• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘খুনিরা খুব কাছ থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে এমপি লিটনকে পাঁচটি গুলি করে’

৭:৪৭ অপরাহ্ন | রবিবার, জানুয়ারী ১, ২০১৭ জাতীয়

রংপুর প্রতিনিধি- গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে খুনিরা খুব কাছে থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে পাঁচটি গুলি করে হত্যা করে।

রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনিমেষ মজুমদার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এমপি লিটনের বুকে ও হাতে পাঁচটি গুলি করা হয়। বুকের ভেতর থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে।

97006_1সকাল ৯টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর থেকে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় মর্গে। সেখানে রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. নারাণ চন্দ্য়র সাহার নেতৃত্বে ডা. খায়রুল ইসলাম ও ডা. রেজাউল করিম তার ময়নাতদন্ত করেন।

ময়নাতদন্ত শেষে অধ্যক্ষ ডা. অনিমেষ মজুমদার জানান, এমপি লিটনের বুকে তিনটি এবং হাতে দুটি গুলি করা হয়েছিল। তার শরীর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তার ফুসফুস লিভার, পেটে প্রচুর পরিমাণ জমাটবাঁধা রক্ত পাওয়া গেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খুনিরা খুব কাছ থেকে এমপি লিটনকে গুলি করে। এমনভাবে গুলি করা হয়েছে যে, গুলিতে তার মৃত্যুর নিশ্চিত জেনে ঘাতকরা চলে যায়।

ময়নাতদন্ত শেষে এমপি লিটনের মরদেহ কড়া পুলিশ প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হয় গোসল করানোর জন্য। সেখান থেকে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তার মরদেহ আনা হয় পুলিশ লাইন্স স্কুল কলেজ মাঠে। সেখানে প্রথমে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, এসপি মিজানুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা।

এমপি লিটনের দ্বিতীয় জানাজা হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সোমবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

লিটনের নিহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল রংপুরে গেছেন। সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিটনের মরদেহ দেখেন তারা।

এদিকে এমপি লিটনের হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় তার সংসদীয় আসনে হরতাল পালন করছে আওয়ামী লীগ। রবিবার সকাল থেকে এই হরতাল চলছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ এই হরতালের ডাক দেয়। হরতালে বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হন এমপি লিটন। এরপর তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান তিনি।

শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে দুই মোটরসাইকেলে করে তিন দুর্বৃত্ত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের নিজ বাড়িতে গিয়ে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।