সংবাদ শিরোনাম

‘তালা ভেঙ্গে মসজিদে তারাবি পড়ার চেষ্টা্’‌, পুলিশের বাধায় সংঘর্ষে মুসল্লিরা‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’; তিনটি মুরগি চুরির দায়ে দেড়লাখ টাকার জরিমানা চার তরুণের!কুড়িগ্রামের সবগুলো নদ-নদী শুকিয়ে গেছে, হুমকীতে জীব-বৈচিত্রহেফাজতের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তারমধুখালীতে বান্ধবীর সহায়তায় অচেতন করে দফায় দফায় ধর্ষণের শিকার নারী!বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে চায়ের স্টলে ইতালি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যাগোবিন্দগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দূঘর্টনায় স্কুল শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহতময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ডুবে মারা গেলো ৩ শিশুমুহুর্তেই ভয়াবহ আগুন! স্কুলেই পুড়ে মরলো ২০ শিশু শিক্ষার্থী!সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু আর নেই

  • আজ ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

এ্যালা মুই ইস্কুলে যাইম বাহে,বাড়ীর কাছত ম্যালা ইস্কুল হইছে বাহে !

৫:৪১ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৭ দেশের খবর, রংপুর

df
অনীল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম) থেকেঃ

এ্যালা মুই ইস্কুলে যাইম বাহে, বাড়ীর কাছত মোর ইস্কুল হইছে বাহে ! এহন আর মিত্যা পরিচয় দিয়ে ইস্কুলে যাওয়া নাগব্যার নয় বাহে ! এ কথা গুলো বলেন ৬ষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী খাদিজা খাতুন,সাথী আক্তার,নাজনীন আক্তার ও মাসুদ রানা। তারা সবাই দাছিয়ারছড়া সমন্বয় পাড়ার  নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যায়লয় থেকে বই নিয়েছেন । শুধু  তারাই নয় এখানে একটি মাদ্রাসাসহ মোট ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচশ শতাধিক ছাত্রছাত্রীরা একই ভাবে আনন্দে উচ্ছ্বাসে নতুন বই নিয়ে বাড়ীতে ফিরেছেন তারা। পাঠ্যপুস্থক উৎসব মুখে গত রোববার  ছিল দাসিয়ারছড়া ছিটমহলে ছাত্রছাত্রীদের স্কুল মাঠে এক মুখোরিত আনন্দ উচ্ছ্বাস ।  তারা দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করলেও এবারে নিজের জায়গা থেকে উচ্চ শিক্ষাগ্রহন করার পালা । সেই প্রত্যাশায়  এই প্রথম স্বাধীনভাবে তারা  ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বই নিয়েছেন । অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান গুলো হচ্ছে কালিরহাট  নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়  ,দাসিয়ারছড়া সমন্বয়পাড়া নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় , কামালপুর মইনুল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,দাসিয়ারছড়া বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নিশকাত আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ  ও শেখ ফজিলাতুনেছা দাখিল মাদ্রাসা । তবে প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো নির্মানর্ কাজ  সমাপ্ত না হওয়ায়  ছিটমহলের নিকটবর্তী ১০টি প্রতিষ্ঠানের আওতায় তাদেরকে বই দিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ প্রধান শিক্ষকগণ ।

এই ছিটমহলের মানুষগণ এত দিন যুগের পর যুগ বঞ্চিত ছিল । কাগজে-কলমে ভারতীয় নাগরিক হলেও মাঝখানে দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের  স্থলভাগের পর ভারত সীমান্তের যে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে বহুকাল ধরে তা ডিঙ্গাতে পারেননি ছিটের অধিবাসীরা। জীবন-জীবিকা, শিক্ষা-চিকিৎসা সবকিছুর জন্যই এই ছিটের সাড়ে ৮ হাজার মানুষ প্রতিবেশী বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল হলেও বাংলাদেশে মিলেনি তাদের কোনো স্বীকৃতি। এই ছিটে জন্মই যেন তাদের আজন্ম পাপ ছিল । অবশেষে জন্মের এই গ্লানি থেকে মুক্ত করেছেন গত ১৫ অক্টোবর জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । ওই দিন তিনি ছিটমহলে সুধী সমাবেশ ঘোষনা দেন তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের। তার ঘোষনার সাথে সাথে একটি মাদ্রাসাসহ ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে । তার মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় তিনটি এখনো নির্মান কাজ  সমাপ্ত হয়নি । ফলে বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা  তাদের সন্তানদের  স্কুল মুখী করার জন্য পাশ্ববর্তী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন ।

ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দাসিয়ারছড়া শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাফফর হোসেন জানান, মিথ্যা দিয়ে জীবনের শুরুর গল্পটা শেষ হয়েছে । আগে ছেলে মেয়েদেরকে পড়াশোনা করতে পাঠানো হত বাংলাদেশের স্কুলে। জন্মনিবন্ধন করা হয়েছি  আশপাশের কোনো গ্রামের ঠিকানায়। কিন্তু এখন আর সমস্যা নেই ।

এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ ঊরাঁও জানান,ছিটমহলের তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ চলছে। সে কারণে নিকটবর্তী ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত বই দেয়া হয়েছে । এ সকল প্রধান শিক্ষকগণ তালিকা তৈরি করে তাদেরকে বই দেয়ার জন্য নিদের্শ দেওয়া হয়েছে ।