তামারা স্যামসোনোভা: মানুষের কলিজাখেকো সিরিয়াল কিলার! (প্রথম পর্ব)

৮:১৪ অপরাহ্ন | সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ চিত্র বিচিত্র, লাইফস্টাইল

তামারা স্যামসোনোভা

আরেফিন শিমন, লাইফস্টাইল, সময়ের কণ্ঠস্বর ।

এইতো এক বছর আগের কথা। তামারা স্যামসোনোভা নামক ৬৯বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে রাশিয়ান পুশিল গ্রেফতার করে। সিসিটিভি ক্যামেরার এক ভিডিও দেখে তারা প্রথমে সন্দেহ করে তাকে গ্রাফতার করেন। কিন্তু গ্রাফতারের পর সামনে আসে এক ভয়ংকর গল্প।যে গল্পের মুল হলেন এই তামারা স্যামসোনোভা। যিনি হলেন রাশিয়ার অন্যতম এক সিরিয়াল কিলার।

রাশিয়ার সিরিয়াল কিলার তামারা স্যামসোনোভার  মত সিরিয়াল কিলার সম্ভবত ইতিহাসে আর নেই। কারন রাশিয়ার পুলিশের ধারনা তামারা স্যামসোনোভা একজন নরখাদকও! তামারা স্যামসোনোভা  নামের ৬৯বছর বয়সী এই বৃদ্ধা সিরিয়াল কিলারকে গ্রানি-রিপার নামে ডাকা হয়।হত্যার পর মৃতদেহের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ ছুরি- করাত দিয়ে টুকরা টুকরা করতেন ।আর এই জন্যই এই বৃদ্ধাকে  গ্রানি রিপার (কর্তনকারী নানী) নামে ডাকা হয়।

রাশান কর্তৃপক্ষ তামারা স্যামসোনোভা ওরফে গ্রানি- রিপারকে প্রথমে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করে। পুলিশ পরে বুঝতে পারে গ্রানি-রিপার কোন সাধারন খুনি নন। তিনি একজন নরখাদক বা মানুষখেকো সিরিয়াল কিলার। সব চেয়ে অবাক করার মত বিষয় হল, সে প্রতিটি খুনের সূক্ষ্ম বর্ণনা লিখে রেখেছে তার গোপন ডাইরিতে।

গ্রানি-রিপার ছিলেন একজন সাবেক এ হোটেল কর্মী। অনেক আগেই কাজ ছেড়েছিলেন। বাস করতেন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে। সম্প্রতি এক রাতে তিনি বড়সড় একটা প্লাস্টিক ব্যাগে করে কিছু একটা নিয়ে যাচ্ছিলেন বাসার বাইরে। বাসার সামনে থাকা একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় সেই  দৃশ্যটি ধরা পড়ে।

ব্যাগের আকার এবং সেটি বহনের ভঙ্গি  দেখে রাশিয়ান পুলিশ বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখেন ।কারন প্লাস্টিক ব্যাগটি দেখে তাদের মনে হয়েছিল তাতে মানব শরীর আছে। তামারা স্যামসোনোভা ওরফে গ্রানি- রিপারকে  গ্রেফতার করা হয়। তামারার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বুক শেলফ থেকে একটি গোপন ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। ওই ডায়েরিতেই ১১টি হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি ও বিবরণ দেওয়া রয়েছে।  তার ঘর থেকে শুধু ডাইরি-ই নয়, কালোযাদু সহ জ্যোতিষবিদ্যারও নানা বইও পাওয়া যায় ।

তামারা স্যামসোনোভার সেই ডায়েরিতে থাকা বর্ণনা আর তার স্বীকারোক্তি থেকে যে তথ্য মেলে তাতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সব মিলে ১১টি খুন করেছে সে।দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে গেছেন তামারা। অথচ শেষবার ছাড়া কখনোই তিনি পুলিশের সন্দেহের চোখে পড়েননি।

প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর মৃতদেহের মস্তিস্ক, হাত-পা কেটে দেহ থেকে আলাদা করে ছড়িয়ে ফেলে দিতেন শহরের বিভিন্ন স্থানে। রাশিয়ার পুলিশের ধারনা, তামারা নিহতদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও খেয়েছেন। কারন উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির মস্তিষ্ক এবং কলিজা পাওয়া যেত না কখনোই।

( দ্বিতীয় পর্বে এর পরের অংশ দেওয়া হবে)

তামারা স্যামসোনোভা শেষ খুনের পর লাশ নিয়ে বাসার বাহিরে যাওয়ার সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পরার সেই ভিডিওটির লিংকঃ https://www.youtube.com/watch?v=jJCdF5TqxT4

সুত্রঃ ডেইলি মেইল ও ইন্টারনেট।