• আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৬:১৮মিঃ

মাদারীপুরে চাঞ্চল্যকর দুই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের পর হত্যা মামলার আরও একজন গ্রেফতার

৫:০০ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৭, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

মেহেদী হাসান সোহাগ, মাদারীপুর প্রতিনিধি- মাদারীপুরের মস্তফাপুরে চাঞ্চল্যকর দুই স্কুলছাত্রী হ্যাপী ও সুমাইয়া ধর্ষণ শেষে হত্যা মামলায় বৃস্থপতিবার দুপুরে সজিব হাওলাদার (২২) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে মাদারীপুর সি আই ডি পুলিশ।

hand-cuff20151228100828

আসামি সজিব হাওলাদার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বড়মেহের গ্রামের মওলা হাওলাদরে ছোট ছেলে। সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল।

সুমাইয়ার বাবা বেল্লাল সিকদার জানান, আসামী গ্রেফতার হওয়ায় মন থেকে একুট শান্তি পাচ্ছি, আমি এসব আসামীদের দ্রুত বিচার দাবী করছি। হ্যাপির মা মুক্তা বেগম জানান, আমি সকল আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার খুব দ্রুত চাই। এক বছরের বেশী হয়ে গেল এখনো চার্জসীট দেয়া হয়নী।

মাদারীপুর জেলার সিআইডি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সজিবের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পূর্বের গ্রেফতারকৃত আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে সজীবকে আটকের পর গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদেরও ধরার অভিযান অব্যাহত আছে। এই দুই স্কুলছাত্রী হত্যার মামলাটি সিআইডি’র পক্ষ থেকে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট দুপুরে সদর উপজেলার মস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার (১৪) ও তার সহপাঠী হ্যাপি আক্তার (১৪) নিখোঁজ হয়। বিকেলে অচেতন অবস্থায় চার যুবক ওই দুই ছাত্রীকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। ওই দুই মেয়ের পরিবার লোকমুখে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের লাশ শনাক্ত করে।

পুলিশ সেদিনই হাসপাতাল এলাকা থেকে শিপন শিকদার ও রফিক শিকদার নামের দুই যুবককে আটক করে। পরে দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর রাকিব শিকদার, রফিকুল খাঁ ও রানা শিকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পরের দিন ১৪ আগস্ট নিহত সুমাইয়ার বাবা বিল্লাল শিকদার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ১৩ সেপ্টেম্বর হ্যাপীর মা মুক্তা বেগম মাদারীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যাল আদালতে রানা শিকদারকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষণ শেষে বিষ খাইয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রানাসহ রকিব, শিপন ও রফিকুল জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। বাকি আসামিরা এখনো পলাতক আছে। এবং এই ঘটনায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিহতদের পরিবারের সন্তোষজনক না হওয়ায় হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসাইনের দ্বৈত বেঞ্চ লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলা দুটি সিআইডির হাতে তদন্তধীন থাকলেও দীর্ঘ সাড়ে ১৪ মাসেও চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়নি।