সংবাদ শিরোনাম

ছাত্রলীগ নেতার প্যান্ট চুরির ভিডিও ভাইরাল!পাটগ্রামে ইউএনও’র উপর হামলা, আটক ৬আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৮৩ জনেরশফী হত্যা মামলা: মামুনুল-বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদনখালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সারাদেশে দোয়া কর্মসূচিরোহিঙ্গা শিবিরে ফের অগ্নিকান্ডসালথায় তান্ডব: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা মিলেনিশাহজাদপুরে কৃষকদের মাঝে হারভেস্টার মেশিন বিতরণচাঁদপুরে গণমাধ্যম সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিশ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা না করলে আইনি পদক্ষেপ : শ্রম প্রতিমন্ত্রী

  • আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দুধ আনারস একসঙ্গে খেলে যা ঘটে আমাদের শরীরে

১২:৩৮ অপরাহ্ন | শনিবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬ আপনার স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর.  শুধু গ্রাম অঞ্চলেই নয় শহুরে মানুষের মধ্যে-ও এই কথাটি প্রচলিত আছে যে আনারস এবং দুধ একসঙ্গে দুধ একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। দুধ এবং আনারস এক সাথে খেলে নাকি তা বিষ হয়ে যায় এবং এর ফলে মৃত্যু হতে পারে। আর এর জন্য সকল মায়েরা তাদের সন্তানদের কে এই দুটি একসাথে খাওয়া থেকে সব সময় বিরত রাখেন। এমনকি লেবুও দুধ একসঙ্গে দেওয়া হয় না।

এসব ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক বাড়িতে ও হোটেলে বিভিন্ন ফল দিয়ে যেসব ডেজার্ট তৈরি হয় তাতে মওসুমি ফল হিসেবে আনারস থাকে। আর এর সাথে অবশ্যই রাখা হয় দুধের তৈরি নানা খাবারের উপকরণ। এমনকি বহির্বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার কটেজ চিজেও আনারস এবং দুধ একসাথে থাকে। এছাড়াও বড় বড় গ্রোফারি ষ্টোরে প্রাপ্ত বিভিন্ন ইয়োগাটে (দই) দুধ এবং আনারস একসাথেই থাকে।

মানবদেহ আলাদাভাবে দুধকে ভেঙ্গে যেমন শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদনে রূপান্তর করতে পারে, ঠিক একই ভাবে আনারসকে ভেঙ্গে শরীরের শোষনীয় উপাদানে পরিনত করতে পারে। তাই এই দুটো জিনিসকে একসাথে খেলে তা বিষে রূপান্তরিত হবার কোন সম্ভবনা নেই।

দুগ্ধজাত খাবার এবং আনারস একসঙ্গে আহারে যদি অসুবিধা না হয় তাহলে দুধ ও আনারস একসঙ্গে খেলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি এক ধরনের কুসংস্কার। তো এখন বুঝতে পেরেছেন তো। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কোন না কোন খাবার অথবা কোন বিশেষ দুইটি খাবারের সংমিশ্রন সমন্ধে কুসংস্কার আছে। এদের কে বলা হয় “ফুড ট্যাবু”। এসব কুসংস্কার এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, কোন না কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এইসব “ফুড ট্যাবু” এর উদ্ভব হয়। আনারস ও দুধ একসঙ্গে খেলে বিষক্রিয়া ঘটে- এটা সেরকম ই একটা “ফুড টাবু”।

dudh-anaros

আনারস এসিডিক একটা ফল। দুধে আনারস মেশালে দুধ ফেটে যেতে পারে। ফেটে যাওয়া দুধ খেলে আপনার খুব বেশি হলে পেট খারাপ হতে পারে, কিন্তু বিষক্রিয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। দুধের সাথে অন্য যে কোন এসিডিক ফল খেলেও আপনি একই সমস্যায় পরতে পারেন। তাছাড়া আপনারা সবাই জানেন যে আমাদের পাকস্থলী এসিডিক। তাই পেট এ যাওয়ার পর দুধ ফাটবেই, সেটা আপনি আনারসের সাথে না খেলেও।

– কাচা আনারস প্রবল রকম কটু ও তিক্ত স্বাদের। এটি বমি উৎপাদনকারী এবং কিছুটা বিষাক্ত। কেউ কাঁচা আনারসের সাথে দুধ খাওয়ার ফলে কোন ধরনের দুর্ঘটনায় এই “ফুড ট্যাবু” এর উদ্ভব হতে পারে।

– আনারস এসিডিক। খালি পেটে আনারস খেলে প্রচন্ড পেটে ব্যথার তৈরী হয়। কোন গ্যাস্ট্রিক এর রোগীর খালি পেটে আনারসের সাথে দুধ খাওয়ার ফলে এই “ফুড ট্যাবু” এর উদ্ভব হতে পারে।

– ল্যাকটোস ইনটলারেন্স নামে একটি রোগ আছে, যেই রোগের রোগীরা দুধ হজম করতে পারেনা। ল্যাকটোস ইনটলারেন্স এর কোন রোগীর ঘটনাবশতঃ দুধ এর সাথে আনারস খেয়ে ফেলায় পুরো দুধ-আনারস মিশ্রন কে দোষারোপ করে এই ট্যাবুর সূত্রপাত হতে পারে।

ট্যাবুটার উদ্ভব এর কারণগুলো আনুমানিক হলেও, আনারস-দুধের মিশ্রনে যে বিষাক্ত নয় তা প্রমাণিত। বাইরের দেশে মানুষ অহরহই “পাইনএপেল মিল্কসেক”, “পাইনএপেল স্মুথি” খায় যা আনারসের সঙ্গে দুধের মিশ্রনে তৈরী হয়। তাছাড়া পাইনএপেল ফ্লেভারের দই এবং কটেজ চীজ (একধরণের পনির) এর সাথে আনারসের টুকরো খাওয়ার প্রচলন ও অনেক দেশে আছে। তারা আনারস-দুধের মিশ্রন খেয়ে দিব্যি বেচে আছে। আনারস-দুধের মিশ্রনের চাইতে আমরা যে ফরমালিন যুক্ত ফল খাই তা অনেক বেশি ক্ষতিকর। ধন্যবাদ

অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী ‘আমরা বিভিন্ন সময়ই পাইনা অ্যাপেল কাস্টার্ড, ডেজার্ট, পাইন অ্যাপেল স্মুদি, পাইন অ্যাপেল মিল্ক সেক, পাইন অ্যাপেল সালাদ, পাইন অ্যাপেল ইয়োগার্ট ইত্যাদি খাই। এতে সমস্যা হয় না। কারণ এগুলোর মধ্যে খাদ্যের সঠিক সমন্বয় থাকে এবং নিয়মমাফিক বা সঠিক নিয়মে বানানো হয়। আর হয়তো এক গ্লাস দুধ খেলেন, পাশাপাশি আনারস খেয়ে নিলেন তাহলে সঠিক খাদ্যের সমন্বয় হয় না। এ ক্ষেত্রে সঠিক সমন্বয় না হওয়ার ফলে পাতলা পায়খানা, বদ হজম, এসিডিটি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। তবে বিষক্রিয়া হয়ে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন আনারস আর দুধ বিরতি দিয়ে খাওয়াই ভালো। দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিরতি দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। নয়তো অনেক সময় পেটে গিয়ে হজমের সমস্যা হতে পারে। তবে যদি সঠিক নিয়মে খাবার বানানো হয় এবং সঠিক খাদ্যের সমন্বয় থাকে তাহলে কোনো সমস্যা হবে না। দুধ ফুটিয়ে নিলে বা প্রসেস করে নিলে টক্সিটিক বিষয়টি আর থাকে না, তখন খাওয়া যেতে পারে। তাই আনারস-দুধ সঠিক নিয়মে এবং সঠিক খাদ্যের সমন্বয়ে খাওয়া যেতে পারে।’