• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য, টাকার বিনিময়ে বিতরণ হচ্ছে বিনামূল্যের বই!

২:০৮ পূর্বাহ্ন | বুধবার, জানুয়ারী ৪, ২০১৭ Breaking News, অপরাধ, দেশের খবর, রংপুর, স্পট লাইট

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে অমান্য করে টাকার বিনিময়ে ১ জানুয়ারি বই বিতরনের অভিযোগ উঠেছে হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ জাওরানী আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আর টাকা দিতে না পারায় শতাধিক শিক্ষার্থী নতুন বই না পেয়ে হতাশ হয়েই বাড়ীতে ফিরে যান। এ নিয়ে শিক্ষার্থীর অভিভাবকগনের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া হলে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি সারা দেশের ন্যায় দক্ষিণ জাওরানী আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সরকারি বই বিতরণ করা হয়। এতে শ্রেণীভেদে ৫০/১০০/১৫০ ও ২০০ টাকা করে নিয়ে শিক্ষার্থীদের বই দেয়া হয়েছে। তবে যারা ওই দিন টাকা নিয়ে যেতে পারেনি তাদেরকে বই দেওয়া হয়নি।

বিনামুল্যে বই বিতরণের সময় টাকা নেওয়ায় এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন ও সহকারী শিক্ষক আশরাফুল আলম রাজুর সঙ্গে অভিভাবকের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

coruptionমঙ্গলবার এ ঘটনার জের ধরে অভিভাবকরা স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ প্রেরণ করেন।

শিক্ষার্থী জহুরুল ৮ম , হাফিজা ৯ম, মোফাজ্জল হোসেন ৭মসহ আরো অনেকে বলে, ১ জানুয়ারি টাকা দিতে না পারায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক আমাদের বই দেননি।

সহকারী শিক্ষক আশরাফুল আলম রাজু ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, গত ১৫-২০ দিন আগে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠিত হয়। ঐ কমিটিতে যারা স্থান পাননি তারাই কতিপয় অভিভাবক দিয়ে এ মিথ্যা অভিযাগ করেছেন।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ২৯ ডিসেম্বরের ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন মোতাবেক ছাত্রছাত্রীদের কাছে সেশন-ফি আদায় সাপেক্ষে সরকারি বই বিতরণ করা হয়। এরপরেও অনেক ছাত্রছাত্রী বই বিতরনের সময় টাকা দেননি। তবে এখনো কিছু ছাত্র-ছাত্রী বই নিয়ে যায়নি।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খবির উদ্দিন বলেন, বই বিতরনের সময় আমার সামনে কোন টাকা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, সেশন ফির টাকা আদায় সাপেক্ষে ছাত্রছাত্রীদের নিকট বই বিতরনের জন্য ২৯ ডিসেম্বর কোন সিদ্ধান্তই গ্রহণ করা হয়নি।

ভেলাগুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের নিকট টাকা নিয়ে বই বিতরণ করায় আমি নিষেধ করি, কিন্তু তারা আমার কথা আমলে নেননি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৈয়ব আলী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ঘটনাদি আমার জানা ছিলো না। সরকারের দেয়া বিনামূল্যে বই বিতরণের সময় শিক্ষার্থীর নিকট কোন প্রকার ফি আদায় করার নিয়ম নেই। এরপরে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।