বরগুনা জেলা পরিষদ নির্বাচন: ভোটের মাঠে উড়ছে টাকা

১:৩৩ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

মো. আবু সাইদ খোকন, আমতরী (বরগুনা) থেকে-  আগামীকাল বুধবার সারা দেশের মত বরগুনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহন। প্রশাসন সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে । সকাল থেকে ৯ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতীহিন ভাবে ভোট গ্রহন করা হবে বরগুনা জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসারের অফিস সূত্রে জানা গেছে। সব মিলিয়ে জমজমাট ভোটের মাঠ। এছাড়া ফেসবুকে প্রার্থীদের পক্ষে চালানো হচ্ছে ব্যাপক প্রচারণা।

wf7nyvm1qr23সরজমিন দেখা গেছে, জেলার সর্বত্রই এখন আলোচনার ঝড় বইছে নির্বাচন নিয়ে। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক সংসদ সদস্য মো.দেলোয়ার হোসেন ও জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি সাবেক এমপি জাফরুল হাসান ফরহাদ। সাবেক সংসদ সংসদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী। নির্বাচনে তিনি এগিয়ে রয়েছেন তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজ করছে জেলাজুড়ে। কোথাও কোনো শঙ্কা নেই। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আমি। আমি ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী। যেহেতু আমার দল ক্ষমতায় তাই আমি নির্বাচিত হলে উন্নয়ন বেশি হবে। ভোটাররা এটা বুঝেন। তাই অন্য দলের ভোটাররাও আমাকেই ভোট দেবেন।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জাফরুল হাসান ফরহাদ তিনি এ নির্বাচনে খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন না। কারণ তার প্রার্থিতা নিয়ে খোদ তার দল জাতীয় পার্টিতেই রয়েছে বিভ্রান্তি। তার সাথে এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিও কোন নেতাকর্মীকে দেখ যায়নি। তাই রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ইমেজের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছেন তিনি। জেলার ৪২ ইউনিয়ন ৬ টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করতে চলছে নানা কৌশল।

এছাড়া সদস্য পদের প্রার্থীরাও টাকা দিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রত্যেক ইউপি সদস্য কাউন্সিল কমপক্ষে ২৫-৩০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। নির্বাচনে ৭.৮.৯ নং ওয়ার্ডে ভোটারদের ম্যানেজ করতে উড়ছে টাকার বান্ডিল। চলছে প্রভাব বিস্তার যে যে ভাবে সে ভাবে ভোটার দের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন।

আমতলী উপজেলার ৩ ইউনিয়ন নিয়ে ৭ নং ওয়ার্ড গঠিত। ৪২ টি ভোটারের এ ওয়ার্ডে প্রার্থীর সংখ্যা তিনজন। এ ওর্য়াডে লড়ছেন ৩ জন প্রার্থী। তারা হলেন, মনিরুল ইসলাম দুলাল খান (হাতী) এ্যাডঃ মো.মিজানুর রহমান সিকদার (টিওবওয়েল) পরিতোষ কর্মকার (তালা)।

এদিকে ভোটারদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, হাতী ও টিওবওয়েবলের সাথে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা আছে। হাতী প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল ইসলাম দুলাল সকলের দোয়া ও ভোটারদের ভোট কামনা করেন। মনিরুল ইসলাম দুলাল খান নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আমতলী সদর ইউপির একজন ভোটার জানান প্রবীন ব্যক্তি হিসাবে এখানে ( হাতী) প্রতীকের মনিরুল ইসলাম দুলাল খানের জয়ের সম্ভাবনাই বেশী।

হলদিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, পচাঁকোলিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৯ নং ওর্য়াড ৩৯ টি ভোটারের এ ওয়ার্ডে লড়ছেন ২ জন প্রার্থী। তরুন আইনজীবি সদালপি সকলের প্রিয় এ্যাডঃ আরিফ উল হাসান আরিফ (তালা) মো. বাবুল পাটোয়ারী (হাতী) ভোটারদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, তরুন ও মেধাবী হিসাবে এ্যাড আরিফউল- হাসানের দিকে ঝুকে পড়ছেন ভোটাররা জানান এ ওয়ার্ডে আরিফ উল হাসানের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।

এ্যাডঃ আরিফ উল হাসানের কয়েকজন ভোটার জানান, হাতী প্রতীকের প্রার্থী বাবুল পাটোয়ারী ভোটারদের নগদ টাকা ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখাচ্ছেন। গুলিশাখালী, আঠারগাছিয়া, কুকুয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৮ নং ওয়ার্ড ৩৯ টি ভেটারের এ ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন ২ জন প্রার্থী। মো. আমিরুল ইসলাম সুমন (টিওবওয়েল) ও মো. নাসির উদ্দিন (তালা) এখানের ভোটাররা জানান, আমিরুল ইসলাম সুমন গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডঃ নুরুল ইসলামের পুত্র হওয়ায় ভোটের পাল্লা তার দিকেই বেশি।