• আজ বৃহস্পতিবার। গ্রীষ্মকাল, ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১২:২০মিঃ

হারের রেকর্ড গড়ে বছর শেষ করলো পাকিস্তান!

২:৫৫ অপরাহ্ন | শুক্রবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬ খেলা, স্পট লাইট

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক – এমন পরাজয় হবে ভাবতেও অবাক। এরপরও বাস্তবে ঘটেছে এমন ঘটনা।

টানা পাঁচ টেস্ট হেরে হারের লজ্জার রেকর্ড গড়েছে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট সহ টানা পাঁচ টেস্ট হেরে ১৯৯৯-০০ মৌসুমে এত টেস্ট হারের রেকর্ড স্পর্শ করেছে দলটি।

প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনেকটা লড়াই করেই হারে পাকিস্তান। তবে দ্বিতীয় টেস্টে লড়াই তো দূরের কথা ধারেকাছেই ভিড়তে পারেনি পাকিস্তান।

এ টেস্টে পঞ্চম দিনে হারের আগ পর্যন্ত চতুর্থ দিন শেষে মোটেও অনুমান করা যায় নি কেমন হতে পারে ফল। কারণ দুই দলের প্রথম ইনিংসও শেষ হয়নি চতুর্থ দিনেও। মেলবোর্ন টেস্ট পঞ্চম দিনে স্টার্ক-লায়নদের বোলিং তোপে খড়কুটোর মত উড়ে গেল পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়াকে খেলতে হয় নি দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১৮ রানে হারিয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্টিভ স্মিথের দল।

aus_pak

এ টেস্ট মিসবাহদের যেখানে লজ্জার রেকর্ড রেকর্ড, স্মিথরা রেকর্ড গড়েছেন জয়ের আগে। মেলবোর্নে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের ৮০ বছর পুরোনো রেকর্ডটা ভেঙে দিয়েছেন। ৬ উইকেটে ৪৬৫ রান নিয়ে শুক্রবার দিন শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া, নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে ৮ উইকেটে ৬২৪ রান নিয়ে। মেলবোর্নে এক ইনিংসে এর চেয়ে বেশি রান আর নেই। পেছনে পড়ে গেছে ১৯৩৬/৩৭ অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ারই গড়া ৬০৪ রানের রেকর্ড।

অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্মিথ চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার সেঞ্চুরি পূর্ণ করার ঠিক পরেই বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এরপর ১০০ থেকেই শুরু করে ইনিংসটাকে স্মিথ টেনে নিয়ে গেছেন ১৬৫ পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত ছিলেন অপরাজিত। ব্যাটিংয়ে তাকে সঙ্গ দিয়েছেন ফাস্ট বোলার হিসেবে দলে স্থান করে নেওয়া মিশেল স্টার্ক। আটে নেমে ৯১ বলে করেছেন ৮৪ রান, যাতে চার ৩টি, ছক্কা ৭টি। আর কেবল ব্যাটিংই নয়, নিজের মূল কাজ বোলিংয়ে নিয়েছেন চার উইকেট।

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ৪৪৩ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়ার ৬২৪—ইনিংস হার এড়াতেই ১৮১ রান করতে হতো পাকিস্তানকে। আরও স্ফজ কাজ ছিল পঞ্চম দিনে অলআউট না হয়ে ম্যাচ ড্র করে দেওয়া, কিন্তু কিছুই করতে পারে নি পাকিস্তান।

অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক ও হ্যাজলউড পাঁচ ওভারের মধ্যে ৬ রানেই পাকিস্তানের ওপেনার সামি আসলাম ও তিনে নামা বাবর আজমকে ফিরিয়ে দেন। এরপর মিডল অর্ডারকে ধসিয়ে দেন নাথান লায়ন। তৃতীয় উইকেটে ওপেনার আজহার আলীর সঙ্গে ইউনিস খানের ৫৭ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছিল পাকিস্তান, সেই জুটি ভেঙেই নিজের কাজ শুরু করেন লায়ন। শেষ পর্যন্ত ১৪ ওভার বল করে তিন উইকেট নিয়েছেন এই অফস্পিনার।

লায়নের ঘূর্ণিতে ৮৯ রানেই ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ওপেনার আজহার আলী ব্যক্তিগত ৪৩ রানে আউট হয়ে যান হ্যাজলউডের বলে। সরফরাজ আহমেদ ৪৩ করে আউট হন।