• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৮:৫৫মিঃ

কাটেনি বিপদশংকা ! শরীরে যে কারো স্পর্শ পেলেই বিস্ময় আর আতংক চোখে কেপে উঠছে পুজার নিথর দেহ !

২:১০ অপরাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ২৮, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর ফিচার ডেস্ক  –

এখনও কাটেনি বিপদশংকা ! প্রচন্ড দুর্বল শরীরে প্রায় অবচেতন থাকলেও  সামান্য শব্দ অথবা যে কারো  স্পর্শ পেলেই আতংকে কেপে কেপে উঠছে পুজার ছোট্ট  ক্ষত-বিক্ষত দেহ।

একটু দুষ্টুমি করলে মা-বাবা একটু আধটু বকে দিতো, আর তার চেয়ে একটুখানি বেশি দুষ্টুমির জন্য না হয়,  একটু বেশিই বকা খেতো সে। সেদিন কি তাহলে অনেক বড় কোন দুষ্টুমি করেছিলো যে, ভয়ানক শাস্তি পাচ্ছে সে ?  ভয়ার্ত চোখে যন্ত্রনায় বিগ্ধ শিশুটি হয়তো এমন করেই ভেবেছিলো আর প্রতিমুহুর্তে চিৎকার করেই বাঁচতে চেয়েছিলো ।

ফুটফুটে আদুরে মুখের শিশুটি ভয়ানক কায়দায় ধর্ষিত হয়েছে ! অথচ  ধর্ষণ কী ? এই বয়সে পুজার  তো জানার কথা  নয় ।  বোঝার কথাও নয়, ভয়াবহ রকমের বিকৃত লালসার শিকার হয়েছে হুবুহু মানুষের মতই দেখতে দুই নরপশুর কাছে!

নিষ্পাপ শিশুটি জানেইনা আসলে কী হয়েছে তার সাথে ?  হুট করেই পরিচিত ঐ মুখটা কেন তাকে নির্মম কায়দায় ক্ষত-বিক্ষত করে দিলো ? পুজার কান্না, চিতকার সব উপেক্ষা করে ওরা কেন ওমন করে তাকে ভয়ানক শাস্তি দিলো ? হয়তো প্রচন্ড যন্ত্রনাবিদ্ধ অবোধ শিশুটি বিস্ময় চোখে এখনও খুজছে,’ কোন ভয়ানক দুষ্টুমি কি করেছিলো সে ?

ধর্ষণ ও নির্মম পাশবিক নির্যাতনের শিকার দিনাজপুরের শিশু পূজার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো শঙ্কা কাটেনি। কারণ শিশুটির ক্ষত-বিক্ষত প্রজনন অঙ্গের সংক্রমণ রক্তের মাধ্যমে তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ার (সেপটিসিমিয়া)আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভীষণ আঘাত পেয়েছে শিশুটি। নিষ্পাপ শিশুটির ক্রমাগত আর্তনাদে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ বিরাজ করছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুটি শারীরিকভাবে খুব দুর্বল হওয়ায় তাকে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়েছে। শিশুটির ক্ষত হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে, পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনও এক-দুই মাস সময় লাগবে।
চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, শিশুটির প্রজনন অঙ্গে দেখা দেয়া সংক্রমণ রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে (সেপটিসিমিয়া) পড়তে পারে। তাকে পুষ্টিকর খাবার দেয়া হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। গঠন করা হয়েছে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির জন্য গঠিত নয় সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল দলের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যবস্থাপত্রের সুপারিশ করেছেন। সেটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) এক সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ায় জেনারেল মো. মিজানুর রহমান জানান, শিশুটিকে উচ্চমাত্রায় এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়েছে। শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায় শিশুটির হাই-প্রোটিন ডায়েট চলছে। শিশুটির গায়ে হাত দিলে আঁৎকে উঠছে। এখনও আতংক কাটেনি তার।

stop-child-rape

শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হতে এক-দুই মাস সময় লাগবে। এরপরই বোঝা যাবে তার অপারেশন লাগবে কি না। তবে ক্ষত হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। তার চিকিৎসার পুরো খরচ হাসপাতাল কতৃপক্ষ বহন করবে বলেও জানান মিজানুর রহমান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী ডা. বিলকিস বেগম জানান, হাসপাতালে আনার সঙ্গে সঙ্গেই তার চিকিৎসা শুরু করা হয়। শিশুটির গলা থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারালো কিছু দিয়ে কাটা হয়েছে যৌনাঙ্গ। দেখে মনে হয়, ব্লেড দিয়ে কাটা হয়েছে। পায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকার চিহ্ন আছে। শিশুটির যৌনাঙ্গে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে বলেও জানান বিলকিস বেগম।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা শিশুটির আঘাতগুলো পরীক্ষা করেছেন বলে জানান ওসিসির সমন্বয়কারী। তিনি জানান, আজ সকালে বোর্ডের সব সদস্য শিশুটিকে দেখে একযোগে তার চিকিৎসা শুরু করেছেন। সে ভালো নেই। সে এখনো ভয়ে কাঁদে। কেউ কথা বলতে গেলেও কাঁদছে। তবে অল্প পরিমাণে হলেও খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক আছে।

এদিন  শিশুটিকে দেখতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। সাংবাদিকদের তিনি জানান, শুরু থেকেই শিশুটির খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার সব খরচ সরকার বহন করছে বলেও জানান তিনি।

পার্বতীপুরে ধর্ষণের শিকার পাঁচ বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের ছয় দিন পর গত মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ১৮ অক্টোবর পার্বতীপুর উপজেলার জমিরহাট এলাকার তকেয়াপাড়া গ্রামের শিশুটি নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে শিশুটিকে না পেয়ে সেদিনই রাত ১১টার দিকে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। পরদিন ভোর ৬টায় শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি হলুদক্ষেত থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পরই তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা জানান, ধর্ষণের শিকার হয়েছে শিশুটি।

puja

এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৪২) ও আফজাল হোসেন কবিরাজকে (৪৮) আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। পরে আসামি সাইফুল ইসলামকে দিনাজপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।