• আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিশুদের ভিক্ষা বৃত্তিতে ব্যবহার করছে একদল সংঘবদ্ধ চক্র

১:৩০ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৭ দেশের খবর, রংপুর

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: আজকের ছোট্ট শিশুটি একদিন বড় হয়ে পিতা-মাতার মুখ উজ্জ্বল করবে এই অনুভূতি মানব হৃদয়ে আনন্দের হিল্লোল তোলে। কিন্তু না এ সমাজ সংসারে এমন কিছু লোক আছে যারা শিশুর নিষ্পাপ মুখ দেখেও যারা আনন্দ অনুভব করে না।

vika

এরা অর্থ লোভে অবুঝ শিশুকে দিয়ে ভিক্ষা করায়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের চুরি করে এনে ভিক্ষা বৃত্তিতে নামানো হয়। চুরি হওয়া এসব শিশুকে তাদের আত্মীয়-পরিজন বা পিতা-মাতা যেন দেখে ও না চিনতে পারে সে জন্য কারও কারও মুখ বা শরীরের বাইরের অঙ্গ পুড়িয়ে ঝলসে দেওয়া হয়। আর কোনো কোনো চুরি করা শিশুর হাত পা কেটে বা বিকলাঙ্গ করে রাস্তায় বাস স্টপে, রেলস্টেশনে, লঞ্চ টার্মিনালে, ফুটপাতে ভিক্ষা করতে পাঠানো হয়। এসব শিশুকে পরিচালনা করে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র।

আর ভিক্ষা বৃত্তিতে নিয়োজিত শিশুদের একটি অংশকে মাদক আনা-নেয়ার কাজে ও ব্যবহার করা হয়। পরে এরা কেউ কেউ মাদকসেবী হয়ে যায়। স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে শিশুদের ভিক্ষা বৃত্তিতে নামানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

সরজমিনে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তরবাংলা কলেজে চোখে পড়লো জামালপুর থেকে আসা ৯ /১০ বছরের বেস কয়েক জন শিশু। শিক্ষার্থীদের দারে দারে গিয়ে বলছে, ‘দে ভাই দুই টাকা, পাঁচ টাকা মার চিকিৎসা করাবো, মা মেডিকেলে। এ ধরনের অনেক শিশু চোখে পড়ে কলেজ গুলোতে। নানান রকম ওযুহাত তাদের। বেস কয়েক জন শিশুর সঙ্গে কথা বলার চেষ্ট করলেও শিশু গুলো সত্য কথা বলতে রাজি হয়নি। এমন কি তাদের নামটিও জানা যায়নি।

এ ধরনের শিশুদের প্রতিদিন এক-দেড়শ টাকা ভাড়া দেওয়া হয়। একটি চক্র রয়েছে শিশুদের শহরে এনে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেলে রাখে। আসলে এটি এক ধরনের বাণিজ্য। কয়েকজন সর্দারের অধীনে বেস কয়েক জন শিশু রয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন বাজার বা কলেজ গুলোতে রেখে যায়। এ সকল শিশুদের শারীরিকভাবে রোগা দেখানোর জন্য অল্প খাবার দেয়া হয় তাদের। বাচ্চাদের যত বেশি রোগী দেখানো যায় ততবেশি আয় করা যায়।

এ শিশুরা যাতে সমাজ জীবনে ফিরে আসতে পারে এবং শিক্ষা লাভ করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে তাই সকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি বিধানের জোর দাবি সমাজের সুশীল মানুষের।