• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৮:১৪মিঃ

কুমিল্লায় স্কুল ছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা : গ্রেপ্তার-৪

৩:৫৪ অপরাহ্ন | সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

রবিউল ইসলাম, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার তিতাসে হৃদয় (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা করার অপরাধে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা সিআইডি পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদেরকে নিয়ে আজ সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে লাশ উদ্ধারে নেমেছে পুলিশ।

opohoron

নিহত আবু তাহের হৃদয় উপজেলার মধ্য আকালিয়া গ্রামের মোঃ বশির উদ্দিন ওরফে বচ্চু মিয়ার একমাত্র ছেলে। সে উপজেলার বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলী আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের বর্ণনানুসারে নিহত হৃদয়ের লাশ উদ্ধারে কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফ উদ্দিন ভুঁইয়া ও তিতাস থানার ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম এর নেতৃত্বে তিতাস থানা পুলিশ হোমনার নদীতে আজ সোমবার লাশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় হৃদয় তার নিজ বাড়ির পশ্চিম পাশে ব্যাডমিন্টন খেলতে গেলে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় হৃদয়ের পিতা বশির মিয়ার নিকট মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি ফোন আসে।

উক্ত ফোন নম্বরসহ ঘটানার বিস্তারিত তিতাস থানা পুলিশ ও কুমিল্লা জেলা সিআইডিকে অবহিত করলে ওই ফোন নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ ও সিআইডি যৌথ অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের হাজী মতিন মিয়ার ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আলী, রেনু মেম্বারের ছেলে মঈন, রিয়াদ ও সাকিব নামের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

তাদের গ্রেপ্তারের পর থানা হাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা হৃদয়কে অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে পুলিশকে জানায় যে তাকে হত্যা করে ওই রাতেই বস্তাবন্দী করে হোমনা-বাঞ্ছারামপুর সংযোগ সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেয়। হৃদয় বিদারক এই চাঞ্চল্যকর অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

নিহতের পিতা বশির উদ্দিন বচ্চু মিয়া কান্না জড়ানো কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র ছেলেটাকে অপহরণের পর মুক্তিপণ চাইলো। আমি আমার ছেলের সাথে কথা বলতে চাইলে তার ফোনটি বন্ধ করে দেয়। তারপর ওই নাম্বারে অনেক চেষ্টা করেও কোন যোগাযোগ করতে পারিনি। তারা আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে হত্যা করে গুম করেছে। আমি আইনের কাছে আমার একমাত্র ছেলের হত্যার বিচার চাই এবং আমার ছেলের লাশটাও যেন অন্তত পাই প্রশাসনের কাছে এই একটাই দাবি। অপরদিকে সদ্য সন্তানহারা হৃদয়ের মা যেন বাকরুদ্ধই হয়ে গেছেন। তিনি কোনো কথাই বলতে পারছেন না।

এই বিষয়ে তিতাস থানার ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের সাথে নিয়েই নদী থেকে লাশ উদ্ধার চলছে।