• আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৬:৪৪মিঃ

যে দেশের মাঠে মাঠে হীরা কিন্তু ঘরে ঘরে এইডস!

৩:০৯ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ২৮, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

news_picture_38138_botswana1


সময়ের কণ্ঠস্বরঃ

বৎসোয়ানা একটি দেশের নাম। যে দেশের অর্থনীতির এক তৃতীয়াংশ আসে হীরা থেকে। দেশটিতে আছে বিশাল হীরার মজুদ। তবে হীরার ঝিলমিল আলোর নিচেই আছে এইডসের অভিশাপ। দেশটিতে এইডস রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে। দেশটির প্রতি পাঁচজনে একজন এই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। তবে বিশাল মরুঅঞ্চল ও প্রাণির অভয়ারণ্য নিয়ে দেশটির পর্যটন খাতও বাড়ছে খুব দ্রুত। এসব নিয়েই একদিন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বপ্ন দেখে বটস্বানা।

দেশটির পরিচিতিঃ
বৎসোয়ানা একটি আফ্রিকান স্বাধীন দেশ। দেশটি স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ থেকেও আগে। যুক্তরাজ্য কাছ থেকে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে ১৯৬৬ সালে। প্রায় দুই লাখ ২৫ হাজার বর্গমাইলের এই দেশটি আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর ৪৮তম দেশ। ভূখ-ের মাত্র মাত্র ২.৬ শতাংশ পানি থাকার কারণে দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলই ধুধু মরুভুমি। দেশটি আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে জিম্বাবুয়ের পাশে অবস্থিত। স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দিতে বৎসোয়ানা আফ্রিকার সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ২২ লাখের মতো।

হীরাঃ
বৎসোয়ানার সর্বত্র মূল্যবান হীরা পাওয়া যায় বলে কথিত থাকলেও দেশটি বিষয়টি অস্বীকার করে। তারা নির্ধারিত যায়গা থেকেই হীরা উত্তোলন করে। পপি মরিয়ানা পৃথিবী সর্ববৃহৎ রাফ ডায়মন্ডের (যে হীরা এখনও কাটা হয়নি) মান পরীক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। অনেক কষ্টের কাজ হলেও বিগত ২৪ বছর ধরে তিনি এই কাজই করছেন। তিনি বলেন, এটা জেনে ভাল লাগে যে আমরাই আমাদের দেশের অর্থনীতির খেয়াল রাখছি। আমার জীবনও পরিবর্তন হয়েছে এই হীরার দ্বারাই। আমার তিন সন্তানকে লেখাপড়া করাচ্ছি এটার আয় দিয়েই।

তবে হীরা চিরস্থায়ী হবে না। বটস্বানার হীরার মজুদ কমে আসছে। কেউ কেউ অনুমান করছেন দেশটির হীরার মজুদ শেষ হলে অর্থনীতিতে অনেক বড় বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সহাবস্থানঃ
হীরক রত্ন না থাকলেও দেশটির আছে চিরস্থায়ী হীরা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এই রত্নের সঠিক যত্ন করলে কখনও শেষ হওয়ার নয়। বৎসোয়ানা প্রাকৃতিক সৈন্দর্য, বন্য প্রাণি ও সাফারি এতই মোহনীয় যে ২০১৬ সালে সেটি শীর্ষস্থানীয় পর্যটন দেশের তালিকায় যায়গা করে নিয়েছে।

ডেভিড সেকুদুবে একজন বন্য প্রাণি সংরক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, আমি প্রাণিদের সত্যিই ভালোবাসি। ১৯৯২ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়স থেকে এই কাজই করছি। তিনি তার সন্তানদেরকেও এই কাজই শেখাবেন বলেও জানিয়েছেন।

ডেভিড মকোলদি বন্য প্রাণি সংরক্ষণ কেন্দ্রে কাজ করেন। তিন হাজার ৭০০ হেক্টরের ওপর অবস্থিত এই সংরক্ষণ কেন্দ্রটিই তার জীবনের বড় অংশ জুড়ে আছে।

এইডসঃ
দশকের পর দশক ধরে দেশটিতে এইডস সমস্যা মহামারি আকার ধারন করেছে। দেশটির ২০ শতাংশ মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত। ১৫-৪৯ বছরের জনগোষ্ঠির প্রায় ২৫ শতাংশ তরুণ, যুবক এইডসে আক্রান্ত বলে গবেষণায় জানা গেছে। রোগ ব্যাধিতে জর্জরিত এই দেশটিতে গড় আয়ু কমেই যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০১২ সালের হিসাব মোতাবেক দেশটির গড় আয়ু মাত্র ৪৭ বছর! বাংলাদেশের যেভাবে ৭০ বছর বা তারচেয়েও বেশি।

পেট্রিসিয়া মকুতে, যিনি দশ বছর ধরে এইডস কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করছেন। তিনি এই সমস্যার জন্য দেশটির বিশ্বাসকে দায়ী করেছেন। খ্রীষ্টধর্মপ্রধান এই দেশটিতে এখনও সেক্সকে একটি ট্যাবু হিসেবে দেখা হয়। এবং মানুষ এই বিষয়ে কথা বলতে চায় না।

তবে মকুতে আশাবাদী। তিনি বলেন, এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে কমছে। আমরা আশাবাদী আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। নিজেকে নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন যে তিনি অনেক জীবন পরিবর্তন করেছেন।

তারুণ্যই শক্তিঃ
দেশটির অর্থনৈতিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে তারুণ্য। মলেফি নেকওয়াতে, যিনি তার ‘আরবান সোল’ নামক ফ্যাশন হাউসের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। তবে শুধু টাকার পেছনেই ছুটছেন না তিনি। টি-শার্টের ডিজাইনের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও সচেতনা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছেন।

তবে তিনি জানান, বটস্বানার বেশিরভাগ ব্যবসাই বিদেশের অর্থায়নে তৈরি। তিনি দেখতে চান দেশের মালিকানায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক।