• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মহেশখালীতে জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা, চরম বেকায়দায় জনপ্রতিনিধিরা

৯:২৭ অপরাহ্ন | সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

বিশেষ প্রতিবেদক, কক্সবাজার- আসন্ন ২৮শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট বেচা কেনায় বেপরোয়া আকার ধারন করেছে মহেশখালী উপজেলায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে রায় দিতে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

তথ্যসুত্রে জানা যায়, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে দলীয় কোন মনোনয়ন না হলে ও চতুর্দিকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পথে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভিড়। মহেশখালী উপজেলাতেও একই অবস্থা বিরাজমান।

সবচেয়ে অবাক করা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে কক্সবাজার আসনের সকল সরকার দলীয় সাংসদেরা তাদের পছন্দনীয় প্রার্থীকে জেতাতে তদবির শুরু করেছে বলে জানা যায়।

kkkজেলার মহেশখালী উপজেলা ও তার ব্যতিক্রম নয়। একটি বিশেষসুত্রে জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বারদের এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছেন দলীয় চাপে।

এমনকি ভোট কেনাবেচার জন্য স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যানদের গোপনে অার্থিক লেনদেন করার মতো অভিযোগ ও পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি এলাকার জনপ্রতিনিধিদের এক প্রকার জোর করে ২০ হাজার করে অর্থ গুজিয়ে দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিরা। আর এতে সাংসদ কতৃক দলীয় কোন্দলের বীজ রোপন করা হচ্ছে বলে আওয়ামীলীগের একাংশের অভিযোগ।

আর এসব কর্মকান্ড গোপনে লিপিবন্ধ করে কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে বলে জানান, মাঠ পর্যায়ে থাকা প্রতিনিধিরা। ফলে আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে বাধা হয়ে দাড়াবে এসব বিতর্কিত কর্মকান্ড এমন ধারনা করছেন অনেকে।

মহেশখালীর উপজেলা হতে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য মনোনয়নে দলীয় আর্শিবাদ পেতে স্থানীয় উচ্চ পদে থাকা সরকার দলীয় নেতাদের সাথে আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে মর্মে লোকেমুখে একটি খবর প্রচারিত হচ্ছে।

মহেশখালীর উত্তর দক্ষিণে ৪টি ইউনিয়নে ১লক্ষ ২৫ হাজার জনগনের কথা চিন্তা না করে সামান্য জেলা পরিষদ নিয়ে স্থানীয় সংসদের বাড়াবাড়ি করাটা, কোন জনপ্রতিনিধিরাই ভালো চোখে দেখছেন না।

যা আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচনে দলীয় ভাবে মারাত্বক বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি করবে বলে ধারনা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও একটি রাজনৈতিক সচেতনমহল। এমনকি তাদের এমন পরিস্থিতিতে দলীয় কোন্দল বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও ধারনা করেন তারা।

সারাদেশে নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে সরকার দলীয় সংসদেরা। যারা আইন প্রণেতা তাদের বিরুদ্ধে এমন গুরুত্বর অভিযোগ সত্যিই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন বিশিষ্টজনেরা। কোথা ও কোথায় সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা ও করা হচ্ছে।

গত ৩ বছরে এ রকম বিতর্কিত কর্মকান্ড ও মামলায় পড়ে আলোচিত সমালোচিত হয়েছেন প্রায় ২ ডজন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে দশম জাতীয় সংসদেরই এমপি রয়েছেন অন্তত ২০জন,এর মধ্যে বর্তমানে কারগারে দুজন। জামিনে রয়েছে কয়েকজন। এসব এমপির মধ্যে রয়েছে পুরনোরাও। আর এসব কর্মকান্ডের কারনে আগামীতে শতাধিক এমপি দলীয় মনোনয়ন বন্জিত হবে বলে আলোচনা হচ্ছে সর্বত্রেই।

কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও অপর দুই মহিলা ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যানসহ প্রথম স্তরের মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ২৪জন। ২য় স্তরের ৪ পৌরসভার ৪ মেয়র, ১২ মহিলা কাউন্সিলার ও ৩৬ পুরুষ কাউন্সিলারসহ মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৫২ জন। ৩য় স্তরের ৭২টি ইউনিয়নে মহিলা ও পুরুষ সদস্যসহ মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ১০১২ জন।

আগামী ২৮ ডিসেম্বর দেশের অন্যান্য ৬১ জেলার ন্যায় অনুষ্ঠিত হবে বহুপ্রতিক্ষিত এ জেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রধান বিরোধীদল বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কোন প্রার্থী না দেয়ায় সাবেক জেলা চেয়ারম্যান এএইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদের জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও আঞ্চলিকতার কথা বেশী উচ্চারিত হচ্ছে ভোটারদের মাঝে। চেয়ারম্যান প্রার্থী, মহিলা ও পুরুষ সদস্যরা বিজয় নিশ্চিত করতে চড়াদামে ভোট ক্রয়ের জন্য কোমর বেধেঁ মাঠে নেমেছেন। এখানে একটি ভোট লাখ টাকা পর্যন্ত বেচা বিক্রি হচ্ছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, জেলা পরিষদ নির্বাচনে মহেশখালী সাধারণ ওয়ার্ড-২ (হোয়ানক, কালারমারছড়া, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা ও শাপলাপুর) থেকে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার প্রার্থী হলেন। তারা হলেন, হোয়ানকের ইকবাল চৌধুরী, মাতারবাড়ির মাস্টার রুহুল আমিন, কালারমারছড়ার লুৎফুর রহমান ও ধলঘাটার কামাল উদ্দীন।

মহেশখালীর সাধারণ মানুষের এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি না হলেও জনগনের জনপ্রতিনিধিরা চরম বেকায়দায় বলে স্বীকার করেন কয়েকজন ইউপি চেয়ারমান।