• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এক্স-রেতে পেটের ভেতর মিলল স্বর্ণ, অতঃপর পায়ুপথ দিয়ে বের করা হলো ১২টি সোনার বার

২:০৭ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৫, ২০১৭ আলোচিত বাংলাদেশ

রবিউল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ আবারও শরীফ আহমেদ নামে এক স্বর্ণ মানবকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতর। রাতভর নাটকীয়তার পর বৃহস্পতিবার ভোরে এই ব্যক্তি অভিনব কায়দায় নিজের পায়ুপথ দিয়ে ১২টি স্বর্ণের বার বের করেন।

স্বর্ণবারগুলোর ওজন ১ কেজি ২০০ গ্রাম। প্রতিটির ওজন ১০০ গ্রাম। আটক স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। আটক শরীফের দেশের বাড়ি কুমিল্লার ময়নামতির বুড়িচং এলাকায়। তার পাসপোর্ট নং BM 0806731,

hhশুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান জানান, মালিন্দ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট OD162 এ রাত সোয়া ১২টায় শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। শুল্ক গোয়েন্দা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত যাত্রীকে নজরদারিতে রাখে। কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করে চলে যাওয়ার সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার হাটাচলায় অস্বাভাবিকতা থাকায় শুল্ক গোয়েন্দার সন্দেহ আরো ঘণীভূত হয়। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই স্বর্ণ থাকার কথা স্বীকার করছিলেন না।

ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদেও তার কাছে স্বর্ণবারের থাকার কথা অস্বীকার করতে থাকেন। শুল্ক গোয়েন্দার দল রাত ৩ টায় উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যান। ডাক্তার যাত্রীর পেটে এক্সরে সম্পন্ন করান। এতে রেক্টামে ৩ টি অস্বাভাবিক পোটলার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এক্সরে রিপোর্ট দেখালেও যাত্রীকে রাজি করানো যায়নি।

jjjএরপর শুল্ক গোয়েন্দাদের উদ্যোগে কর্তব্যরত ডাক্তার তলপেট কেটে স্বর্ণ বের করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিলে তিনি নমনীয় হন। অপারেশন ছাড়া স্বর্ণ বের করে দিবেন বলে ওয়াদা করেন। এরপর চলে স্বর্ণ বের করার পালা। যাত্রীকে শাহজালালের কাস্টমস হলে নিয়ে এসে পানি খেতে দেয়া হয়। পরে টয়লেটে নিয়ে তলপেটে চাপ প্রয়োগ করা হয় দীর্ঘক্ষণ। কোন কিছুতে কাজ না হলে তাকেই বলা হয় স্বর্ণ বের করে দিতে। দেয়া হয় লুঙ্গি। লুঙ্গি পরে শুল্ক গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে টয়লেটের অভ্যন্তরে বিশেষ কায়দায় পায়ুপথ দিয়ে একে একে ৩ টি কনডম বের করে আনেন ৩৩ বছরের যাত্রী শরীফ আহমেদ। বের করা ৩টি কনডমের ভিতর থেকে ৪ টি করে মোট ১২ টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়।

1প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, যাত্রী চারটি গোল্ডবার স্কচ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে একটি কনডমে রেখে তা আবার স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রেক্টামে প্রবেশ করান। এ রকম ৩ টি কনডম প্রবেশ করান তিনি। ফ্লাইট অবতরণ করার ৩০ মিনিট আগে আকাশপথে বাথরুমে গিয়ে যাত্রী কনডমগুলো পায়ুপথে পুশ করেন। এজন্য মালয়েশিয়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

শুল্ক গোয়েন্দাদের নজরদারির হাত থেকে বাঁচার জন্য এই অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেন বলে তিনি জানান। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও টাকার জন্য এই পন্থা অবলম্বন করেন।

এই ব্যাপারে আটক স্বর্ণ মানব শরীফ আহমেদকে গ্রেফতার এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটককৃত স্বর্ণ দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হবে বলেও জানান তিনি।