• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। দুপুর ২:৫৪মিঃ

শিক্ষামন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সত্যতা নেই: ঢাবি উপাচার্য

⏱ | শুক্রবার, অক্টোবর ২৮, ২০১৬ 📁 Breaking News, ফিচার, শিক্ষাঙ্গন, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন করা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আ. আ. ম. স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সত্যতা নেই। তিনি কার কাছে বা কোন শিক্ষকের কাছে এমন অসত্য তথ্য পেয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা পরিদর্শনে এসে উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক এ কথা বলেন।

বুধবার সচিবালয়ে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার প্রস্তুতি সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী বাছাইয়ে ফুটপাত থেকে অখ্যাত লেখকদের বই কিনে তা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হয়।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, আমরা একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা অর্জনের যোগ্যতা যাচাই করি। আমরা যে প্রশ্ন করি তা টেক্সবুক থেকে করা হয়। কোনো গাইড বইয়ের সঙ্গে যদি তা মিলে যায় তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ঢাবির ভর্তিপ্রশ্ন নিয়ে যে কথা বলেছেন তার কোনো সত্যতা নেই। তিনি আমাদের কাছে স্পষ্ট করেননি যে ঢাবির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য কোন শিক্ষক তাকে এই অসত্য তথ্য দিয়েছেন।

nahid-dhabi-upacarjo

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয় একটি কারিকুলামের মধ্য দিয়ে। ইন্টারমিডিয়েট পাশ একজন শিক্ষার্থী উত্তর দিতে পারে, এমন প্রশ্নই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় করা হয়। এখানে কাউকে পাশ-ফেল করানো আসল কথা নয়। আসল কথা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে এক ধরনের ছাঁকনি। ছাঁকনি দিয়ে প্রকৃত মেধাবীকে নেওয়া হয়। এ কারণে ছাঁকনিতে একটি বিশাল অংশ ঝড়ে পড়ে যায়। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় দায়ী নয়।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো কথা বলার আগে অবশ্যই যে কাউকে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বক্তব্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই সবাইকে উদার মানসিকতার পরিচয় দিতে হবে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আমাদের বছরে আসন খালি থাকে ৬ থেকে ৭ হাজার। সেখানে ভর্তি পরীক্ষা দেয় ৩ লাখের ওপর। আমরা চাইলেও সবাইকে নিতে পারি না। তাই অটোমেটিক একটি বিশাল অংশ বাদ পড়ে যায়। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়ী করার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রণয়ন কমিটি। এটি একটি কারিকুলামের মধ্য দিয়ে করা হয়। যা এ পর্যন্ত বিতর্কের ঊর্ধ্বে। কোনো শিক্ষার্থী নিচের লেভেলে যদি গ্রামার, সাহিত্য, মেইন বই, বর্তমান বিশ্বে কোথায় কী হচ্ছে, এসবের ওপর গুরুত্ব দেয়, তাহলে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করাটা খুব একটা কঠিন নয়।’

এর আগে ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা ইংরেজিতে ভয়াবহ খারাপ ফল করার পর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাদান ও পাবলিক পরীক্ষার মান তথা শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

শিক্ষামন্ত্রী তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ত্রুটি নিয়ে কথা বলার পর কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করারও দাবী করেন শিক্ষক সমিতি।