• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে মোজাইক ভাইরাসে মাসকালাই বিনষ্ট : হতাশ কৃষক

১২:৩০ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৫, ২০১৭ দেশের খবর, রংপুর

ফয়সাল শামীম, নিজস্ব প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে শত শত একর জমির মাসকলাই মোজাইক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।

vairas

সরেজমিন নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা, কেদার, নারায়নপুর ও বল্লভেরখাস ইউনিয়নের ছোটবড় ২৩টি চর ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। চরাঞ্চলের কৃষকরা সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, মাসকালাই হচ্ছে চরের মানুষের প্রধান ফসল। সেই ফসল ভাইরাসে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হতাশা গ্রস্থ হয়ে পরেছেন তারা।

নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, উপজেলার চরাঞ্চলে মাসকালাই মোজাইক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়েছে। এর কারন হিসাবে তিনি বলেন, যে সব কৃষক স্থানীয় বীজ দিয়ে দেরীতে মাসকালাই চাষ করেছেন তাদের ক্ষেত বেশি হারে মোজাইক ভাইরাসে নষ্ট হয়ে গেছে। যারা আগাম চাষ করেছে তারা কিছু পেয়েছে।

নারায়নপুরের কৃষক জহির উদ্দিন বলেন, এবারে মাসকালাই চাষের শুরুতে প্রকৃতি ও পরিবেশ খুবই অনুকুলে থাকায় মাসকালাইর আবাদ ভাল হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন এই আশায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছিল। কিন্তু ফুল আসার পর মলিন হয়ে যায় সেই কৃষকের মুখ। তারা দেখেন মাসকালাইয়ের ফুলের পরিবর্তে সমস্ত গাছ হলুদ হয়ে মরে যেতে থাকে। কচাকাটা ইউনিয়নের ধনীরামপুর চরের কৃষক কেছমত আলী বলেন, ‘এবার বন্যার সময় চরাঞ্চলে পলিমাটি পরে তাতে আমরা মাসকালাই লাগাই গাছ খুব সুন্দর হয়েছে। কিন্তু এমন রোগ এর আগে দেখে নাই। আমার ২০ বিঘা জমির মাসকালাই নষ্ট হয়ে গেছে।

কেদার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান জানান, চরের মানুষের প্রধান জীবিকা হচ্ছে কালাই চাষ। এবারে ভাইরাসে সেই কালাই নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা খুবই হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরেছে। চৌদ্দঘুরি চরের কৃষক হুরমুজ শেখ জানান, তিনি ১০ বিঘা জমির মধ্যে মাসকালাই চাষ করেছেন কিন্তু ১ কেজি মাসকালাই তার ঘরে তুলতে পারেননি। অপর কৃষক আব্দর রহমান জানান, ৮ বিঘা জমিতে হালচাষ, কামলা কৃষাণ, বীজ- সার মিলে বিঘা প্রতি ২ হাজার টাকা খরচ করে ৪ মণ থেকে ৫ মণ কালাই পেতাম। যা বিক্রি করে খাবারসহ সংসার চালাতাম। এবার সব শেষ।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, এবার জেলায় ২৭২০ হেক্টর জমিতে মাসকালাই চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার মেঃ টন। মোজাইক ভাইরাস যাতে অন্য কোথাও ছড়িয়ে পরতে না পারে তার জন্য জাবপোকা ও সাদামাছি নিয়ন্ত্রন করার জন্য কৃষককে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।