• আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার আর সেন্টমার্টিন ট্যুরের ভ্রমণনামা (২য় পর্ব)

৯:০৬ অপরাহ্ন | শুক্রবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬ লাইফস্টাইল

মেহেদী হাসান গালিব, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

হোটেল সী-আলিফের ৪০৩ নম্বর রুমে আমাদের ঠাঁই হল। রুমে ঢুকেই গোসল সেরে নিলাম। এরপর দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য নিচে নামতেই দেখি আমাদের গ্রুপের সবাই সী-বীচে যাচ্ছে গোসল করার জন্য। তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রুমে ফিরে গেলাম। জামাকাপড় পাল্টে নিয়ে সবার সাথে রওনা দিলাম সী-বীচের উদ্দেশ্যে।

হোটেল থেকে বাইরের দৃশ্য

আমাদের হোটেলের সামনেই ছিল সুগন্ধা সী-বীচ। সমুদ্রে নেমে গা ভেজালাম। সাঁতার কাটার জন্য তীর থেকে একটু দূরে গেলাম। কিন্তু সাঁতার কাটার জন্য হাত-পা ছোঁড়ার কিছুক্ষণ পরই নিচে তাকিয়ে দেখি শরীরের নিচ থেকে পানি সরে গিয়েছে আর আমি ভেজা বালুর মধ্যে হাত-পা ছুঁড়ছি। এভাবে অনেকক্ষণ সাঁতার কাটার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। ফলস্বরুপ সমুদ্রের লবণাক্ত পানি খেতে হল। এরপর ভেজা কাপড় পাল্টে হোটেলে ফেরার পথেই দুপুরের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে এলাম।

হোটেলে ফিরে আবার গোসল করতে হল। গোসল করতে গিয়ে প্যান্টের পকেটভর্তি বালু আর মাথাভর্তি লবণ আবিষ্কার করলাম। এক ঘন্টার ভেতরেই তিনবার গোসল করে তখন আমি ভয়ে অস্থির! কখন না আবার জ্বর এসে হানা দেয়। এমনিতে সর্দি আর কাশি তো আছেই—তার উপর জ্বর হলে পুরো ভ্রমণটা এই হোটেলে বসেই কাটিয়ে দিতে হবে। তাই একটা নাপা খেয়ে কম্বল জড়িয়ে একটা ঘুম দিলাম। ঘুম ভাঙলো বিকেলের ঠিক আগে আগে।

ফ্রেশ হয়ে সবাই মিলে সী-বীচে হাঁটতে বেরুলাম। দুপুরের রোদ তখন অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে গিয়েছে। যেটুকু বাকি আছে, তা বেশ উপভোগ্যই লাগছিল। সী-বীচের আকাশে তখন ঘুড়ির রাজত্ব। ইয়া বড় বড় সব ঘুড়ি উড়ছিল। স্থানীয় ছোট ছোট বাচ্চারা শামুক কুড়ানোয় ব্যস্ত। এক যুবককে দেখলাম মোবাইল উঁচু করে সমুদ্রের দিকে ধরে আছেন। প্রথমে ভাবলাম পেছনের ক্যামেরা দিয়ে হয়তো সেলফি তুলছেন। কিছুক্ষণ পর বুঝলাম তিনি ভিডিও কলে প্রিয়জনের সাথে সুখের কিছু মুহূর্ত ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।

সমুদ্র তীরে বসেছে বিভিন্ন পণ্যের পসরা!

সী-বীচের বালু ডিঙিয়ে আমরা তখনো হেঁটে চলেছি তীরের গা ঘেঁষে। সমুদ্রের ঢেউ এসে মিলে যাচ্ছে আমাদের ঠিক পায়ের কাছে। ধীরে ধীরে গোধূলির শেষ আলোটাও মিলিয়ে গেলো। সন্ধ্যা নামলেও সমুদ্র তীরে নামলো না বিন্দুমাত্র নিস্তব্ধতা। সমুদ্র আপন মনেই গর্জন করে চলেছে।

সমুদ্র তীর থেকে খানিকটা সামনে বেশ কয়েকটি দোকান চোখে পড়ল। পাশেই একটি খাবারের দোকান। দোকানে বসে ফুচকা খেলাম। সর্দির কারণে স্বাদটা ঠিক মনে নেই। তবে মন্দ লাগেনি। ফুচকা খাওয়া শেষে চলল টুকটাক কেনাকাটা। কেনাকাটা শেষে ফিরে এলাম হোটেলে। ঘড়ির কাঁটায় তখন বাজে প্রায় সাতটা।

হোটেলে এসে শুনি পাশেই নাকি বাণিজ্য মেলা হচ্ছে। যাবো না যাবো না করেও শেষমেশ মেলা দেখতে বের হলাম। রংপুরের বাণিজ্য মেলার সাথে খুব একটা অমিল না থাকলেও মেলার সাজসজ্জা ও নতুন কিছু দোকান মেলার দৃশ্যটা একটু আলাদা করে তুলেছিল। মেলা দেখা শেষে রাতের খাবারের জন্য গেলাম রসুইঘরে।

আমাদের হোটেল সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টের নামটা বেশ মনে ধরেছে। খাবারের স্বাদটাও ভুলবার মতো নয়। খাবার শেষে ফিরে এলাম রুমে। তারপর মোবাইলে সারাদিনের তোলা ছবিগুলো দেখতে দেখতে একসময় ঘুমের ঘোরে তলিয়ে গেলাম।

১ম পর্ব পড়তে চাইলেঃ http://www.somoyerkonthosor.com/2016/12/29/81466.htm