• আজ রবিবার। গ্রীষ্মকাল, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১১:৫০মিঃ

গাইবান্ধায় উৎসব মুখর পরিবেশে জেলা পরিষদ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

৭:৩৬ অপরাহ্ন | সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ রংপুর

আব্দুল খালেক মন্ডল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় উৎসব মুখর পরিবেশে জেলা পরিষদের নির্বাচন ২৮ ডিসেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন করা হয়েছে। প্রার্থীদের শেষ মূর্হূতে নির্বাচনী প্রচারনা শেষ হওয়ায় এখন ভোটার ও জনসাধারনের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে কে হবে ? গাইবান্ধা জেলার পরবর্তী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মত ৫জন প্রার্থী তীব্র প্রতিদ্বন্দীতায় অবর্তীন হয়েছে জেলা আ.লীগের সভাপতি ও আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী এ্যাড সৈয়দ সামস-উল-আলম হিরু (তালগাছ), জেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক মন্ডল (কাপপিরিচ), জাসদ প্রার্থী এসএসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান (ঘোড়া) ও আমিনুল ইসলাম (মোটারসাইকেল)। এই নির্বাচনে অন্য কোনো দল অংশগ্রহন না করায় নির্বাচনটি উৎসব মুখর করতে দলীয় মনোয়নের প্রথা তুলে দেয়া হয়। যাতে করে অংশগ্রহনকারী প্রার্থীরা দলীয় পরিচয় ব্যতি রেখে ভোটযুদ্ধে অবর্তীন হয়েছে।

jela-porisod-nirbacon

নির্বাচনে সাধারন জনগন ভোটার না হওয়ায় শুধু মাত্র জনপ্রতিনিধিরাই ভোটার। ফলে প্রার্থীরা তাদের পক্ষে এসব ভোটারদেরকে বাগিয়ে নিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এ্যাড সৈয়দ সামস-উল-আলম হিরু ও মো. মোজাম্মেল হক মন্ডল মধ্যে নির্বাচন যুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইর মখোমুখি হয়েছে। তবে পিছন থেকে ঘোড় দৌড়ে চমক দেখাতে আতাউর রহমান আতা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জাসদ প্রার্থী এসএসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও আমিনুল ইসলাম ভোটারদের দ্বারে দ্বারে সর্মথন আদায়ে ব্যাপক প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে ২৮ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৫টি ভোট কেন্দ্রে ৩০টি বুথে বিরতিহীন ভাবে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। গাইবান্ধার ৭টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা ও ৮২টি ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মোট ১ হাজার ১’শ ১৭জন ভোটারে ১জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ৫জন সংরক্ষিত নারী সদস্য ও ১৫জন সাধারন সদস্য নির্বাচিত হবেন।

গাইবান্ধা চেম্বারে সাধারণ সভায় সংঘর্ষ ও মারপিট
হামলার ঘটনায় ১৪ জন জেলহাজতে

গাইবান্ধা চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ কার্যালয়ে ১৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে সাধারণ সভায় ব্যবসায়ীদের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, মারপিট হামলায় ৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এ পর্যন্ত ১৪ জন জেলহাজতে। এরমধ্যে ঘটনার দিন পুলিশ রনি, দিলশাদ, মিশু ও ছোটকা নামে ৪ জনকে গ্রেফতার করে। সোমবার ওই ঘটনার সাথে জড়িত ১৬ জন আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাদের মধ্যে ১০ জনের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। তারা হচ্ছে শাহীন, সোহেল, রুবেল, কানন, নাইম, সোহেল-২, সুজন, সুমন, নয়ন ও সজল। এছাড়া মুরাদ, শাহীন, আলী, অলি, নয়ন ও ইসলামের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান দুই আসামি চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের মোরছেলিন পারভেজ ও মো. সাঈদ হোসেন জসিমকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।

এদিকে সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে জেলা মোটর মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে দু’দফা অনির্দিষ্ট কালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট পালিত হয়। পরবর্তীতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়।

প্রসঙ্গত উলেখ্য যে, ১৩ ডিসেম্বর বিকেলে গাইবান্ধা চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাধারণ সভায় সদস্যদের কথা বলতে না দেওয়ার জের ধরে কয়েক দফা সংঘর্ষ, অফিস ও শ্যামলী পরিবহন কাউন্টার ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবহন মালিক ও নেতা চেম্বারের পরিচালক মোক্তাদুর রহমান মিঠুসহ উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়।

গাইবন্ধায় গাঁজাসহ যুবক আটক

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ২০ পুড়িয়া গাঁজাসহ ধনন কুমার সরকারকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান পিপিএম-এর নির্দেশে এসআই ফারুক হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ রোববার রাতে উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের মেঘারমোড় নামক স্থানে অভিযান চালায়। এসময় হাসানখোড় গ্রামের জিতেন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে ধনন কুমার সরকারের মেঘারমোড়ে গুড়া ও খুদের দোকানে তলাসী চালিয়ে ২০ পুড়িয়া গাঁজাসহ তাকে হাতে-নাতে আটক করে। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে গাইবান্ধা কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সাদুল্যাপুরে ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় মিজানুর রহমান মিজান (২৫) নামে ব্যাটারীচালিত এক ভ্যান চালককে গলাকেটে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। এসময় তার ভ্যানটি নিয়ে গেছে দূর্বৃত্তরা। সোমবার গভীর রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার তার মৃত্যু হয়।
মিজানুর রহমান মিজানের বাড়ী রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মোন্তাজ মিয়ার ছেলে। এরআগে, সাদুল্যাপুর-ধাপেরহাট সড়কেরে ধাপেরহাট ইউনিয়নের বউবাজার এলাকায় রবিবার সোমবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মিজানুর রহমান ৪-৫ জন যাত্রী নিয়ে পীরগঞ্জ থেকে ধাপেরহাট হয়ে বউ বাজারে পৌঁছে। এসময় যাত্রীবেশি দূর্বৃত্তরা তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন মিজানুরকে উদ্ধার করে প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতেই তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থার তার মৃত্যু হয়।
সাদুল্যাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরহাদ ইমরুল কায়েস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দূর্বৃত্তরা ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে ভ্যানে উঠে। এরপর তারা মিজানুরকে গলাকেটে হত্যা করে। দূর্বৃত্তদের সনাক্ত ও তাদের আটক করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। এ ঘটনায় সাদুল্যাপুর থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।
উল্লেখ্য, গত ৫ মাসে ধাপেরহাট ইউনিয়নে শিশুসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা ও হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। মূলত রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকার দূর্বৃত্তরা ধাপেরহাট এলাকা এসে এসব হত্যার ঘটনা ঘটাচ্ছে। ৫ মাসে ৫টি হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় আতষ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব হত্যাকান্ডের কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

প্রশাসনের নিরব ভুমিকায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা নেই
গোবিন্দগঞ্জে বালু দস্যু বাবু ও জাফু বাহিনীর দৌরাত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বালু দস্যু বাবু বাহিনীর দৌরাত্ব বৃদ্ধি পেয়ে রাতা রাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। এলাকার রাস্তা, ঘাট , শিক্ষা প্রতিষ্টান , মসজিদ , বসত ভিটা , আবাদি জমি সহ বিদ্যুতের খুটি হুমকীর মূখে প্রশাসন রহ্যসজনক কারনে নিরব।
সরেজমিনে জানা গেছে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কাটাখালী নদীর তীঁরবর্তী তালুককানুপুর ইউনিয়নের শমসপাড়া শিখশহর গ্রামের বালু দস্যু বাবু বাহিনীর সদস্য রাজা মিয়া, দুদু মিয়াসহ ১০/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী নদীগর্ভের ৮০/১০০ ফিট নীচ থেকে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করে আসছে। সংঘবদ্ধ দলটি কাউকে তোয়াক্কা না করেই উক্ত শমসপাড়া গ্রামের নিকটবর্তী কাটাখালী নদীতে ১৫/২০ টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন শ্যালো ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে জমি, ডেবে গিয়ে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্টান , মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, বসত বাড়ী, ফসলী জমি সহ বিদ্যুতের খুটি হুমকির মূখে পড়েছে। ইতিমধ্যে এই কারনে শত শত বিঘা আবাদী জমি ও অর্ধশতাধীক পরিবারের বসত বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে বলে জানা যায। তাছারাও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুতের খুটি উপরে পরে যে কোন মূহুর্তে বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উল্লেখিত কারনে বালু দস্যুদের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ্য গ্রামবাসীদের মধ্যে একাধীকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সব উত্তোলনকৃত বালু গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে তারা রাতা রাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। আর এই সব বালু বহনকারী যানবাহন ট্রাক , ট্রাক্টোর , ট্রলি , গ্রামের মিঠো রাস্তায় চলাচলের সময় বিভিন্ন প্রকার দূর্ঘটনাসহ রাস্তা ভেঙ্গে জন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গ্রাম বাসী অভিযোগ করেন নদীগর্ভ থেকে বালু উত্তোনের বাধা দিলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে অধিক মাত্রায় বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এলাকাবাসী জানান এ ব্যাপারে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলেও কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারনে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় তাদের দৌড়াতœা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখিত বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় একাধিকবার খবর প্রকাশ হলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকরী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে স্থানীয় সাংবাদিক বুন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানকে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালে তিনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) আহম্মদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। এ নিয়ে একাধিকবার সাংবাদিকগন উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) আহম্মদ আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান অতি সত্তর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু গত এক মাস পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারনে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশাসনের উর্দ্দতন কর্তৃপক্ষের নিকট অবিলম্বে এই সব বালু দস্যুদের সরঞ্জামাদী জব্দসহ বালু দস্যুদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিছেন এলাকার সচেতন মহল। ছবি সংযুক্ত

গোবিন্দগঞ্জে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল্যায়ন সমাপনী অভিভাবক সমাবেশ অনূষ্ঠিত

গাইবান্ধার গোবিন্দঞ্জ বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন বি এন এফ এর র্অথায়নে জনকল্যাণ সংস্থা জে কে এস ,বকচর গোবিন্দগঞ্জ এর বাস্তবায়নে সমাপনী মুল্যায়ন ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্টিত।
গত রবিবার বিকেল ৪টায় বকচর নয়াপাড়া গ্রামে জনকল্যাণ সংস্থার র্নিবাহী পরিচালক এস এম আলতাব হোসেন পাতার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথী হিসাবে বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য ফুল মিয়া সরকার রিপোর্টাস ফোরামের সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম রফিক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তারাজুল ইসলাম ,জামিরুল ইসলাম ও শিক্ষক মোছাঃ আফরোজা বেগম পরচিালনা করেন মোঃ মোমিনুল ইসলাম উল্লেখ্য অভিভাবক সমাবেশে ৩০জন ছাত্র/ছাত্রী ও ৩০জন অভিভাবক সদস্য উপস্থিত ছিলেন ।

সুন্দরগঞ্জে রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে লেখা-পড়ার খরচ যোগায় মাহবুবুর

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কি বাড়ি ইউনিয়নের বজরা কি বাড়ি গ্রামের মাহবুবুর রহমান রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে লেখা-পড়ার খরচ যুগিয়ে থাকে। জেডিসি ফলাফলের পর উপর ক্লাশে (নবম শ্রেণীতে) ভর্তি, খাতা-কলম, বই-পুস্তুক ও জামা-কাপড় অন্যান্য খরচ যোগান দিতে দিন-রাত ভাড়ায় রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে অর্থ অর্থ উপাজন করছে এই ছাত্র।

বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়, উক্ত গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান কি বাড়ি মজিদা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবারে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। পরীক্ষার ফলাফল ভাল হবে জেনে উপর ক্লাশ (নবম শ্রেণীতে) ভর্তি, বই-প্রস্তুক, খাতা-কলমসহ লেখা-পড়ার খরচ যোগাতে বসে না থেকে ভাড়াতে রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। সহায়-সম্বলহীন মকবুল হোসেন ক্ষুদ্র তরকারী ব্যবসায়ী। এ ব্যবসায় যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার ঠিক মতো চলে না। এ উপর ছেলের লেখা-পড়া তার জন্য অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। এব্যাপারে কথা হলে মকবুল হোসেন বলেন-তার এই সামন্য তরকারী ব্যবসার উপর পরিবারের ৬ জন পোষ্য নির্ভরশীল। তাই ছেলের লেখা-পড়ার খরচ যোগান দেয়া তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি লেখা-পড়া বাদ দিয়ে মাহবুবুরকে সাথে থাকতে বললেও সে কিছুতেই লেখা-পড়া ছাড়ছে না। মকবুল হোসেন আরও বলেন-তারা গরীব মানুষ। সমাজের নিম্ন শ্রেণীতে তাদের জীবন-যাপন। যাপিত জীবন বড় কষ্টের। এর উপর লেখা-পড়ার খরচ যোগান দেয়া কঠিন হবে। ভবিষ্যতে আরও অনেক টাকার প্রয়োজন হবে। তারপর ও লেখা-পড়া শেষে চাকরী পেতে অনেক টাকা দরকার হবে। ভাল কিছু খাওয়াতে-পরাতে হবে। তাই তিনি নিজের দুর্দিন ভেবে ছেলেকে লেখা-পড়া না করে দিন মজুরী কাজ করতে বলেন। কিন্তু, মাহবুবুর তা কিছুতেই শুনছে না। রিক্সা-ভ্যান চালানো অবস্থায় কথা হলে, সে জানায়-সে তার ও তার ছোট ভাই ফাহিমের লেখা-পড়া চালিয়ে যাবে। এতে যতটুকু শ্রম দেয়ার তা সে দিয়ে যাবে। জমিজমা বলতে শুধু ভিটা মাটি আছে। এসব কথা যেন নিবিঘেœ ছলছল চোখে বলে মিষ্টি হাসি দিল মাহবুর রহমান। আবারও বিরবির করে বলল সকল বন্ধুর মোবাইল রয়েছে। লেখা পড়া আজ তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর একটা মোবাইল ফোন দরকার। তার বাবার জমি-জমা নেই। শুধু মাত্র ১৬ হাতের একটি ঘরে জায়গা ছাড়া আর কিছুই নেই। ঐ ঘরেই বসবাস করতে হচ্ছে পরিবারের সবাইকে। সে লেখা-পড়া শিখে ভবিষ্যতে মানুষ হবে এবং ছোটকেও মানুষ করবে।

এ স্বপ্ন নিয়েই সে মা-বাবার কথা ফেলে রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে হলেও নিজে ও ছোট ভাইয়ের লেখা-পড়া চালিয়ে যাবে। সে আরও জানায়- প্রতিদিন ঠিক মতো রিক্সা-ভ্যান চালাতে পারলে ২শ ৫০ থেকে ৩শ ৫০ টাকা আয় হয়। এরমধ্যে রিক্সা-ভ্যান মালিককে তার চুক্তির টাকা দেয়ার পরে যা থাকে তা থেকে প্রয়োজনে ক্ষুধা লাগলে খেয়ে নিতে হয়। সে ভবিষ্যতে লেখা-পড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবার আশাবাদ ব্যক্ত করে।