সংবাদ শিরোনাম

খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট নিয়ে যা বললেন চিকিৎসক২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন কাদের মির্জাটাঙ্গাইলে ভন্ড পুরুষ কবিরাজ নারী সেজে যুবককে বিয়ে! অতঃপর…ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ঢাকা ভ্রমণ!শেরপুরের সেই শিশু রোকনের পরিবারের পাশে ইউএনও!কক্সবাজারে অস্ত্রসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতারকক্সবাজারে অনুপ্রবেশকারীর পক্ষ না নেয়ায়, আ’লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি!শাহজাদপুরে ট্যাংকলরি সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১রমজান মাসে আলেমদের হয়রানি মেনে নেয়া যায় না: নুরুল ইসলাম জিহাদীখালেদা জিয়াকে পাকিস্তান-জাপান দূতের চিঠি

  • আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

৩:৩৬ অপরাহ্ন | বুধবার, জানুয়ারী ৪, ২০১৭ দেশের খবর, বরিশাল

dgt


বরগুনা প্রতিনিধি :

বরগুনার বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ীতে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজান, বামনা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক খানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২ জানুয়ারি (সোমবার) রাতে বামনা থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-১, ধারা: ১৪৩/৪৪৭/১৮৬/৩৫৩/৩০৭/৪২৭/৩৪ দঃ বিঃ। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বামনা থানা পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

জানা যায়, বরগুনার বামনা উপজেলা পরিষদ থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে এডিপির অর্থায়নে পিআইসি-৬১ প্রকল্পে বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা বাজার পুকুরে জনস্বার্থে ঘাটলা নির্মাণের জন্য এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজান। অর্থ বছর শেষ হয়ে যাওয়ার ছয় মাস পরও প্রকল্প কমিটি ঘাটলা নিমার্ণের কাজ শুরু করতে পারেনি। গতবছর ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পুকুরে ঘাটলা নিমার্ণের স্থান নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক নির্ধারণকৃত স্থানে ঘাটলা মির্মাণ না করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজান পুকুরের অন্য স্থানে ঘাটলা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার ঘাটলা নির্মাণেন কাজ বন্ধ রাখার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজান কে নির্দেশ দেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউএনও’র নির্দেশ উপেক্ষা করে ঘাটলা নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখেন।

এরপর বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পুকুরের পাশের্^র সড়কে গাড়ী থামালে উত্তেজিত জনতা ইট নিক্ষেপ করলে গাড়ী গ্লাস ভেঙ্গে যায়। তাই সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক খানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২ জানুয়ারি রাতে বামনা থানায় মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজান জানান, ভূমি অফিসের পুকুরের যে স্থানে একটি পুরানো ঘাটলা ছিলো, সেই স্থানেই স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, মুসুল্লীদের জন্য ও বাজারের লোকজনের পানি ব্যবহারের সুবিধার্থে ঘাটলা নির্মাণ করতে গেলে ইউএনও মহোদয় বাধা দিলে আমি কাজ বন্ধ করে দেই। আমিসহ অভিযুক্ত কেহই গাড়ী লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করেনি।

অপর অভিযুক্ত বামনা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক খান জানান, ইউএনও সাহেব আমার বিদ্যালয়ের নামের জমি ডি সি আর দিয়ে ঘর উঠানোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করলে, আমি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের নিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করি। তাই আমরা ঘটনাস্থলে না থাকলেও তিনি (ইউএনও) আমাকেসহ আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আমার বংশের লোকজনদেরও আসামী করেন।

সদ্য বিদায়ী বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, আমাকে লক্ষ্য করে রাস্তার পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে আসামীরা ইট নিক্ষেপ করায় গাড়ীয় গ্লাস ভেঙ্গে যায়। এছাড়া সকল  আসামীরা সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে তিনি (সদ্য বিদায়ী বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার) বরিশাল জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ে এডিসি হিসাবে যোগদান করেছেন।