• আজ মঙ্গলবার। গ্রীষ্মকাল, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৮:০০মিঃ

অবশেষে নাটকীয় সেই রান আউট প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ইমরুল ও সাব্বির!

৪:৪৯ অপরাহ্ন | শুক্রবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬ খেলা, স্পট লাইট

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক – নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৫২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বাংলাদেশ যখন ১ উইকেটে ১০৫, ঠিক তখনই ভূতুড়ে এক রান আউটের কান্ড ঘটে মাঠে। আর এটা দিয়েই ধসের শুরু। ১০ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশ হয়ে যায় ৭ উইকেটে ১৪১। অলআউট ১৮৪ রানে।

রান আউটটি এতই বিভ্রান্তিকর ছিল যে শুরুতে হাঁটা শুরু করেছিলেন ইমরুল। তাকে থামান আম্পায়াররা। সিদ্ধান্ত নেন টিভি রিপ্লে দেখে। যেখানে দেখা যায়, স্ট্রাইক প্রান্ত থেকেও দৌড়ে গিয়ে আগে ক্রিজে পৌঁছে গেছেন ইমরুল। খুব কাছে থেকেও আগেভাগে ক্রিজে ব্যাট আনতে ভুলে গিয়েছিলেন সাব্বির। পারেননি শেষ মুহূর্তে।

শুরুতে ড্রেসিং রুমে ফেরার সময় পেছন ফিরে সাব্বিরকে কিছু বলছিলেন ইমরুল। রিপ্লে দেখে পরে যখন আউট দেওয়া হলো সাব্বিরকে, এবার তার বিস্ময়ের শেষ নেই!

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, ওই রান আউটেই ঘুরে গেছে মোড়। নিউ জিল্যান্ডের সেঞ্চুরিয়ান নিল ব্রুমও একমত। ম্যাচের পর থেকে সেই রান আউট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়ছে তুমুল।

তবে ইমরুল ও সাব্বির দুজনই সেটি পেছনে ফেলে তাকাতে চাইছেন সামনে। শুক্রবার নেলসনের টিম হোটেলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভুলটা মেনে নিলেন ইমরুল।

sabbir-imrul-run-out

সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে চাইলে সাব্বিরের কপট রাগ, ‘না, ওনার সঙ্গে আমার কোনো ছবি তুলবেন না। উনি আমাকে রান আউট করে দিয়েছে।’ পরে আবার ঠিকই নিজের সানগ্লাসটা পরে ইমরুলকে ছবি তুলতে দিলেন।

নিজের রান আউটটাকে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা মনে করলেও এটাকে খেলার অংশ বলেই মেনে নিতে চান সাব্বির, ‘আমার একটাই চিন্তা ছিল, কীভাবে ম্যাচটা জেতাতে পারব। কীভাবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দলকে এগিয়ে নিতে পারব। রান আউটটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়ে গেছে। খেলায় এ রকম হতেই পারে।’

ক্রিজে আগে ব্যাট স্পর্শ করতে না পারায়ও কোনো আফসোস নেই সাব্বিরের। বরং দুজন একই প্রান্তে চলে না গিয়ে ইমরুলকে তার আগেই ক্রিজ ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে হচ্ছে এখন, ‘ব্যাট আগে প্লেস করব না পরে, এ নিয়ে কোনো চিন্তা ছিল না আমার। ইমরুল ভাই আগে চলে গেছেন। সে জন্য উনি বেঁচে গেছেন। আমি আউট হয়ে গেছি। উনি সেট ব্যাটসম্যান ছিলেন। আমারই উচিত ছিল ওনাকে ক্রিজ ছেড়ে দেওয়া।’

সাব্বিরের রান আউট নিয়ে হতাশা আছে ইমরুলেরও। তবে বাঁহাতি এই ওপেনারও এটাকে খেলার অংশই মনে করছেন, ‘রান আউট খেলার অংশ। এটাকে মেনে নিতেই হবে। রান আউটটা হওয়ার আগ পর্যন্ত সব ভালো চলছিল, আমাদের দুজনের বোঝাপড়া ভালো ছিল। একটা ভুল হয়ে গেছে এবং এটা অবশ্যই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। সাব্বির আর আমি আরও কিছুক্ষণ একসঙ্গে খেলতে পারলে ম্যাচ সহজ হয়ে যেত।’

ইমরুল-সাব্বিরের মধ্যে এমনিতে ভালো সখ্যতাই আছে। টিম হোটেলের কাছের এক রেস্টুরেন্টে আজও দুপুরের খাবার দুজনে একসঙ্গে খেয়েছেন। কালকের ম্যাচের রান আউট নিয়ে চলমান আলোচনা অন্তত তাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করছে না। সাব্বিরের ভাষায়, ‌‘আমরা সব সময় এক সঙ্গে থাকি। রান আউট নিয়ে খেলার পর আমাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এমন না যে, এই একটা রান আউটের জন্য আমরা শত্রু হয়ে গেছি।’

রাত পেরুলেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল, দেখুন সম্ভাব্য একাদশ