সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পাবনার ৪৮১টি বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ

২:৫৭ পূর্বাহ্ন | বুধবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

h


পাবনা প্রতিনিধি:

হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পাবনার ৪৮১টি বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্র জানায়, পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার ৭৪টি ইউনিয়ন ও ৯টি পৌরসভার অধীনে ৪৮১টি বিদ্যালয়ের ২৩ হাজার এসএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে। ফরম পূরণের জন প্রতি ৮০০ টাকা অতিরিক্ত হিসাবে প্রায় ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ফি আদায় করছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত ফি নির্ধারন করে দিয়েছেন। বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১৭৮৫ টাকা, মানবিক বিভাগের জন্য ১৬৯৫ টাকা ও ব্যবসায়িক শিক্ষা বিভাগের জন্য ১৬৯৫ টাকা ধার্য্য করেছেন। প্রতি বিষয়ের জন্য ৮০ টাকা, ব্যবহারিক ফি ৩০ টাকা, একাডেমিক ফি ৩৫ টাকা, মূল সনদপত্র ফি ১০০ টাকা, বয়স্কাউট ও গালর্স গাইড ফি ১৫ টাকা, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫ টাকা, কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকাসহ বোর্ড ফি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু স্কুল কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক দূর্নীতির আশ্রয় গ্রহন করে হাইকোটের রায় অমান্য করে নিজেদের মনগড়া ও অনৈতিক উপায়ে ৪৮১টি বিদ্যালয় থেকে বোর্ড ফি ১৭৮৫ টাকার স্থলে প্রায় ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছে। সরকারী ৩টি বিদ্যালয়, বেসরকারী ২৯৭টি বিদ্যালয় ও দাখিলী মাদ্রাসা ১৮১টি।

অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এক ভয়ংকর কালোচিত্র। জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারী, মার্চ সহ ৩ মাসের অগ্রীম বেতন ৪২০ টাকা, সেশন ফি ৫০০ টাকা, স্কুল উন্নয়ন ফি ৫০০ টাকা, খেলাধুলার ফি ২০০ টাকা, মিলাদ ও পুজা ফি ১০০ টাকা, স্কাউট ফি ১০০ টাকা, বিদ্যুৎ ও ভূমি রাজস্বকর ১২০ টাকা, অনলাইনে ফরম পুরণ ফি ৫০ টাকা, শিক্ষা বোর্ডের যাতয়াত ফি ১৫০ টাকা, বিবিধ ফি ১১০ টাকাসহ আদায় করা হচ্ছে।

পাবনা সদর, সুজানগর, সাঁথিয়া, বেড়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, আটঘড়িয়া ও ঈশ্বরদী উপজেলাসহ ৯টি উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যোগসাজশে এ সব অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। গরীব দুঃখী ও অসহায় অভিভাবকেরা তাদের ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষার ফি জমা দানের জন্য গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগী, ধান, পাট সহ ফসলী জমি বন্ধক রেখে ও বিভিন্ন এনজিও থেকে উচ্চ হারে ঋন নিয়ে ফরম পুরণের অতিরিক্ত ফি এর টাকা জমা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৎসর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক অতিরিক্ত টাকা আদায়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার মত অনেক ঘটনা ঘটেছে। এরপরও দূর্নীতিবাজ শিক্ষকেরা তাদের দূর্নীতি থেকে সরে আসেনি।