সংবাদ শিরোনাম

খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট নিয়ে যা বললেন চিকিৎসক২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন কাদের মির্জাটাঙ্গাইলে ভন্ড পুরুষ কবিরাজ নারী সেজে যুবককে বিয়ে! অতঃপর…ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ঢাকা ভ্রমণ!শেরপুরের সেই শিশু রোকনের পরিবারের পাশে ইউএনও!কক্সবাজারে অস্ত্রসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতারকক্সবাজারে অনুপ্রবেশকারীর পক্ষ না নেয়ায়, আ’লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি!শাহজাদপুরে ট্যাংকলরি সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১রমজান মাসে আলেমদের হয়রানি মেনে নেয়া যায় না: নুরুল ইসলাম জিহাদীখালেদা জিয়াকে পাকিস্তান-জাপান দূতের চিঠি

  • আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

৩:৫৮ অপরাহ্ন | শুক্রবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

মো: শফিকুল ইসলাম মতি, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: নরসিংদী জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুল মতিন ভূঁইয়া। এতে বেশ উজ্জীবিত দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা হয়ে থাকা সংসদ সদস্য রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজুর অনুসারীরা। কেননা নির্বাচনে তাঁদের পছন্দের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো: আসাদোজ্জামান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আসাদোজ্জামান ছিলেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী। কিন্তু তাঁর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া।

মতিনকে সমর্থন দেন নরসিংদী-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হীরু, নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, পলাশের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আশরাফ খাঁন দিলীপ ও নরসিংদীর পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল। আর আসাদোজ্জামানকে সমর্থন দেন সাবেক টেলিযোগাযোগমন্ত্রী নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজু, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো: সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।

norsingdiদলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আইয়ুব খাঁন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এস এম কাইয়ূম ও নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোন্তাজ উদ্দিন ভূঞা। নির্বাচনে জেতায় রাজুর অনুসারীরা এখন নতুন করে উজ্জীবিত। এখন থেকে দলীয় সভা-সমাবেশ করা এবং মাঠে সরব থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে নরসিংদীর পৌরসভার মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকান্ড ও মামলাকে ঘিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে জেলা আওয়ামী লীগ। এরই সুবাধে এক সময় জেলার নেতৃত্ব দেওয়া রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজু দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও মন্ত্রিত্ব দুটোই হারান। অপরদিকে সদরের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হীরু প্রথমে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক হন তাঁর সমর্থিত আবদুল মতিন ভূঞা। একই সঙ্গে ছয়টি উপজেলার মধ্যে রায়পুরা ছাড়া সব কয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগে স্থান পান তাঁদের দুজনের সমর্থক নেতারা। সেই হিসেবে নরসিংদী সদর, পলাশ, মনোহরদী, বেলাব ও শিবপুর ছিল আবদুল মতিন ভূঞার ভোট ব্যাংক।

অপরদিকে শুধু রায়পুরা ছিল অ্যাডভোকেট আসাদোজ্জামানের ভোট ব্যাংক। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নরসিংদী সদর উপজেলার ব্রাহ্মন্দী কে কে এম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, ভগীরথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পলাশ উপজেলার আদর্শ শিশু শিক্ষা নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন থেকে আবদুল মতিন ভূঞা বিজয়ী হয়েছেন। চালাকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই প্রার্থীই সমান ভোট পেয়েছেন। বাকি ১০টি কেন্দ্রে অ্যাডভোকেট আসাদোজ্জামান ৫৩৮ ভোট পেয়ে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হন। আর প্রতিদ্বনদ্বী প্রার্থী আবদুল মতিন ভূঞা পান ৪৪৭ ভোট। কেন্দ্রভিক্তিক এই ফলাফলে হতাশ বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মতিন ভূঞা। কারণ পলাশ ও মনোহরদী ছাড়া সদর, শিবপুর ও বেলাব উপজেলা থেকে কাক্ষিত ভোট পাননি তিনি। এ কারণে তিনি আস্থাভাজনদের বিশ্বাসভঙ্গকে দায়ী করেছেন। আবদুল মতিন ভূঞা সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাছের লোকদের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য আমি পরাজিত হয়েছি। তারা টাকার কাছে নিজেকে বিক্রি করেছে। তাদের বিষয়ে আমি প্রতিমন্ত্রীকে বলব। আগামীতে তাদের ওপর আস্থা রাখলে আমাদের আরো বড় খেসারত দিতে হবে।’ মতিন ভূঞা বিরোধী শিবিরের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘দলে তাদের কোনো টিকেট (পদ) নাই। টিকেট আমাদের হাতেই।

মাঠে আমরাই থাকব।’ নিজের বিজয়কে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বিজয় আখ্যায়িত করে নরসিংদী জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আসাদোজ্জামান বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে আস্থা রেখে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এ বিজয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিজয়। এই বিজয়ের ফলে আগামী দিনে অবশ্যই নরসিংদীর ত্যাগী-বঞ্চিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দল পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।’ আসাদোজ্জামান বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছর জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।’