• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ৪:২১মিঃ

‘শাপে বর’! ‘প্রকাশ্যে মলত্যাগ করতে গিয়েই রক্ষা পেলো যাত্রীবাহী ট্রেন’ !

⏱ | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৭ 📁 আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –

একেই বুঝি বলে বলে ‘শাপে বর’ ! ভারতের বিভিন্ন গ্রামে  ভোরবেলায় গ্রামে গিয়ে নজরদারি আর খোলা মাঠে মল-মূত্র ত্যাগ না করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। কিন্তু সেই ‘প্রকাশ্যে মলত্যাগ যে উপকারেও লাগতে পারে’! , এটা কেউই ভাবে নি হয়তো আগে ! প্রকাশ্যে মলত্যাগের অভ্যাস থেকেই সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ট্রেন ভর্তি যাত্রীরা।

সোমবার সকালে বীরভূম জেলায় প্রকাশ্যে মলত্যাগের এই অভাবনীয় দিকটি সামনে এসেছে।

বিবিসির প্রকাশিত খবরমতে, শান্তিনিকেতন- বোলপুর শহরের কাছেই বর্ধমান-বারহারোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি তিন স্থানীয় কিশোরের সাহায্যে রক্ষা পেয়েছে দুর্ঘটনার হাত থেকে।

স্থানীয় সূত্রগুলি বলছে, বোলপুরের সুরশ্রী পল্লীর বাসিন্দা তিন কিশোর – সুব্রত বাগদি, প্রকাশ দাস আর বিষ্ণু তুরি রোজকারের অভ্যাস মতোই রেললাইনে প্রাতঃকৃত্য সারতে গিয়েছিল। সকাল তখন আটটার মতো।

তখনই তাদের চোখে পড়ে যে লাইনের প্রায় দেড় ইঞ্চি ফাটল রয়েছে। ওই জায়গাটি বোলপুর আর প্রান্তিক স্টেশনের মাঝামাঝি।তারা নিজেদের ‘কাজ’ ফেলে বাড়িতে ছুটে যায়।

train-accident-save1123

বাড়ি থেকে লাল গামছা নিয়ে দৌড়ে ফিরে আসে তারা। ততোক্ষণে প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি কাছাকাছি-ই চলে এসেছে। লাল গামছার সঙ্কেত খেয়াল করে যখন চালক ট্রেনটিকে পুরোপুরি থামাতে সক্ষম হন, ততক্ষণে ট্রেনের সামনের দিকের দুটি কামরা ওই ফাটল পেরিয়ে গেছে।

চালকই রেল কর্মীদের খবর দেন। ফাটল সারিয়ে ট্রেন চালু হয় প্রায় পঁচিশ মিনিট পরে। পূর্ব রেলের মুখপাত্র রবি মহাপাত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, “তিন কিশোরই প্রথম ফাটলটা লক্ষ্য করেছিল। তাদের জন্যই দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ট্রেনটি।

train-accident-save

প্রসঙ্গত, ভারতে প্রকাশ্যে মল-মূত্র ত্যাগ যে বড় ধরনের সমস্যা, সেটা দেশের সরকার স্বীকার করতে শুরু করেছে বেশ কয়েকবছর আগেই। একদিকে যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুরু করেছেন স্বচ্ছ ভারত অভিযান, অন্যদিকে, গ্রামে গ্রামে টয়লেট তরির জন্য অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে সম্প্রতি দুটি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে লাইনে ফাটলের কারণে।

শীতকালে এধরনের ফাটল ধরা যে স্বাভাবিক, সেটা মেনে নেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে তার জন্য নিয়মিত নজরদারি থাকার কথা – যাতে ফাটল ধরা লাইনের ওপরে কোনও ট্রেন না চলে আসে।

কিন্তু সেই নজরদারির অভাব বারে বারেই প্রকট হয় কোনও রেল দুর্ঘটনার পরেই।