সংবাদ শিরোনাম

খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট নিয়ে যা বললেন চিকিৎসক২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন কাদের মির্জাটাঙ্গাইলে ভন্ড পুরুষ কবিরাজ নারী সেজে যুবককে বিয়ে! অতঃপর…ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ঢাকা ভ্রমণ!শেরপুরের সেই শিশু রোকনের পরিবারের পাশে ইউএনও!কক্সবাজারে অস্ত্রসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতারকক্সবাজারে অনুপ্রবেশকারীর পক্ষ না নেয়ায়, আ’লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি!শাহজাদপুরে ট্যাংকলরি সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১রমজান মাসে আলেমদের হয়রানি মেনে নেয়া যায় না: নুরুল ইসলাম জিহাদীখালেদা জিয়াকে পাকিস্তান-জাপান দূতের চিঠি

  • আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্য বাদ্যযন্ত্র ঢাক-ঢোল,ঐতিহ্য ধরে রাখতে দুই ভাইয়ের লড়াই

৬:০৬ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬ ইতিহাস-ঐতিহ্য, রংপুর

as


অনীল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) থেকে:

আগের দিনের মত আর দেশীয় সংস্কৃতি বাদ্যযন্ত্রের তেমন চাহিদা নেই। যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশীয় সংস্কৃতি বাদ্যযন্ত্র ঢাক,ঢোল,কর তাল,তবলা। তবে অনেক কষ্ট করে বাপ-দাদার পেশা হাল ধরেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা বাদিয়ার টারীর গ্রামের অতুল চন্দ্র নট্টের দুই ছেলে রতন চন্দ্র নট্ট(৩৮) ও স্বপন চন্দ্র নট্ট(৩০)। দুই ভাই জানান, জন্মের পর থেকে দাদা পচা চন্দ্র নট্ট  ও বাবা অতুল চন্দ্র নট্টের  কাছ থেকে এই বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করতে শিখে তারা  পরে আস্তে আস্তে এই বাদ্যযন্ত্র তৈরী করতে শিখিয়েছেন। এক সময়ে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা অনেক গুনে বেশি ছিল।

এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তাল দিতে না পেরে তাদের মুল ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে দ্বাড়িয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রথমে বাপ-দাদরাই এ পেশা  শরু করেন দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের তৈরী ও মেরামতের কাজ। যেমন- ঢাক-ঢোল,করকা,খোল,তবলা,একতারা,খমর,দো-তারা,ঢোলকসহ সাইড ড্রাম। বাবা অতুল চন্দ্র নট্ট বয়স বাড়ার কারণে ঠিকমত চলতে ফিরতে না পারায় দুই ভাই রতন চন্দ্র নট্ট ও স্বপন চন্দ্র নট্ট বাবার ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন। বাড়ীর পার্শ্বে বালার হাট বাজারে ছোট একটি রুম ভাড়া নিয়ে দুই ভাই মিলে বাদ্যযন্ত্র তৈরী ও মেরামতের পরিচালনা করছে। বর্তমানে এ পেশায় কাজ করে তাদের দুই ভাইয়ের সংসারের ভরণ-পোষণ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, বছরে তিন মাস আশ্বিন,কার্ত্তিক,অগ্রাহয়ন মাস কাজে চাপ থাকে।

এই তিন মাসেই হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিভিন্ন স্থানে  অষ্টপ্রহরসহ প্রতি বাড়ীতে ও মন্দিরে হরিনাম কীর্তন করে বেড়ায় এরাই মূলত দেশীয় সংস্কৃতি বাদ্যযন্ত্রের ক্রেতা । এ ছাড়াও নিজস্ব বাসা বাড়ীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের লোকেরা কিছু কিছু বাদ্যযন্ত্র তৈরী করে ও মেরামত করে থাকেন। প্রতিটি খোল নতুন করে তৈরী করে ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দুই হাজার পাঁচ শত টাকা থেকে চার হাজার টাকা। তবলা বিক্রি করে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা । সাইড ড্রাম তৈরীতে চার হাজার টাকা । দো-তারা তৈরীতে চার হাজার টাকা। জিপাসি তৈরীতে আট শত টাকা। । গোপি যন্ত্র(খমক) ছয় শত টাকা। এ ছাড়াও শিশুদের জন্য বাদ্যযন্ত্র খেলনা সামগ্রী তৈরী করে থাকে ।

বাদ্যযন্ত্র তৈরীর  কাঁচামাল গুলো রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলা থেকে নিয়ে আসায় খরচ অনেকটা বেশি হয়। খোল,সাইড ড্রাম,দো-তারা তৈরীতে সময় লাগে চার থেকে পাঁচ দিন। অন্যন্যা বাদ্যযন্ত্র তৈরী সময় লাগে দুই থেকে তিন দিন। রতন চন্দ্র নট্ট ও স্বপন চন্দ্র নট্ট জানান, উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতাদের দেশীয় বাদ্যযন্ত্র তৈরীতে বছরে এই তিন মাস কাজ করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা কোন রকমে আয় হয় এবং আবার খরচ আছে। তারা দুই ভাই এ পেশার পাশপাশি বাদ্যযন্ত্র বাদক হিসাবে জেলা উপজেলায় ব্যাপক আলোরণ সৃষ্টি করেছে।

বছরের বাকি নয় মাস জেলা উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান,নীলা কীর্তন,বিয়ে বাড়ীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বাদক(শিল্পী) হিসাকে কাজ করে জীবন-জীবীকা নির্বাহ করে। সানাইসহ সব বাদ্যযন্ত্রের শিল্পী হিসাবে পরিচিত। তারা এই দুই ভাই জীবন বাঁচার তাগিদে কট্টর পরিশ্রম করে জীবন যুদ্ধের লড়াকু সৈনিক হলেও  উপজেলার বাদ্যকার সস্প্রদায়ের একশ ঘর পরিবারের অবস্থা একবারেই ভাল নেই।

এ ব্যাপারে নাওডাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপক আব্দুল হানিফ সরকার,প্রভাষক হামিদুল ইসলাম হিমু ও ডাঃ নির্মল চন্দ্র বর্মন জানান,দেশীয় সংস্কৃতি বাদ্যযন্ত্র গুলো ধরে রাখতে হলে আধুনিকায়ন খুবেই জরুরী,তেমনি জরুরী সরকারের নেক দৃষ্টি। সেই সাথে বাদ্যকার সম্প্রদায়ের পরিবার গুলোতে খোঁজ-খবর নেওয়া। তা না হলে একদিন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢাক-ঢোল, তবলা,একতারা,দো-তারা,বিলীন হয়ে যাবে।