• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে অগ্নিদগ্ধ নাসরিন

৮:৫০ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় ও জুয়া খেলতে বাধা দেওয়ায় টাঙ্গাইলের নাসরিনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আগুনে ঝলসানো নাসরিন টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে সাত নম্বর ওয়ার্ডে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে অসহায় মেয়েটি।

এ বিষয়ে নাসরিনের স্বামীর এলাকা ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ১১ (খ)/৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহার এবং পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর পূর্বে ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার চর-কালিবাড়ি মধ্যপাড়া গ্রামের মো. মরতুজ আলীর পুত্র সাদ্দাম হোসেন (২৮) এর সাথে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সন্তোষ বালুচরা গ্রামের অটোরিক্সা চালক মো. নাসির উদ্দিনের মেয়ে নাসরিনের (২২) বিয়ে হয়।

tangial_newsবিয়ের এক বছর তাদের ঔরষে এক কন্যা সন্তান সাদিয়া (৪) জন্ম গ্রহণ করে জীবীত আছে। বিয়ের একবছর পর থেকেই নাসরিনের স্বামী, স্বামীর বড় ভাই জামাল হোসেন ও তার নোনাশ তাকে যৌতুকের টাকার জন্য বিভিন্ন সময়ে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ ডিসেম্বর নাসরিন তার স্বামীকে জুয়া খেলতে যেতে বাধা দেয়ায়, তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়।

এর রেশ ধরে তার স্বামী সাদ্দাম যৌতুকের টাকার বাহানা করে তাকে মারধর শুরু করে। ওই সময় নাসরিনের শরীরে তার স্বামী সাদ্দাম ও তার বড় বোন খুশি কাপড়ে আগুন ধরিয়ে নাসরিনের শরীরে লাগিয়ে দেয়।

এতে নাসরিন গলা ও পেটসহ শরীরের বেশির ভাগ অংশই পুড়ে যায়। নাসরিনের আর্তচিৎকারে আশে পাশের প্রতিবেশিরা এসে তাকে উদ্ধার করে তার শরীরে আগুন নিয়ন্ত্রন আনে। ওইসময় সকলের সহযোগিতায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে টাঙ্গাইল থেকে নাসরিনের মামা বাবলু ও পিতা নাছির উদ্দিন ময়মনসিংহ হাসপাতালে গিয়ে নাসরিনকে বাদি করে কোতোয়ালি থানায় তিন জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন নাসরিনের স্বামী সাদ্দাম হোসেন (২৮), সাদ্দামের বড় বোন খুশি বেগম (৪৫), বড় ভাই জামাল হোসেন (৩৫)।

ময়মনসিংহ হাসপাতালে থাকাবস্থায় নাসরিনের পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দেয়ায়, নিরাপত্তাহীনতায় এবং আর্থিক সংকটের কারনে নাসরিনের পিতা নাসির উদ্দিন ও তার মামা বাবলু নাসরিনকে মুমূর্ষ অবস্থায় টাঙ্গাইল নিয়ে আসেন। লোক মুখে বিনা মূল্যে আইনী সহায়তার কথা শুনে নাসরিনকে নিয়ে তার বাবা ২৬ ডিসেম্বর সোমবার বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাষ্ট (বাস্ট) টাঙ্গাইল ইউনিট অফিসে আসেন। বাস্ট টাঙ্গাইল ইউনিটের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সহযোগিতায় মেয়েটিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ (সদর) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন তৎক্ষনাৎ নির্যাতিত ও অগ্নিদগ্ধ নাসরিনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক রতন সিদ্দিকী, মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক অন্তু দাস হৃদয়, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন টাঙ্গাইল জেলা শাখার নির্বাহী সভাপতি নাসরিন জাহান খান বিউটি, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন টাঙ্গাইল পৌর শাখার সভাপতি মো. রাশেদ খান মেনন (রাসেল), মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমাজ সেবা কর্মকর্তা নাসিমা আক্তারসহ অন্যান্য মানবাধিকার কর্মীগণ।