সংবাদ শিরোনাম

ছাত্রলীগ নেতার প্যান্ট চুরির ভিডিও ভাইরাল!পাটগ্রামে ইউএনও’র উপর হামলা, আটক ৬আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮৩ জনেরশফী হত্যা মামলা: মামুনুল-বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদনখালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সারাদেশে দোয়া কর্মসূচিরোহিঙ্গা শিবিরে ফের অগ্নিকান্ডসালথায় তান্ডব: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা মিলেনিশাহজাদপুরে কৃষকদের মাঝে হারভেস্টার মেশিন বিতরণচাঁদপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিশ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা না করলে আইনি পদক্ষেপ : শ্রম প্রতিমন্ত্রী

  • আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নাসিক নির্বাচনে বিএনপির ব্যাপক ভরাডুবি: তিন নেতাকে ঢাকায় তলব

১০:৩৯ পূর্বাহ্ন | সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও মো. গিয়াসউদ্দিনকে ঢাকায় তলব করা হচ্ছে। দলের চেয়ারপারসনের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

সূত্র বলছে, দু’একদিনের মধ্যে তাদের বিএনপির গুলশান অফিসে ডেকে পাঠানো হবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তাদের কাছে কেন্দ্রের বার্তা পাঠানো হয়েছে। বলা হচ্ছে এ সাক্ষাতের সময় ২৬ থেকে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হতে পারে। সোমবার জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

1458354760এর আগে নাসিকের ১৭৪টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের সঙ্গেও কথা বলবে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমিটি। নারায়ণগঞ্জ শহর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ- এ তিন ভাগে ভাগ করে তাদের ডাকা হবে। এছাড়া বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি গোপনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি ভোটের দিনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পোলিং এজেন্টদের কাছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উপস্থাপন করবে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয়ভাবে পোলিং এজেন্টদের যে গাইডলাইন দেয়া হয়েছিল, সেভাবে স্থানীয় নেতারা সমন্বয় করেছিলেন কিনা, কিংবা পোলিং এজেন্টরা সেভাবে দায়িত্ব পালন করেছে কিনা। ভোট শুরু থেকে ফলাফল পর্যন্ত তারা কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক ছিলেন কিনা। সকালে সিরিয়ালসহ ব্যালট পেপার বুঝে নেয়া এবং ভোট গ্রহণ শেষে কাস্টিং হওয়ার মোট ভোটের সঙ্গে তা মিলিয়ে নিয়েছেন কিনা।

এরপর ভোট গণনা শেষে প্রিসাইডিং অফিসার স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট বুঝে নিয়েছিলেন কিনা। প্রতিটি কেন্দ্রে গৃহীত ভোট ও ঘোষিত ভোটের সংখ্যা মেলানো হয়েছে কিনা। ভোট গণনার সময় প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের সামগ্রিক কার্যক্রম যথাযথভাবে মনিটরিং করা হয়েছে কিনা। ভোট কেন্দ্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নজরে আসার পর কেন্দ্রে বা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অবহিত করা হয়েছিল কিনা। ভোট গণনার আগে টিভি স্ক্রলে যাওয়া ফলাফলের বিষয়ে স্থানীয় নেতারা পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কিনা।

পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব দেয়ার পরও কেন তারা অনেক কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন, সে ব্যাপারেও জানতে চাওয়া হবে। সর্বোপরি কেন্দ্র থেকে মনিটরিং করার জন্য যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তিনি কীভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কোনো পোলিং এজেন্ট প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে না চাইলে গোপনে লিখিত বক্তব্য দেয়ার সুযোগ থাকবে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। উল্লিখিত স্থানীয় তিন প্রভাবশালী নেতাকে প্রতিটি থানার বিস্তারিত দায়িত্ব কেন্দ্র থেকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেয়ার বিষয়টিও ছিল তাদের ওপর ন্যস্ত। সূক্ষ্ম কারচুপি এড়াতে কেন্দ্র থেকে বেশকিছু নির্দেশনাও তাদের দেয়া হয়। কিন্তু দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিলম্বে হলেও জানতে পারেন, তারা এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। বরং তারা সন্তান ও ভাইদের (কাউন্সিলর প্রার্থী) জেতানো নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।

দলের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম সারা দিনে একবারের জন্যও ধানের শীষে ভোট চাননি বলে বন্দরের বিএনপিপন্থী একাধিক ভোটার অভিযোগ করেন। বন্দরের দুই নেতা এরই মধ্যে কালামের বিরুদ্ধে হাইকমান্ডে নানা অভিযোগও দিয়েছেন। মেয়র পদে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গোপনে সমর্থন দেয়ার বিনিময়ে তার ছেলেকে কাউন্সিলর পদে জিতিয়ে আনার সমঝোতা করেন।

কেউ কেউ গুরুতর আরও কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। শুধু কালাম নন, গিয়াসউদ্দিন এবং তৈমুর আলমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের নানা অভিযোগ কেন্দ্রে জানানো হয়েছে। তৈমুরের নিজ ওয়ার্ডে (১৩নং) তার ভাই খোরশেদ জয়ী হলেও হেরেছে ধানের শীষ। একই অবস্থা গিয়াসের প্রায় সব ওয়ার্ডেই। এ বিষয়গুলো দলের শীর্ষপর্যায় গুরুত্বসহকারে নিয়েছে।

এর আগে নাসিক নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফলাফল নিয়ে কাজ চলছে। এ ধরনের ফলের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা দায়ী কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দলের কোনো নেতা যদি পরাজয়ের কারণ হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।