সংবাদ শিরোনাম

‘তালা ভেঙ্গে মসজিদে তারাবি পড়ার চেষ্টা্’‌, পুলিশের বাধায় সংঘর্ষে মুসল্লিরা‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’; তিনটি মুরগি চুরির দায়ে দেড়লাখ টাকার জরিমানা চার তরুণের!কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদী শুকিয়ে গেছে, হুমকীতে জীব-বৈচিত্রহেফাজতের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তারমধুখালীতে বান্ধবীর সহায়তায় অচেতন করে দফায় দফায় ধর্ষণের শিকার নারী!বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে চায়ের স্টলে ইতালি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যাগোবিন্দগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দূঘর্টনায় স্কুল শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহতময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা গেলো ৩ শিশুমুহুর্তেই ভয়াবহ আগুন! স্কুলেই পুড়ে মরলো ২০ শিশু শিক্ষার্থী!সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু আর নেই

  • আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার আর সেন্টমার্টিন ট্যুরের ভ্রমণনামা (১ম পর্ব)

৯:০৭ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬ লাইফস্টাইল

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

মেহেদী হাসান গালিব, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

বিকেল চারটায় যাত্রা শুরু হবার কথা থাকলেও যাত্রা শুরু হল পাঁচটায়। গন্তব্য কক্সবাজার। হায়ার করা হয়েছিল শ্যামলি বাস। খুব সম্ভবত ড্রাইভার সাহেবের মেজাজ একটু গরম ছিল। ফলস্বরুপ তিনি বেশ রাফভাবে ড্রাইভ করছিলেন। আমি কানে হেডফোন গুঁজে জানালা খুলে দিলাম। একমাসের সঞ্চিত চুলগুলো আমার পুরো মাথাজুড়ে উড়োউড়ি শুরু করল।

কিন্তু রাফভাবে ড্রাইভটা অনেকেরই সহ্য হল না। বাসে বমির হিড়িক পড়ে গেলো। প্রথম বমি হল আমার সামনের সীটে বসা একটি মেয়ের। কিছুক্ষণ পরপরই সে বমি করতে লাগল। ভাগ্য অত্যন্ত সুপ্রসন্ন ছিল বিধায়ই আমার তখন বেশ সর্দি-কাশি ছিল। তাই বিন্দুমাত্র গন্ধ টের পাচ্ছিলাম না। সর্দির কারণে অবশ্য পুরো ভ্রমণে আরো বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছি। পুরো লেখাটি পড়লে পাঠকরা সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন সর্দির মতো বিরক্তিকর একটি অসুখ কীভাবে উপকারে আসতে পারে।

পুরো রাস্তা ধরে মেয়েটি বমি করল। একটু সময়ের জন্য বিশ্রাম নিয়ে আবার শুরু হতো। এই নোংরা কাজটি দেখার কোন মানেই হয় না। কিন্তু কেনো যেনো চোখ বন্ধ রাখতে পারছিলাম না। প্রতিবার বমি শেষে মেয়েটির বাবা মেয়েটির মাথা নিজের কাঁধে টেনে নিচ্ছিলেন আর মাথায় হাত বুলিয়ে পরম যত্নে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছিলেন। বাবা-মেয়ের কী পবিত্র এক সম্পর্ক! মেয়েটি এতোবার বমি করা সত্ত্বেও বাবার মধ্যে বিন্দুমাত্র কোন বিরক্তির ছাপ নেই। বরং তিনি প্রতিবার নতুন উদ্যমে মেয়ের যত্ন করে চলেছেন।

গাড়ি তার আপন গতিতে এগিয়ে চলতে লাগল। গাছপালা, ঘরবাড়ি সবকিছু পেছনে ফেলে আমরা ছুটতে লাগলাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। এর মাঝে বেশ কয়েকবার আমার ছাড়াছাড়া ঘুম হল। মাঝরাতে যখন ঘুম ভাঙলো তখন লক্ষ্য করলাম বেশ ক্ষিধে পেয়েছে। মোবাইল বের করে গুগল ম্যাপে দেখে নিলাম ফুড ভিলেজ আর কতদূর। আর মাত্র কয়েক মিনিট লাগবে দেখে আশ্বস্ত হলাম। কিন্তু ফুড ভিলেজের সামনে এসে গাড়ির গতি বিন্দুমাত্র কমার লক্ষণ না দেখে যারপরনাই হতাশ হলাম।

আমি আবার এমন হতাশ পেট নিয়ে জার্নি করতে পারিনা। অনেকের বেশি খেলে বমি হয়। কিন্তু আবার ক্ষেত্রে বিষয়টা একদম উল্টো। কম খেলেই পেটে যেনো বজ্রপাত হতে শুরু করে। শিরা-উপশিরায় প্যাঁচ লেগে যায়। কিন্তু করুণ চোখে চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে ফুড ভিলেজকে একনজর দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। এরপর শুরু হল অপেক্ষার পালা।

জানালা দিয়ে তাকিয়ে একের পর এক রেস্টুরেন্ট দেখতে লাগলাম আর ভাবতে লাগলাম এবারই বুঝি গাড়ি থামবে। কিন্তু প্রতিবারই আমার হতাশ পেট আরো হতাশ হতে লাগল। এভাবে কেটে গেলো এক কী দেড় ঘন্টা। অতঃপর শেষমেশ গাড়ি একটি রেস্টুরেন্টের সামনে এসে থামলো।

খাওয়াদাওয়া শেষে ফুরফুরে মেজাজে গাড়িতে উঠে বসলাম। মনে মনে বললাম, ‘এবার না জার্নির আসল মজা পাওয়া যাবে!’ কানে হেডফোন গুঁজে ফুল ভলিউমে গান ছেড়ে দিলাম। নজরুলগীতি— ‘সখী, সে হরি কেমন বল?’ গান শুনতে শুনতে জানালা দিয়ে রাতের দৃশ্য উপভোগ করতে লাগলাম। প্রায়ই রাস্তার ধারের বড় বড় বিল্ডিংগুলোর আলোকসজ্জা চোখে পড়ছিল। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিল্ডিংগুলো সাজানো হয়েছিল লাল আর সবুজ রঙের মরিচ বাতি দিয়ে। আঃ! কী অপরুপ সে সৌন্দর্য!

ঢাকা পার হতেই আর কোন বিল্ডিয়ে আলোকসজ্জা চোখে পড়ল না। সম্ভবত এদিককার মানুষদের মধ্যে দেশপ্রেমের একটু অভাব রয়ে গেছে। আবার হতে পারে এরা প্রেম, ভালোবাসা প্রকাশে তেমন একটা আগ্রহী নয়। এসব আগপাছ ভাবতে ভাবতেই সীটে হেলান দিয়ে চোখ বুজলাম। কখন ঘুমিয়েছিলাম আর কখন উঠেছিলাম তা সঠিক মনে নেই।

তবে এরপর আমাদের গাড়ি থামলো ইনানী রিসোর্টে। চকরিয়ার একটি রেস্টুরেন্ট। চট্টগ্রাম পার হয়ে কক্সবাজারের একটি অংশ হল চকরিয়া। ঘড়িতে তখন খুব সম্ভবত নয়টা বাজে। সকালের স্নিগ্ধ আলোয় চারপাশের পরিবেশটা বেশ মনোমুগ্ধকর লাগছিল। ক্ষিধের কারণে সবাই দুটো করে পরোটার অর্ডার দিলাম।

আমি মনে মনে ভাবছিলাম দুটো বুঝি কমই হয়ে যাবে। কিন্তু ভুল ভাঙলো যখন ওয়েটার বিশাল দুটো পরোটা এনে টেবিলে রাখলো। আমার কি আর জানা ছিল যে রংপুরের দুটো পরোটার সাইজ ওদের একটা পরোটার সমান? তাই কোনরকমে একটা পরোটা গলাধঃকরণ করে আরেকটা পরোটার অসহায় দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে গাড়িতে গিয়ে বসলাম।

আমাদের চলার পথ ততক্ষণে ঘিরে ধরেছে রাস্তার দুপাড়ের ছোট ও মাঝারি আকারের পাহাড়। এরপর আরো তিনঘণ্টার জার্নি শেষে আমরা পৌঁছলাম কক্সবাজারের কলাতলী রোডে। উঠলাম পূর্ব নির্ধারিত হোটেল, সী-আলিফে।