• আজ সোমবার। গ্রীষ্মকাল, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৮:২৮মিঃ

ভোলায় ব্যপকহারে বাড়ছে মহিষের দই’র চাহিদা

১:৫৪ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল

এস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি: মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর মাঝখানে সৌন্দর্যের রানী হিসেবে আখ্যায়িত এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ দ্বীপজেলা ভোলা। ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের মহিষের দুধের দই রফতানি হচ্ছে বিদেশে। মেঘনা ও তেতুলিয়ার মধ্যবর্তী চরাঞ্চলের মহিষের দুধের দই ভোলাসহ বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয়।

doie

দুধের উৎপাদন কম হলেও ব্যপকহারে বাড়ছে মহিষের দই’র চাহিদা। তাই বেশ লাভবান দই বিক্রেতা আর গোয়ালারাও। যে কারণে দেশের বাহিরেও রফতানি হচ্ছে মহিষের দুধের এই দই।

এসব নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চরে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে অন্তত শতাধিক মহিষের খামার। জেলার মূল-ভূখন্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন মনপুরা, ভোলার চর ও মদনপুর শত শত মহিষের পাল দেখা যায়। বানিজ্যক ও ব্যাক্তিগতভাবে এসব গরু মহিষ পালন হয়। তবে লবন পানি ও ঘাসের স্বল্পতা হচ্ছে এখানকার প্রধান সমস্যা।

জেলা প্রানী সম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় মোট মহিষের সংখ্যা ৯০ হাজার এবং গরুর সংখ্যা ৩ লাখ ৪৩ হাজার টি। এসব গরু ও মহিষ থেকে প্রতিদিন গড়ে দুধ উৎপাদন হচ্ছে ৩০৫ মেট্রিক টন। তবে জেলায় দুধের চাহিদা ৪১৭ মেট্র্রিক টন। জেলায় উৎপাদিত দুধের বেশীরভাগ ব্যবহৃত হয় দধি ও মিষ্টি উৎপাদনে।

এ ব্যাপারে প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার কর্মকার বলেন, জেলায় উৎপাদিত দুধ থেকে দধি ও মিষ্টি উৎপাদনের প্রবনতা বেশী। মোট উৎপাদনের প্রায় ৪০% দুধ ব্যবহৃত হয় দধি ও মিষ্টি উৎপাদনে। বাকিটা মানুষ খেয়ে থাকেন।

এদিকে, ভোলার রসগোল্লা ও দুধের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। যে কারনে জেলার এসব খাবারের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, দুধ থেকে মিষ্টি, রসগোল্লা, চমচম, রস মালাই, পিঠা, আমৃত্তি তৈরী হয়। তবে বেশী বিক্রি মিষ্টি। আর দুধ চলছে সারা বছর।

জেলায় দুধ সংরক্ষনের কোন ববস্থা না থাকায় দৈনেন্দিন উৎপাতিদ দুধ ব্যবহার হচ্ছে। এসব দুধ মিষ্টি ও দধির পাশাপাশি অন্যান্য  মুখরোচক খাবারে ব্যবহার হচ্ছে। আগামীতেও মিষ্টি ও দধির জনপ্রিয়তা থাকবে বলে মনে করছেন ভোলার মানুষ। একই সাথে পশু খাদ্যের সংকট নিরসন এবং পয়োজনীয় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হলে আগামীতে দুধের উৎপাদন আরো বাড়বে বলে মনে করছেন খামারীরা।