• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সন্ধ্যা ৬:২৯মিঃ

কালিয়াকৈরে মুন্নির মৃত্যু-আরাফাতের আত্মহত্যা নেপথ্যে প্রেম

৬:৩৫ অপরাহ্ন | বুধবার, অক্টোবর ২৬, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

আলমগীর হোসেন, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্কুল ছাত্রী মুন্নি আক্তার (১৩) কে হত্যায় অভিযুক্ত আরাফাত সরকার গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

atohotta

আজ বুধবার সকালে উপজেলার রতনপুর এলাকায় তার ফুফু বানেছা বেগমের বাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যা করে সে। নিহত আরাফাত সরকার উপজেলার চাপাইর এলাকার আতাউর সরকারের ছেলে। নিহত আরাফাত গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর এলাকার আতাউর সরকারের ছেলে এবং চাপাইর বিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

নিহতের ফুফাতো ভাই সোহেল রানা জানায়, মঙ্গলবার রাতে আরাফাত তাদের বাড়িতে আসে। পরে রাতে সে এখানেই ছিল। সকালে আমি বাড়িতে ছিলাম না। মা আর আরাফাত বাড়িতে ছিল। মা রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে সে। পরে আরাফাতের বাড়ির লোকজনকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন রতনপুর তার ফুফুর বাড়ি থেকে আরাফাতের মৃতদেহ তাদের নিজ বাড়ি চাপাইরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে।

এলাকাবাসি জানায়, মুন্নির মৃত্যুর পর আরাফাত এলাকা থেকে পালিয়ে উপজেলার রতনপুরে তার ফুফুর বাড়িতে চলে যায়। পরে রাতে ওই বাড়িতেই অবস্থান করে আরাফাত। সকালে ঘুম থেকে উঠে সে হাত-মুখ ধুয়ে নেয়। এদিকে তার ফুফু বানেছা বেগম রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকায় আরাফাত ঘরের ভেতর ঢুকে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে তার বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশ নামিয়ে তাদের নিজ বাড়ি চাপাইরে নিয়ে যায়।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে আরাফাতের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, নিহত আরাফাত সরকার ও মুন্নি আক্তার উপজেলার চাপাইর বি বি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। আরাফাত নবম শ্রেণিতে এবং মুন্নি অষ্টম শ্রেণিতে। একই স্কুলে পড়াশোনার খাতিরে তাদের মধ্যে প্রেমের সখ্যতা গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে সেই সখ্যতা গভীর প্রেমের সম্পর্কে রুপ নেয়। কিন্তু বিষয়টি উভয় পরিবারের লোকজন জেনে গিয়েছিল। এনিয়ে একাধিকবার উভয় পরিবারের মধ্যে ঘরোয়া ভাবে বসা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তাদের সম্পর্ক থেমে থাকেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরাফাতের এক আত্মীয় জানান, মঙ্গলবার রাতে আরাফাত মুন্নির সাথে দেখা করতে যায়। দেখা করে আসার সময় মুন্নির মা তাকে ধরে ফেলে এবং বাড়ির অন্যান্য সদস্যদেরকে ডেকে এনে তাকে মারপিট করে ছেড়ে দেয়। পরে এ ঘটনা সহ্য করতে না পেরে ওই দিন সকালেই মুন্নি গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে। মুন্নি আত্মহত্যা করার খবর পেয়ে আরাফাত এলাকা থেকে পালিয়ে তার ফুফুর বাড়ি রতনপুরে চলে যায়। ধারণা করা হচ্ছে মুন্নির মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করতে পারে।

এদিকে, আরাফাতের কক্ষ থেকে মুন্নি ও আরাফাতের ছবি পাওয়া গেছে। ছবিতে আরাফাত পেছন থেকে মুন্নিকে জড়িয়ে ধরে আছে। সেই সাথে মুন্নিও হাস্বোজ্জলভাবে আরাফাতের হাত ধরে আছে। এছাড়া ওই ঘরে মুন্নির দেয়া বিভিন্ন উপহার সামগ্রীও দেখা গেছে। উপহার সামগ্রীর মধ্যে কার্ড ও পুতুলের শো পিচ রয়েছে। মঙ্গলবার মুন্নির মৃত্যু এবং পরের দিন আরাফাতের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তাদের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে, মঙ্গলবার মুন্নি মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছিল, স্কুলে যাওয়া আসার পথে মুন্নিকে আরাফাত বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত করতো। তাকে প্রেম প্রস্তাব দিত। প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণে মুন্নিকে তার ঘরে ঢুকে হত্যা করে আরাফাত পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে, আরাফাতকে সকালে মুন্নির বাবা ও ভাই আটক করে মারধর করে। লোক লজ্জার ভয়ে সে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন আরাফাতের বাবা আতাউর সরকার।

মঙ্গলবার স্কুল ছাত্রী মুন্নির মৃত্যু এবং আজ বুধবার সকালে আরাফাতের আত্মহত্যার ঘটনায় গাজীপুরের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুস সবুর ও কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মোতালেব মিয়া উভয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কালিয়াকৈর ওসি (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামে মুন্নি মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে আরাফাত সরকারকে অভিযুক্ত করে থানায় মঙ্গলবার রাতে মামলা করেন। মামলা নং ৩৪। সকালে জানতে পারি মামলায় অভিযুক্ত আরাফাত তার ফুফুর বাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।