সংবাদ শিরোনাম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিতে ৪ শ্রমিকের মৃত্যুগাছে মোটরসাইকেলে ধাক্কা, ২ ক‌লেজ ছা‌ত্রের মৃত্যুহেফাজতিরা ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসতে চায়: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে ককটেল হামলাশাহজাদপুরে থানা পুলিশের অভিযানে ইউপি সদস্যসহ ৯ জুয়াড়ি আটকখালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় ফরিদপুরে দোয়াওবায়দুল কাদেরকে কোম্পানীগঞ্জে ঢুকতে না দেওয়ার ঘোষণা কাদের মির্জারকরোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন এমপি ফারুক চৌধুরীর মাফরিদপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে কলেজ শিক্ষার্থীর ওপর হামলামামুনুল হকের কথিত শ্বশুরকে নোটিশ দেওয়ায় আ.লীগ নেতাদের হত্যার হুমকির অভিযোগ!

  • আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নৃশংস হত্যা ঘটনার বর্ণনায় প্রথমবারের মত যা জানালেন লিটনের স্ত্রী

৮:০১ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৭ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

গাইবান্ধা প্রতিনিধি – দুর্বৃত্তদের গুলিতে নৃশংসভাবে নিহত হওয়া গাইবান্ধা-১ আসনের সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি প্রথমবারের মত সাংবাদিকদের সামনে সেই দিনের বর্বর ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেছেন।

আজ মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাড়ির সামনে এমপি লিটনের সেই প্রিয় গাবগাছ তলায় উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধে শোকে মূহ্যমান তার স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি সাক্ষাতকার দেন।

স্বামী হারানো চাপা কষ্টের অনুভূতিগুলো কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ”প্রতিদিন বিকেলে মনজুরুল ইসলাম লিটনের বাড়িতে নেতা-কর্মীদের ভিড় লেগে থাকত। সন্ধ্যার আগে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বামনডাঙ্গা রেলস্টেশন সংলগ্ন নিজ অফিসে গিয়ে বসতেন এবং রাত ৯/১০টা অবধি সেখানে থাকতেন। অথচ ৩১ ডিসেম্বর বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে কোনো নেতা-কর্মী ছিল না। ওই দিন ভাগ্য লিটনের পক্ষে ছিল না। বিকেলে গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও একজনও আসেননি বাড়িতে। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে দূর্বৃত্তদের গুলিতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান লিটন।”

খুরশিদ জাহান স্মৃতি বলেন, “সেদিন বাড়িতে শুধু আমি, আমার ভাই সৈয়দ বেদারুল আহসান বেতার, ভাগ্নি শিমু, চাচি স্মৃতি খাতুন এবং বাড়ির কেয়ারটেকার ইসমাইল, ইউসুফ ও সৌমিত্র ছিলাম। এ সময় আমি ও আমার ভাই বাড়ির উঠানের রান্না ঘরের কাছে ছিলাম। আমি গুলির শব্দ শুনতে পাই এবং লিটন ঘর থেকে বাড়ির ভেতর দরজা দিয়ে বেরিয়ে এসে বলেন- ‘ওরা আমাকে গুলি করেছে, আগে ওদের ধর।’ এ সময় তিনি বুকে হাত দিয়ে ছিলেন এবং বুকের বাম পাশ দিয়ে রক্ত ঝরছিল।”

mp-liton-wife-sriti-somoyerkonthosor

তিনি বলেন, “চিৎকার শুনে এবং আঁততায়ীদের ছুটতে দেখে ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। আহত লিটনকে সঙ্গে নিয়ে আমি, ইসমাইল ও বেতার গাবগাছ তলায় আসি। সেই সময় আহত লিটন দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না।”

তিনি বলেন, “ড্রাইভার ও গাড়ি না থাকায় একটি মোটর সাইকেলের মাঝখানে বসিয়ে আহত লিটনের কথামতো তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে এসে পড়লে সেই গাড়িতে চড়ে প্রতিবেশী নয়ন, রেজাউল, বেতারসহ লিটনকে নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “গুরুতর আহত লিটনকে নিয়ে যখন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলাম, তখন তার শেষ কথা ছিল- ‘নিঃশ্বাস নিতে পারছি না, অক্সিজেনের দরকার’। এরপর তিনি চিৎকার করে বলেন- ‘স্মৃতি হাসপাতাল আর কতদূর?’। এটাই ছিল তার শেষ কথা। এরপর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্মৃতি বলেন, সুন্দরগঞ্জে লিটনের সঙ্গে কারো দলীয় কোন্দল ছিল না। লিটন সংসদ সদস্য হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। তার একমাত্র শক্র ছিল স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র। আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জামায়াত-শিবিরকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন। যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই ত্যাগী নেতার রক্ত ঝরিয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লিটনের শ্যালক সৈয়দ বেদারুল ইসলাম বেতার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, যে দুইজন খুনি লিটনের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানিয়ে তার ঘরে ঢোকেন, তারা গিয়ে সামনের সোফায় বসে পড়েন। দুইজনের মুখ খোলা থাকলেও মাথা ও কান মাফলারে ঢাকা ছিল। তাদের পরনে ছিল কালো জ্যাকেট ও কালো প্যান্ট। তারা বহিরাগত ছিলেন না, কারণ তারা গাইবান্ধা এলাকার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিলেন।