সংবাদ শিরোনাম

মহাসড়ক যানশূন্য, শিমুলিয়ায় ফেরি পারাপার বন্ধ‘তালা ভেঙ্গে মসজিদে তারাবি পড়ার চেষ্টা্’‌, পুলিশের বাধায় সংঘর্ষে মুসল্লিরা‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’; তিনটি মুরগি চুরির দায়ে দেড়লাখ টাকার জরিমানা চার তরুণের!কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদী শুকিয়ে গেছে, হুমকীতে জীব-বৈচিত্রহেফাজতের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তারমধুখালীতে বান্ধবীর সহায়তায় অচেতন করে দফায় দফায় ধর্ষণের শিকার নারী!বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে চায়ের স্টলে ইতালি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যাগোবিন্দগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দূঘর্টনায় স্কুল শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহতময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা গেলো ৩ শিশুমুহুর্তেই ভয়াবহ আগুন! স্কুলেই পুড়ে মরলো ২০ শিশু শিক্ষার্থী!

  • আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

এক একটি আত্মহত্যা ও আমাদের জন্য সতর্কবার্তা!

৭:১০ অপরাহ্ন | শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৬ অকালমৃত্যু প্রতিদিন, প্রজন্মের ভাবনা, লাইফস্টাইল, স্পট লাইট

আত্মহত্যা

নিশীতা মিতু, ফিচার এডিটর, সময়ের কণ্ঠস্বর। লেখাটা কয়েক মাস আগে লেখা। সাবিরাকে নিয়ে লেখা কিন্তু প্রকাশ করা হয়নি। আজ আদিবার মৃত্যুর পর মনে হচ্ছে এবার প্রকাশ না করলেই নয়!

তরুণী মডেল সাবিরা হোসাইনের আকস্মিক মৃত্যুর খবর এবং মৃত্যুর আগে ফেসবুকে পোষ্ট করা ভিডিও নিয়ে আলোচনা, সমালোচনার ঝড় উঠেছে অনলাইন অফলাইন সবখানেই। রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরের একটি বাসা থেকে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। ওই বাসায় সাবিরা একাই থাকতেন। আত্মহত্যা করার আগে এই তরুণী ফেসবুকে পোষ্ট এবং ভিডিওয়ের মাধ্যমে জানায় যে তার মৃত্যুর জন্য তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক নির্ঝর দায়ী।

একজন সাবিরার আত্মহত্যা কিন্তু মূলত আমাদের পুরো সমাজের জন্য একটি বড় ধরণের সতর্কবার্তা। আজকাল শারীরিক সম্পর্ক যেমন সহজ বিষয় হয়ে গেছে তেমনি আত্মহত্যার বিষয়টিও সহজ হয়ে গেছে।

ফেসবুক বা অনলাইনের রঙিন জগতে খুব সহজেই মোহতে জড়িয়ে পড়ছে বর্তমান সময়ের তরুণ তরুণীরা। ভালোবাসা কি এতটাই সোজা? একজন মানুষকে ঠিকমত জানার পর, চেনার পর ধীরে ধীরে একটি সম্পর্কের জন্ম হয়। কিন্তু আজকাল যেন সব বিষয়ে আমাদের বড্ড বেশী তাড়াহুড়া। তাই ভুল সম্পর্কে অহরহ জড়িয়ে পড়ছি আমরা।

এরপর আসা যাক শারীরিক সম্পর্কের কথায়। ভালোবাসা একটি মানসিক ব্যাপার। দুজন মানুষের মনের মিল হবার ব্যাপার। কিন্তু বর্তমানে যেন মন থেকে দেহটাই বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রেমিক প্রেমিকার কাছে। ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে প্রেমিক দাবী করে প্রেমিকার দেহ আর সেই প্রমাণ দিতে নিজেকে সপে দেয় প্রেমিকা। সাময়িক কিছু উষ্ণ মুহূর্ত কাটানোর আগে কি আমাদের ভাবা উচিত নয় যে ভবিষ্যতে এর ফল কি হতে পারে? যদি আপনার পরিণয়ের পরিনতি নিয়ে আপনি সুনিশ্চিতই না হন তবে কেন শারীরিক সম্পর্কে জড়াচ্ছেন? সমাজ কখনো সামাজিক সম্পর্ক ব্যাতীত কোন শারীরিক সম্পর্ককে সমর্থন করেনা। তবে কি করে এই ব্যাপারটা সমাজের একটি অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? প্রশ্ন থাকলো আমাদের নিজেদের মূল্যবোধের কাছে।

তারপর বলি আত্মহত্যার কথা। প্রেমে সফলতা যেমন আসতে পারে, তেমনি ব্যার্থতাও আসতে পারে। তাই বলে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করার কোন মানেই হয়না। আপনি অন্যের জন্য কেন নিজের জীবন হনন করবেন? এর চেয়ে বরং নিজের জীবনটাকে নতুন করে সাজানোর চিন্তা করাটাই কি শ্রেয় নয়?

এবার আসি একটু ভিন্ন কথায়। একটা মানুষ কি কেবল একটা কারনেই আত্মহত্যা করে? অন্তত আমি তা মনে করিনা। একজন মানুষের জীবনের সব দিক থেকেই যখন হতাশা বাসা বাঁধে তখনই সে আত্মহত্যা করার মত ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এই যেমন সাবিরার কথাই ধরা যাক। প্রাথমিকভাবে যদিও ধারণা করা হয়েছিলো যে কেবল প্রেমে ব্যার্থ হয়েই এই তরুণী আত্মহত্যা করেছে কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেল ভিন্ন কথা। পারিবারিক দিক থেকে মোটেও সুখী ছিলেন না তিনি।

বর্তমান সমাজে সাবিরার মত হাজারো ছেলে মেয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে যারা পরিবার নিয়ে সুখী নয়। মা বাবার সাথে অদৃশ্য একটা দূরত্ব এখন প্রায় পরিবারেই দেখা যায়। এর জন্য কি অভিভাবকরা দায়ী নন? সামাজিকতা এখন শিকায় তুলে আমরা আধুনিক হচ্ছি। আর এই আধুনিকতার বেড়াঝালে হারিয়ে যাচ্ছে সব সামাজিক বন্ধন।

যে সময়ে মা বাবার উচিত সন্তানের সাথে গল্প করা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া সে সময়ে তারা সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন মোবাইল, কম্পিউটার। মা বাবা নিজেদের ভুবনে ব্যাস্ত আর সন্তান আলাদা ভুবনে।

প্রিয় মা বাবারা, সতর্ক হবার উপযুক্ত সময় এখনই। আপনার সন্তান কেমন আছে, তার মানসিক অবস্থা কেমন চলছে, তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা কেমন চলছে তার খেয়াল রাখছেন তো? সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে এসব ব্যাপারগুলো দেখছেন তো? ভেবে দেখুন তো আপনার আদরের সন্তান আপনার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কিনা!

সন্তান ভুল করতেই পারে। সেই ভুলের জন্য সন্তানকে দূরে ঠেলে দিবেন না। বরং, আগলে রাখবেন নিজের কাছে। মনে রাখবেন, যে কোন সন্তানের জন্য নিশ্চিত ভাবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা হল পরিবার। আর পরিবারেই যদি শান্তি না মিলে তবে হয়ত আপনার সন্তানের সাথেও তাই হতে পারে যা আজ সাবিরার সাথে হয়েছে।

এই লেখা লিখেছিলাম বেশ কয়েক মাস আগে। আজ সাবিরার মত চলে গেলো রাজউক থেকে সদ্য এইচএসসি দেয়া এক ছোট বোন আদিবা। প্রেমে প্রতারণার স্বীকার আর এখনও কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ায় পরিবারের তাচ্ছিল্য করাই মূলত আত্মহত্যার কারন।

সর্বশেষ যে কথা বলতে চাই তা হল সাবিরা বা আদিবা নিজে মরে আমাদের সবাইকে সচেতন করে দিয়ে গেছে। পুরো সমাজের যদি এখনো টনক না নড়ে তবে এভাবে ধীরে ধীরে অনেক সাবিরা/আদিবা হারিয়ে যাবে আমাদের সমাজ থেকে। আসুন সবাই সচেতন হই এখনই, আজ থেকেই।