• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভিটামিন এ; কোন খাবারে পাবেন, এর উপকারীতা এবং ক্ষতির কারন!

৮:৩৪ অপরাহ্ন | সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ আপনার স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল

ভিটামিন এ

রাবেয়া মাশফেরাত মেরী, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

ভিটামিন  হচ্ছে এমন একটি উপাদান যা আমাদের শরীরের জন্য খুব দরকার। আমাদের দেহে সব কিছু উতপন্ন হতে পারেনা তাই বাহির থেকে খাবারের মাধ্যমে আমাদের দেহে কিছু জিনিস প্রবেশ করাতে হয় যার মাধ্যমে আমাদের দেহ সুস্থ-স্বাভাবিক থাকে আর ভিটামিন হল তেমনি একটি উপাদান যেটি কিনা আমরা খাবারের মাধ্যমে খেয়ে থাকি।
ভিটামিন A নিয়ে আজ আমরা কিছু তথ্য জানব।

ভিটামিন A এর উৎস: পনির, ডিম, তৈলাক্ত মাছ, গাজর, দুধ, দই জাতীয় খাদ্য

ভিটামিন A এর উপকারিতাঃ

অভিযোজন ক্ষমতা-  ভিটামিন A মানুষের শরীরের মিউকাস মেমব্রেন, শ্বসন, ইউরিনারী এলাকা, চোখের আস্তরন, এবং ইন্টেস্টিনাল এলাকার মত “প্রবেশদ্বার” কে জোরদার করে।

চোখ-ভিটামিন A রেটিনাল্ডিহাইড এ রুপান্তরিত হয় যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এটা রাতে আলো এবং অন্ধকারের মাঝে দেখার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। ভিটামিন A রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে, শুষ্ক চোখ এবং চক্ষু সংক্রান্ত রোগ যেমন, ক্যাটার‍্যাক্টস, গ্লুকোমা।

হাঁড় এবং দাঁত-  ভিটামিন A রেটিনয়েক অ্যাসিড এ রুপান্তরিত করে যা হাঁড় এবং দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য দায়ী। এটা জরাজীর্ন টিস্যু কে নতুন টিস্যু দিয়ে স্থানান্তর করে সুস্বাস্থ্যকর হাঁড় এবং দাঁত নিশ্চিত করার জন্য।

ইউরিনারী পাথর-মুত্রে কঠিন পদার্থ দ্রবন আকারে ভিটামিন A এর দ্বারা রাখা হয়। এই কঠিন পদার্থ পাথর গঠনে সহায়তা করে যা ব্যথা এবং মুত্রের প্রবাহের বাধার কারন হতে পারে। ইউরিনারী এলাকার প্রতিরক্ষামূলক আস্তরন খোলস উন্মোচিত হয় এবং পাথর গঠন করে।

ক্যান্সার-ভিটামিন A শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট হিসেবে পরিচিত। এটা স্বাস্থের সমস্যা দূর করে যেমন, অ্যান্থেরোস্ক্লেরোসিস, দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধক পালমুনারী রোগ এবং ক্যান্সার।

ত্বক-ভিটামিন A একটি যুদ্ধহীন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রেডিকেল যা ত্বককে নষ্ট করে দিতে পারে। ভিটামিন A প্রকৃত আদ্রতা ধারনক্ষমতা পরিচালনা করে, যা ত্বককে প্রচলিত শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে, কেরাটিনাইজেশন থেকে রক্ষা করে (এমন একটি প্রক্রিয়া যা এপিডার্মিসকে শক্ত করে যা চুল এবং নখকে গঠন করে) । এটা ব্রন এবং কুঁচন থেকে রক্ষা করে।

ভিটামিন A এবং গর্ভাবস্থাঃ

ভিটামিন A একটি ফ্যাট এবং আপনার বাচ্চার গর্ভাবস্থায় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন হয়। এটা অবশ্য হৃদযন্ত্র, বৃক্ক, ফুসফুস, এবং সংবহন, শ্বসন, এবং কেন্দ্রীয় নার্ভাস সিস্টেম কে গঠন করে। এটা যকৃতে সঞ্চিত থাকে এবং সংক্রমন প্রতিরোধ গঠন করে এবং ফ্যাট বিপাকে অংশ নেয়। ভিটামিন A বাচ্চা জন্মদানকারী মহিলার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত কারন এটা পোস্টপার্টাম টিস্যু পূনর্গঠন এবং সংক্রামন কে বাধা দেয়।

তবে,  আপনি অনেক বেশী ভিটামিন নিলে, আপনার গর্ভের বাচ্চার অনেক ক্ষতি হতে পারে। অতএব, যদি আপনি গর্ভবতী হয়ে থাকেন অথবা বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন তবে যকৃত এবং যকৃত সম্পর্কিত দ্রব্য এবং ভিটামিন A উপেক্ষা করা উচিত, যদিনা এটা চিকিৎসক দ্বারা পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

অতিরিক্ত ভিটামিন A কি ক্ষতি করতে পারে?

কিছু গবেষনা অনুযায়ী, অনেক বছর ধরে গড়ে ১.৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন A আপনার ক্ষতি করতে পারে। হাঁড় কে বয়স্ককালে ভঙ্গুর করে ফেলতে পারে।

বয়স্ক লোক, বিশেষ করে মহিলা যা ইতিমদ্ধেই অস্টিওপোরোসিস এর বিপদাশংক যুক্ত ।

এক্ষেত্রে আপনার হাঁড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে। যদি আপনি পর্যাপ্ত ভিটামিন D না পেয়ে থাকেন, আপনার ভিটামিন A এর ক্ষতিকর প্রভাব এ পরতে পারেন।

যাদের ভিটামিন D এর অভাব থাকবেঃ

  • সকল গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মহিলা
  • ৬৫ এবং তার উর্ধে সকল মহিলা
  • মানুষ যারা, অতিরিক্ত রৌদে না যায়, উদাহরনস্বরুপ, যারা তাদের ত্বককে ঢেকে রাখে অথবা যাদের কাজ ঘরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ।

অনেক মাল্টিভিটামিনেই ভিটামিন A থাকে। অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট যেমন মাছের তেলেও উচ্চমানের ভিটামিন A পাওয়া যায়। যদি আপনি ভিটামিন A সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট নিয়ে থাকেন, নিশ্চিত হউন যে আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন A এর পরিমান ১.৫ এর  বেশী নয়। যদি আপনি প্রত্যেক সপ্তাহে যকৃত খান তবে এমন সাপ্লিমেন্ট নিবেন না যাতে ভিটামিন A থাকে ।