• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে নুনখাওয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৪২টি মৌচাক : চলছে মধু কাটার ধুম

৪:১৮ অপরাহ্ন | শনিবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

ফয়সাল শামীম, নিজস্ব প্রতিবেদক: কুড়িগ্রাম জেলার ব্রম্মপুত্র ও ধরলা নদের অববাহিকা জুড়ে এবার শত শত একর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। সরিষা ক্ষেতগুলো এখন হলদে ফুলের বাহারী রঙ্গে মনোহররুপ ধারন করেছে।

chak

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, এবার আবহাওয়া অনুকুল থাকায় ও সরিষা চাষে খরচ কম এবং পরিচর্যা করতে তেমন খরচ হয় না বরং কৃষকরা অধিক পরিমানে লাভবান হয়। বর্তমান দিগন্তজোড়া সরিষা ক্ষেতগুলোতে হলদে ফুলের বাহার আর মৌমাছির মধু আহরনের ভনভন শব্দ শোনা যাচ্ছে। সরিষার ক্ষেতে গেলে দেখা যায় সরিষার হলদে ফুলে ঝাকে ঝাকে মৌমাছি বসে মধু আহরনে ব্যস্ত।

গতকাল সরেজমিন নাগেশ্বরী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ব্রম্মপুত্র নদের কোল ঘেষে কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায় অনেক গৃহস্থ বাড়ীর ভিতরের বিভিন্ন গাছে মৌচাক বাসা বেধেছে। নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভবনটির উপরের কার্নিশে মৌমাছি সারিদ্ধভাবে ৪২টি মৌচাক বেধেছে।

স্থানীয় মধু সংগ্রহকারী (মোয়ালী) একাব্বর আলী জানান, পৌষ মাসের শুরু থেকে এযাবৎ ১৮১টি, মৌচাকা কেটে প্রায় তিন মন মধু সংগ্রহ করে প্রতি কেজি সাড়ে তিনশ থেকে ৪‘শ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মাসুদুর রহমান জানান, এবার নাগেশ্বরী উপজেলায় ১৩৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, এবার এ জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করার লক্ষমাত্র নির্ধারন করা হলেও বন্যার পানি নামতে বিলম্ব হওয়ায় সামান্য কম চাষ করা হয়েছে। তবে ফলন ভাল হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান সর্দ্দার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘মৌমাছির মধু মানবদেহসহ অন্যন্য কাজে খুবই উপকারী। শীত মৌসুমে এ অঞ্চলে মৌমাছি হাজার হাজার মৌচাক বেধে সরিষা থেকে মধু আহরন করে। সেগুলো স্থানীয় মোয়ালীরা যাতাভাবে কেটে নষ্ট করে ফেলেন। তাই সরকারী উদ্যোগে মৌচাকগুলো কেটে মধু সংরক্ষন করা দরকার।