• আজ ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সময়ের কণ্ঠস্বরে সংবাদ প্রকাশের পর যেমন আছেন ‘ক্যান্সার আক্রান্ত খোতেজা’

১:২৬ অপরাহ্ন | সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

ফয়সাল শামীম, নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম- ‘আমাদের মাকে বাাঁচান’ শিরোনামে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কন্ঠস্বরে পরপর ৩ বার স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত খোতেজার খবর প্রকাশ হয়। প্রথম খবর প্রকাশের পর তেমন কোন সাড়া পাওয়া না গেলেও ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক খরচ ও পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য ২৪ হাজার টাকার মতো পাওয়া যায়।

এরপর ২য় খবর প্রকাশ করলে ক্যালিফোনিয়ার ১ জন নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারই পরিচিত রংপুরের তন্ময় নামে একজনকে দিয়ে ৫০ হাজার টাকা পাঠান। এই টাকাটা দিয়ে সেই তন্ময় ২ টা কেমো থেরাপি দেন যাতে খরচ হয় প্রায় ২৮ হাজার টাকা এবং পরে ওই আক্রান্ত মহিলার স্বামীর বিকাশে আরও প্রায় ৪ হাজার টাকা কয়েক কিস্তিতে পাঠান তন্ময়।

khotejaএরপর তন্ময় বলেন, ৫০ হাজারের অবশিষ্ট টাকা দিয়ে তিনি আরও ১ টা কেমো থেরাপি দেবেন। কিন্তু তন্ময় কোনো কেমো দেননি। এরপরে মাঝখানে তন্ময় ৩য় কেমো দিতে অসম্মতি জানানোয় আবারও দেশ বিদেশের কিছু মানুষের দানে প্রায় ২১ হাজার টাকা ব্যায়ে ৩য় কেমো দেয়া হয়। পরে তন্ময় তার আমেরিকা প্রবাসী বোন/ফুপির কাছ থেকে একটা রিকশা কেনা বাবদ ১৫ হাজার টাকা ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলার স্বামী মজিবরকে দেন।

এবং তার প্রবাসী বোন/ফুপি মোবাইলে ক্যান্সার আক্রান্ত খোতেজাকে কথা দেন তিনি অবশিষ্ট ৫ টা কেমো দেবেন। এরপর তন্ময় এই নিউজের প্রতিবেদককে বলেন, যেহুতু কেমোথেরাপি আমার বোন/ফুপু দিচ্ছে তাই আপনি রেডিও থেরাপি জন্য অন্য কারো সাহায্য নেন। কারন রেডিও থেরাপিতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাগবে। পরে সময়ের কণ্ঠস্বরে ফের খোতেজাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেবার কারো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর পর ৪র্থ ধাপের কেমোর দিন তন্ময় এই ক্যান্সারের রোগীকে রংপুরে ডেকে নিয়ে সারাদিন বসিয়ে রেখে প্রায় শেষ মহুর্তে তিনি সরাসরি বলে  দেন, আমি এ কেমোটা দিতে পারছি না আপনারা দেন। ওই মহুর্তে প্রতিবেদক তার এক বড় ভাই (নাম প্রকাশে) অনিচ্ছুক এর কাছে ফোন করে বিকাশে টাকা নিয়ে ওই দিনের কেমো দেন। এরপর আবারও যোগাযোগ করা হয় তন্ময়ের সাথে সে বলে যে ব্যাংক ষ্টেট ম্যান্ট লাগবে। এরপর সে কেমো দেবেন।

মহিলার স্বামী ঢাকায় থাকায় তার ব্যাংক ষ্টেটম্যান্ট সঠিক সময়ে দিতে না পারায় গত ২২ ডিসেম্বর তন্ময় কোনো কেমো থেরাপি দেন নি। বরং প্রতিবেদকের শ্রদ্ধেও দানবীর বড় ভাইয়ের দাড়স্থ হয়ে তার পাঠানো বিকাশের টাকা দিয়ে ৫ম ধাপের কেমো দেয়া হয়। এবং সেই দানবীর ভাই এই রোগীর পাশে থাকবেন বলে কথা দেন।

এখন খোতেজার কেমো বাকী আর মাত্র ৩ টি, এরপর রেডিও থেরাপি। আল্লাহপাক চাইলে সঠিক সময়ে রেডিও থেরাপি দিতে পারলে বেঁচে উঠতে পারে ক্যান্সার আক্রান্ত খোতেজা। তাই তিনি সমাজের হৃদয়বান বৃত্তবানদের সহযোগিতার হাত বাড়াতে অনুরোধ করেছেন।

প্রতিবেদকের বক্তব্যঃ আপনাদের সকলের জন্য আমি ব্যাংক ষ্টেটম্যান্ট ২ টার ছবি দিলাম। তন্ময় রোগীর স্বামীর সাথে ও আমার সাথে ককর্শ ভাষায় হুমকি দিয়েছে। যার রেকর্ড আমার কাছে আছে। এছাড়া তন্ময় আমাকে ফোন করে আজেবাজে অনেক কথা বলেছে। এবং রোগীর স্বামীকে মোবাইলে বলেছে রোগীকে নিয়ে রংপুরে কেমো দিতে গেলে সে স্থানীয় ক্যাডার দিয়ে তার স্বামীকে ও আমাকে পেটাবেন। কেনো তিনি এমন করছেন আমি বুঝছিনা।hhhআমি সকলের সহযোগিতা চাই। তন্ময় আমার সময়ের কন্ঠস্বরের ঢাকা অফিসের প্রধানকে ফোন করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমি তন্ময়কে চ্যালেঞ্জ করে বলছি ভাই আমি ১০০% সৎ। কিভাবে প্রমান চান আসেন আমি দেবো। দয়া করে একটা ক্যান্সারের রোগীকে সহযোগিতা করুন! দয়া করে কোনো হুমকি দেবেন না।

এই রোগীর পরবর্তী কেমো জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখ। দয়া করে সকলে দোওয়া ও সহযোগিতা করবেন।

আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ফয়সাল শামীম-০১৭১৩২০০০৯১