• আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিয়ের এক বছরের মাথায় গৃহবধুকে নির্যাতন করে হত্যা : আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা

৬:৪৫ অপরাহ্ন | রবিবার, জানুয়ারী ১, ২০১৭ ঢাকা, দেশের খবর

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা পুর্ব ভবদিয়া গ্রামে গৃহবধু বৃষ্টি আক্তার হ্যাপির (১৮) কে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা। নিহতের পরিবারকে ম্যানেজ করার চেষ্টায় ব্যস্ত দালাল চক্র।

lass

৩১ ডিসেম্বর ছিলো গৃহবধু বৃষ্টি আক্তার হ্যাপির (১৮) প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। গর্ভে ৪ মাসের শিশু। নগত টাকা যৌতুক, সোনার হার না দেওয়ায় ও অহেতুক সন্দেহ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি নিহতের পরিবারের।

তবুও হত্যার ব্যাপারটি আত্মহত্যায় সাজাতে চলছে ষড়যন্ত্র এমন অভিযোগ হ্যাপির পরিবারের। নিহত হ্যাপি (১৮) রাজবাড়ী জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দার ইলেট্রিশিয়ান মিস্ত্রি ইমরান সেখের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই ঘাতক স্বামী ইমরান পলাতক রয়েছে। হ্যাপির বাবার বাড়ি মাদারীপুর কুনিয়া ইউনিয়নের আদিত্তপুর গ্রামের মিটা পুকুর।

আজ রবিবার সকাল ১১টার দিকে ইমরানের বাড়ি থেকে হ্যাপির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে হ্যাপির স্বামীর বাড়ির কাওকে দেখা যায়নি।

বৃষ্টি আক্তার হ্যাপির খালা (মায়ের বোন) শিউলী বেগম জানান, হ্যাপিকে তারা ছোট বেলা থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে। হ্যাপির শশুর বাড়ির লোকেরা বিয়ের পর থেকেই হ্যাপির উপরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। এর আগেও ঘুমন্ত অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে হ্যাপিকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো শশুড় বাড়ির লোকেরা।

হ্যাপি বর্তমানে ৪ মাসের গর্ভবতি এ অবস্থায় পাষন্ড স্বামী ওকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। শিউলী বেগম আরো জানান, হ্যাপির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝলিয়ে রেখেছে আমারা এই হত্যার বিচার চাই।

হ্যাপির মামা মোঃ মামুন সিকদার জানান, গত ১ বছর আগে ৩১ শে ডিসেম্বর হ্যাপির সাথে রাজবাড়ীর বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা বাজার সংলগ্ন মোল্লা পাড়ার আজাদ সেখের ছেলে ইমরানের বিয়ে হয়।

বিয়েতে যৌতুক হিসেবে সে সময়েই নগদ ১ লক্ষ টাকা, একটি ফ্রিজ ও স্বর্ণলংঙ্কার এবং সকল ফার্নিচার দেয়া হয় হ্যাপির শশুড় বাড়িতে। তবুও বিয়ের পর থেকে ফার্ণিচারসহ বিভিন্ন জিনিসের দাবী করতো হ্যাপির স্বামী ইমরান। বিয়ের ১টি বছর হ্যাপি শুধু মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করেছে। নির্যাতন করতে করতে ইমরান ও তার বাবা মা হ্যাপিকে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। হ্যাপির হত্যার সুষ্ঠ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাই।

রাজবাড়ী সদর থানার এস আই মোঃ মাসুদুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, খবর পেয়ে সকালে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলেই বোঝা যাবে।

এ বিষয়ে পুর্ব ভবদিয়া গ্রামের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ তুহিন জানান, গত ৩১ শে ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়রা খবর দেয় যে ইমরানের স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছে এমন খবর পেয়ে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার লাশ মাটিতে শুয়ে রাখা হয়েছে পরে সাথে সাথে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হ্যাপির মামা ও খালাসহ তার পরিবারের লোকজন তাদের নিরাপত্তার কারনেই কিছু বলতে পারছে না এমন কথা বলেন তারা। তাছারাও ওসির আচরনে হ্যাপির পরিবারের লোকজন সংকচিত।

নিহত হ্যাপির শ্বশুর ও ইমরানের বাবা আজাদ শেখ জানান রাতের খাবার খেয়ে হ্যাপি ও ইমরান ঘুমানোর জন্য প্রস্তোতি নিচ্ছে এমন সময় হ্যাপি বলছে আজতো আমার ম্যারেজ ডে আমার জন্য কি আনছো তখন ইমরান বলে আমার মনে ছিলো না ঠিক আছে একটি সেভেনাফ আনি দুইজন মিলে খাবো এই বলে সে ঘর থেকে বেড়িয়ে দোকানে চলে যায় পরে ইমরান আসতে একটু দেড়ি করেছে। ইমরান এসে দেখে ঘরের ভিতর থেকে দরজা আটকে রেখেছে হ্যাপি অনেক ডাকা ডাকি করার পরেও হ্যাপি কথা বলে না। পরে আমরাও ইমরানের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসি দেখি ইমরান দরজা খুলে ঝুলন্ত অবস্থায় হ্যাপির লাশ ধরে রেখেছে। পরে লাশ নামিয়ে উড়াকান্দা বাজারের ডাক্তার শামিমকে আনা হয়। পরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তার মধ্যেই হ্যাপির হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়।

প্রশ্ন: হলো দরজা কি ভাবে খুললো ইমরান .…? আত্নহত্যা করলে তো আর দরজা খুলে কেউ গলায় ফাঁস নিবেনা। কোন উত্তর দিতে পারেনি ইমরানের বাবা আজাদ শেখ।