• আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘ধর্ষক সাইফুল নির্যাতন করতো নিজের মেয়েকেও, শ্বাশুড়ির সাথে ছিল অনৈতিক সম্পর্ক’

৭:১৩ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৭, ২০১৬ অপরাধ, আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পাঁচ বছরের শিশু পূজার ধর্ষক নরপিশাচ সাইফুল ইসলাম ওরফে কালা সাইফুলকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর সিনিয়র জুটিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রিট আদালতে ধর্ষক সাইফুলকে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক কৃষ্ণ কমল ৭ দিনের রিমান্ডেই মঞ্জুর করেন।

1477495754902 সাইফুলের সাবেক শ্বশুর ও আপন চাচা সহির উদ্দিন জানান, বিকৃত মন ও মানসিকতার মানুষ সাইফুল। তিন কন্যা ও এক পুত্রের জনক সে। স্ত্রী নার্গিসকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করতো। বিয়ে দেবার পরও বড় মেয়ে রেশমাকে (১৮) মারধর ও নির্যাতন করতো সাইফুল।

বড় মেয়ের শ্বাশুড়ির সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে তার মেয়ে নারগিস সাইফুলকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় মেয়ে সুজাতা (১৩) ও তৃতীয় মেয়ে সালমাকে (১১) নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। তাদের একমাত্র ছেলে নাজমুলকে (৫) অন্যের বাড়িতে রাখা হয়েছে।

ধর্ষক সাইফুলের বড় ভাই সাইদুল ইসলাম (৫৫) ও ছোট ভাই সাফিউল ইসলাম (৩৫) বলেছেন, সাইফুল ইসলাম তাদের আপন ভ্রাতা হলেও মাদসাকক্ত ও দুশ্চরিত্র হওয়ার কারণে তার সাথে কোনপ্রকার সম্পর্ক রাখেননি তারা।

পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের জমিরহাট এলাকার তকেয়াপাড়া গ্রামের মেয়ে (৫) গত মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বাড়ীর বাইরে খেলতে গেলে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে রাত ১১ টার দিকে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তাঁর পিতা।

গত বুধবার ভোর ৬টায় শিশুটিকে বাড়ীর পার্শবর্তী হলুদের ক্ষেত থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে তার স্বজনরা। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে শিশুর পিতা সুবল চন্দ্র দাস বাদী হয়ে একই গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী জহির উদ্দিনের পুত্র সাইফুল ইসলাম (৪২) ও আফজাল হোনের পুত্র কবিরাজকে (৪৮) আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি সাইফুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অপর আসামি পলাতক রয়েছে।

ভিকটিম শিশুর দাদা বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকার মসজিদ থেকে মাইকিং করা হয়। মাইকিং করার পর সাইফুল শিশুর বাবাকে মাইকিং করতে নিষেধ করেন এবং মেয়েকে পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। পরে ভোররাতে মেয়েকে হলুদ ক্ষেত থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে বাধা প্রদান করে এবং শিগগির সুস্থ হয়ে উঠবে বলে জানালে তাদের সন্দেহ হয়।

পরে শিশুর কিছুটা জ্ঞান ফিরে এলে সে কালা সাইফুলের নাম উল্লেখ করে। ভিকটিমের মাসীমা আহাজারি করে বলেন, আমার নিজের কোনও সন্তান নাই। আমি আমার বোন রূপসির একমাত্র মেয়েকে নিজের মেয়ের মতোই স্নেহ করি। বুলবুলিও পাষণ্ড সাইফুলের ফাঁসি দাবি করেছেন।