বিষয়টি নজরদারিতে রাখেন। একই সাথে স্কুলগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।