• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। বিকাল ৫:৪৭মিঃ

তামারা স্যামসোনোভা: মানুষের কলিজাখেকো সিরিয়াল কিলার! (শেষ পর্ব)

৭:৪০ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬ চিত্র বিচিত্র, লাইফস্টাইল

তামারা স্যামসোনোভা

আরেফিন শিমন, লাইফস্টাইল, সময়ের কণ্ঠস্বর ।

প্রথম পর্বে রাশিয়ান সিরিয়াল কিলার তামারা স্যামসোনোভা ওরফে গ্রানি রিপারকে কিভাবে গ্রাফতার করা হয়েছে তা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছিল। এই পর্বে গ্রাফতারের পর তিনি হত্যাকান্ড কিভাবে করেছেন তার স্বীকারোক্তি সম্পর্কে আলোকপাত করা হল।

তামারা স্যামসোনোভা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর মৃতদেহের মস্তিস্ক, হাত-পা কেটে দেহ থেকে আলাদা করে ছড়িয়ে ফেলে দিতেন শহরের বিভিন্ন স্থানে। রাশিয়ার পুলিশের ধারনা, তামারা নিহতদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও খেয়েছেন। কারন উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির মস্তিষ্ক এবং কলিজা পাওয়া যেত না কখনোই। তিনি হত্যা করার  পর  মস্তিষ্ক ও কলিজা গুলো অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ থেকে আলাদা করতেন। এর পর কিভাবে সেগুলো খেয়েছেন এ সম্পর্কে তিনি কিছু বলেন নি ।

ডায়েরিতে একটি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে তামারা স্যামসোনোভা লিখেছেন, ‘আমি আমার ভাড়াটে ভলোদায়াকে খুন করেছি।তার মৃতদেহ  টয়লেটে নিয়ে ছুরি দিয়ে দুই টুকরো করেছি তাকে। তারপর প্লাস্টিক ব্যাগে করে সেগুলি ফ্রুনজেনস্কি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দিয়েছি।’

সবশেষ যে খুন করার পর তিনি ধরা পরেন, সেই মানুষটি ছিল তার বান্ধবী উলনোভা। চায়ের কাপ পরিষ্কার না করায় বান্ধবীর ওপর খেপেছিলেন তিনি।

গ্রানি- রিপারের বর্ননা মতে,  প্রথমে তার বান্ধবী উলনোভাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অজ্ঞান করেন তিনি।। যেহেতু চায়ের কাপ নিয়েই তার এই ক্ষোভ তাই  চায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন তামারা। ভেবেছিলেন এতে হয়তো তার মৃত্যু হবে। কিন্তু উলনোভা কেবল জ্ঞান হারিয়েছিলেন। ওই অবস্থায়ই তাকে হ্যাক্সো ব্লেড দিয়ে কেটে টুকরা টুকরা করেন তামারা।

গ্রানি রিপার জানিয়েছে সে সময় উলনোভা জীবিত ছিল। পরে এসব খণ্ডিত অংশ একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে সেন্ট পিটার্সবার্গের দিমিত্রোভা স্ট্রিটের কাছে একটি পুকুরে ফেলে দেন। উলনোভার দেহাবশেষ ফেলতে গিয়েই পুলিশের নজরে পড়ে যান তামারা। একই সড়কে ১২ বছর আগে এক ব্যবসায়ীর খন্ডিত দেহ পাওয়া গিয়েছিল। তামারা বাড়ি তল্লাশি করে ওই ব্যবসায়ীর ভিজিটিং কার্ড পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে অবশ্য দোষ স্বীকার করেছেন তামারা। তিনি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের জন্য তার প্রস্তুতি ছিল। শেষ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সবকিছুর সমাপ্তি তিনি টেনেছেন। গত বছর জুলাইয়ে ভয়ঙ্কর এই সিরিয়াল কিলারকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। তিনি আদালতে তার অপরাধ স্বীকার করে বলেছেন, “আমি অপরাধী তাই আমার শাস্তি পাওয়া উচিত।“

কিন্তু কেন তিনি এত গুলো খুন করেছেন এবং তাদের মাথা গুলো কোথায় রেখেছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছুই জানাননি। সবচেয়ে ভয়ংকয় ঘটনা হল ২০০৫ সাল  থেকে গ্রানি- রিপারের স্বামী নিখোঁজ হন। এখন ধারনা করা হচ্ছে তিনিই খুন করেছেন এবং শুধু খুনই না  খেয়েও  ফেলেছেন তার স্বামীকে!

পৃথিবীতে যুগে যুগে অনেক  সিরিয়াল কিলারের কথা জানা গেছে । তবে তামারা স্যামসোনোভার মত মস্তিষ্ক ও কলিজাখেকো সিরিয়াল কিলার বোধয় এই প্রথম। বর্তমানে তামারা স্যামসোনোভাকে রাশিয়ার জেলে রাখা হয়েছে। তিনি আদালোতে বলেছেন,’ আমার সব অপরাধ আমি স্বীকার করছি । আমার শাস্তি পাও্যা উচিত। আমি জেলেই মরতে চাই ।‘

তামারা স্যামসোনোভা শেষ খুনের পর লাশ নিয়ে বাসার বাহিরে যাওয়ার সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পরার সেই ভিডিওটিঃ https://youtu.be/jJCdF5TqxT4

সুত্রঃ ডেইলি মেইল ও ইন্টারনেট।

১ম অংশ পড়তে চাইলেঃ http://www.somoyerkonthosor.com/2016/12/26/80294.htm