• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১২:১৩মিঃ

ইসি গঠনে সাংবিধানিক কাউন্সিলসহ ৮ দফ প্রস্তাব ওয়ার্কার্স পার্টির

৭:০৮ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর – নির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন ও তার আলোকে সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি। রাষ্ট্রপতির সংলাপে বিএনপির সেনাবাহিনী-সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে ওয়ার্কার্স পার্টির আট দফা প্রস্তাবে মত দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে দলটি এসব প্রস্তাব দেয়। পার্টির সভাপতি রাশেদ মেননের নেতৃত্বে দলের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেয়। অন্য সদস্যরা হলেন সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরোর সদস্য বিমল বিশ্বাস, আনিসুর রহমান মল্লিক, নুরুল হাসান, মাহমুদুল হাসান মানিক, নুর আহমদ বকুল, হাজেরা সুলতানা, ইকবাল কবির জাহিদ, কামরুল আহসান ও মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

ফজলে হোসেন বাদশা পার্টির আট দফা লিখিত প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে দেন।

menon

ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করে, রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি আইন এক মাসের মধ্যে করা সম্ভব। ওই আইনে একটি সাংবিধানিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যেটি প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে গঠিত হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবগুলো হলো-

১. নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান তাই এর প্রতি তদ্রূপ মান্যতা ও মর্যাদা থাকতে হবে যাতে করে নির্বাচন পরিচালনা, তত্ত্বাবধানে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন পরিবেশে কাজ করতে পারে।

২. সংবিধানের ১১৮ বিধি বাস্তবায়নার্থে আইনের বিধানাবলি অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি আইন তৈরি করা। রাষ্ট্রপতি জরুরি ভিত্তিতে সংসদ অধিবেশন ডেকে বা অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় লাগতে পারে।

৩. প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারা নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠিত হবে। এই সাংবিধানিক কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগ করবেন।

৪. বিকল্প হিসেবে নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য বাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটি গঠন করবেন। প্রধান বিচারপতি, দুদক চেয়ারম্যান, মহাহিসাবরক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের নিয়ে এই সার্চ কমিটি গঠন হতে পারে। এ কমিটি কমিশনের প্রতিটি পদের বিপরীতে তিনজনের নাম প্রস্তাব করবে। সার্চ কমিটির দেয়া নামের তালিকা সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে যাচাই-বাছাই শেষে সংক্ষিপ্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে।

৫. নির্বাচন কমিশনের সদস্য হবে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট, যার মধ্যে দুজন নারী সদস্য থাকবেন।

৬. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার যে প্রস্তাব বিএনপি বা অন্য দল দিয়েছে, তা কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়।

৭. যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত বা কোনো সাম্প্রদায়িক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সব পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রস্তাবিত আইনে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৮. নির্বাচনে টাকার খেলা, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপ আইনে নিষিদ্ধ থাকতে হবে।