সুইসাইড ট্রি: যে গাছের স্পর্শে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় মানুষ!

সুইসাইড ট্রি
❏ রবিবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৬ চিত্র বিচিত্র

ইসতিয়াক আহমেদ, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কন্ঠস্বর- অদ্ভুত শোনালেও পৃথিবীতে সুইসাইড ট্রি নামের  এমন এক গাছের অস্তিত্ব আছে যা মানুষকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। মানুষ অনেক কারণেই আত্মহত্যা করে।

মানসিক সমস্যা কিংবা যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে মানুষ এই পথ বেছে নেয়। তাই যখন বলা হয়, একটা গাছের কারণে মানুষ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় সেটা বেশ অদ্ভুত শোনায়।

একারণে একে “সুইসাইড ট্রি” বা “আত্মহত্যার গাছ” নামে ডাকা হয়। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Cerbera odollam. তবে বিভিন্ন অঞ্চলে গাছটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমনঃ ভারতের কেরালাতে এর নাম “ওথালাঙ্গা মারাম”, তামিলনাড়ুতে এর নাম “কাট্টু আড়ালি”। মাদাগাস্কারে এটি আবার “ফামেন্তানা”, “কিসোপো”, “সামান্টা” এবং “ট্যাংগেনা” নামে পরিচিত।

শ্রীলংকায় একে “পং-পং”, “বিন্তারো” কিংবা “নয়ন” নামে ডাকা হয়। সিংহলিজ ভাষায় এর নাম “গন কাদরু”।

এই গাছটি প্রাকৃতিকভাবেই দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে জন্মায়। সাধারণত, লবণাক্ত জলা জমিতে এটি ভাল জন্মায়। তাই সাধারণত উপকূলীয় লবণাক্ত জলাভূমিতে এই গাছের দেখা পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কেরালার উপকূলীয় অঞ্চলেই এই গাছটি সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

তবে বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশেই এটা কৃত্রিমভাবে জন্মানো হয়েছে। ঈষৎ গুল্ম জাতীয় এই গাছটির ফল হয় অনেকটা আমের মত দেখতে।

কিভাবে মানুষকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে?

Cerbera odollam কিভাবে মানুষকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে? আসলে, Cerbera odollam প্রচন্ড বিষাক্ত একপ্রকার গাছ। গাছটির সারা গায়ে এক প্রকার বিষাক্ত হুল রয়েছে। এই হুলে “কার্ডেনোলাইড” এবং “কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড” নামক বিষাক্ত টক্সিন রয়েছে যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে হৃদপেশীর কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন শুরু হয়।

এছাড়াও গাছটিতে এক ধরণের নিওরোটোক্সিন রয়েছে যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে সারা শরীরে প্রচন্ড যন্ত্রণার এক অনুভূতির জন্ম দেয়। আর এই যন্ত্রণা প্রায় দুই বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই গাছের হুল গায়ে লাগলে সরাসরি সেভাবে মানুষ মারা যায় না। তবে দীর্ঘসময় যাবৎ ভয়াবহ অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য মানুষ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই গাছের বিষের তেমন কার্যকরী এন্টিডোট আবিষ্কৃত হয়নি

ঠিক এই কারণেই গাছটির এই নাম। এখনো পর্যন্ত এই গাছের বিষের তেমন কার্যকরী এন্টিডোট আবিষ্কৃত হয়নি। তবে, হুল তুলে আক্রান্ত স্থানে মোমের উপর হাইড্রোক্লোরিক এসিড লাগালে বিষের প্রভাব কিছুটা কমে।

Cerbera odollam যে শুধুমাত্র যন্ত্রণা প্রদানকারী গাছ তা নয়। অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। এই গাছের রস থেকে বায়োডিজেল তৈরী করা যায়, যা জ্বালানী হিসেবে ডিজেলের পরিবর্তে ব্যাবহৃত হতে পারে। তাছাড়া কীটপতঙ্গ তাড়ানোর জন্য কীটনাশক তৈরীতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

Cerbera odollam ছাড়াও আরও এক ধরণের সুইসাইড ট্রি রয়েছে পৃথিবীতে।   Tachigali versicolor নামের এই গাছটিকে অবশ্য সুইসাইড ট্রি বলা হয় অন্য কারণে। জীবনে মাত্র একবার ফুল দেয় Cerbera odollam.  আর ফুল দেয়ার পরপরই গাছটি আপনি থেকেই মারা যায়। একারণে একে সুইসাইড ট্রি বলা জয়।

তবে,  Cerbera odollam এর মত বিষাক্ত এবং যন্ত্রণাদায়ক গাছ আর পৃথিবীতে খুব সম্ভবত নেই। অন্যযেকোন বিষের তুলনায় দশগুণ যন্ত্রণা দিতে পারে এই ভয়ংকর গাছটি। শুধুমাত্র কেরালাতেই ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ এরও বেশি মানুষ এই গাছের বিষে আক্রান্ত হয়েছিল।