সংবাদ শিরোনাম

‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’; তিনটি মুরগি চুরির দায়ে দেড়লাখ টাকার জরিমানা চার তরুণের!কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদী শুকিয়ে গেছে, হুমকীতে জীব-বৈচিত্রহেফাজতের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তারমধুখালীতে বান্ধবীর সহায়তায় অচেতন করে দফায় দফায় ধর্ষণের শিকার নারী!বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে চায়ের স্টলে ইতালি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যাগোবিন্দগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দূঘর্টনায় স্কুল শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহতময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা গেলো ৩ শিশুমুহুর্তেই ভয়াবহ আগুন! স্কুলেই পুড়ে মরলো ২০ শিশু শিক্ষার্থী!সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু আর নেইসব রেকর্ড ভেঙে চুরমার, একদিনেই ৯৬ জনের মৃত্যু

  • আজ ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে আইন অমান্য করে অবৈধ ইটভাটা স্থাপন : জন জীবন বিপর্যস্ত

১০:০৬ পূর্বাহ্ন | সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ ঢাকা

রেজাউল সরকার (আঁধার), গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি আবাসিক এলাকায় আইন অমান্য করে ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে আর এত করে জন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর বাস্তবায়ন ও সঠিক প্রয়োগের বিষয়টি ভাটা মালিকরা মানছে না। ফলে পরিবেশ দূষনে নানা রকমের হুমকি রয়েছে এলাকাবাসীর।

২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ প্রকাশিত হয়। নতুন আইনের ধারা-১ এর উপধারা-২ অনুয়ায়ী ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অব্যহত রয়েছে।

et-vata

নতুন আইন অনুযায়ী দেশের সকল পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার ইটভাটা ৩০ জুনের মধ্যে বন্ধ অথবা অন্যত্র স্থানান্তর করার জন্য নির্দেশনা থাকলেও তারা মানছেন না। ইট ভাটা মালিকদের এ কাজে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)র ঋণ সহায়তা প্রদানের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক পদ্ধতিতে পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা স্থাপনে এগিয়ে আসেনি ভাটার মালিকরা।

নতুন আইন বাস্তবায়ন ও কার্যকরের কারণে দেশের প্রতিটি ইটভাটা আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতেই নির্মাণ ও পরিচালনার নির্দেশ রয়েছে। এ বিষয়ে সকল জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু গাজীপুর সিটি-করপোরেশনের বেশির ভাগই জনবসতি এলাকায় ইট ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। তার মধ্যে কোনাবাড়ির আমবাগ, বাঘিয়া, জয়েরটেকসহ বেশ কয়েকটি ইট ভাটা রয়েছে। যে গুলি এখনো নিষিদ্ধ চিমনী ব্যবহার করে ইট পুড়িয়ে চলেছে।

জানা গেছে, গাজীপুর সিটি-করপোরেশনের কড্ডা, কোনাবাড়ি, বাঘিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৭০টি ব্রিক ফিল্ড রয়েছে। তার মধ্যে একটিতেও বৈধ কোনো কাগজ পত্র নেই।

বাঘিয়া আঞ্চলিক ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বকুল মোল্লা জানান, আমরা অনেক টাকা পয়সা খরচ করে হাইকোর্টে রিট করেছি এবং হাইকোর্ট ইটভাটা চালানোর অনুমতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে নেজারত শাখার ডেপোটি কালেক্টর (এনডিসি) মোঃ মামুন শিবলীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গাজীপুর সিটি-করপোরেশনের কোনাবাড়ি, আমবাগ, জয়েরটেক, বাঘিয়া এলাকায় পরিবেশে ও জনসাধারণের চরম ক্ষতি করে এমন বেশ কয়েকটি ব্রিক্স ফিল্ড রয়েছে। তার মধ্যে কোনাবাড়ির কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার রোডে অবস্থিত ওয়াহেদ ব্রিক্স (৫৫৫), আমবাগ সূচি ব্রিক্স, জয়েরটেকে ন্যাশনাল ব্রিক্স, বাঘিয়া এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে রয়েছে আলমাছ মনি ব্রিক্স (এএমবি) মেসার্স মাইনউদ্দিন ব্রিক্স, মেসার্স রাইজউদ্দিন (এমআরবি) বাঘিয়া হেলালউদ্দিন ব্রিক্স (বিএইচবি) বাঘিয়া মোল্লা ব্রিক্স (বিএমবি) নিপন ব্রিক্স (এনবিসি) বাঘিয়া মন্ডল ব্রিক্স, বাঘিয়া ন্যাশনাল ব্রিক্স, বাঘিয়া আইজদ্দিন ব্রিক্স।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এসব ইট প্রস্তুত করায় পরিবেশ দূষণের কারণে কমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) রেহানুল ইসলাম জানান, এসব ইটভাটা বন্ধ করার জন্যে তিন বার প্রস্তুতি নিয়েছি কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের জনবলের অভাবে পারছি না। ডিসেম্বর মাসের যে কোনো দিন এসব ইটভাটা বন্ধ করে দেয়া হবে।

অভিযোগ রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে ইটভাটার মালিকদের রক্ষায় ব্যস্ত রয়েছে বলে।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সোনিয়া সুলতানার কাছে বসতবাড়ির পাশে ইটভাটার বিষয় নিয়ে ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ফোনে বেশি কথা বলতে পারবো না অফিসে আসেন।

এছাড়াও পরিবেশের ওই কর্মকর্তা মালিকদের পক্ষে উল্টো সাপাই গেয়ে আরো বলেন ইটভাটার মালিকদের হাইকোর্টের রিট রয়েছে।