বিদ্যুৎ সংযোগে মিটার প্রতি ১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

◷ ৫:০০ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৭ দেশের খবর, ময়মনসিংহ
ghus

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগে মিটার প্রতি পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ট্রান্সমিটার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার ঘুষ সঙ্গে ট্রান্সমিটার পরিবহনের খরচও আদায় করা হচ্ছে।

ghus

গ্রাহকের কাছ থেকে ওই ঘুষের অর্থ আদায়ের জন্য ওই দুই উপজেলায় অন্তত ২০ জনের মতো দালাল রয়েছে। দালালের কাছ থেকে মাঠ পরিদর্শক হয়ে ঘুষের টাকা চলে যায় ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার পর্যন্ত। ঘুষ ছাড়া নতুন কোনো সংযোগ মেলে না। সরেজমিনে গ্রাহক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ বকশীগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন ফি ১০০ টাকা এবং মিটারের জামানত হিসেবে ৬০০ টাকা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এর বাইরে কোনো ফি নেওয়া যাবে না। গত বছর রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় প্রায় দেড় হাজারের মতো নতুন গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

রাজীবপুরের বালিয়ামারী, জাউনিয়াচর, গড়াইমারী, জহির মণ্ডলপাড়া, চররাজীবপুর এবং মিয়াপাড়ায় নতুন সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে প্রায় ৫০০ গ্রাহক। প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে নতুন সংযোগ ও মিটারসহ পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের দালালরা ওই ঘুষের টাকা তুলে মাঠ পরিদর্শকের দায়িত্বে কায়সার আহমেদের কাছে পৌঁছায়। তারপরই কেবল মিটারের জামানতের টাকা জমা নেওয়া হয়। ঘুষের ওই টাকা না দিলে মিটারের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হয়- এমন অভিযোগ করেন জহির মণ্ডলপাড়া গ্রামের মোয়াচ্ছেল হোসেন।

চররাজীবপুর গ্রামের সিদ্দিক আলী বলেন, সাত হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পর আমি মিটার পাইছি। একই গ্রামের মান্নান মিয়া বলেন, মিটার নিতে আমার ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এই টাকা মাঠ পরিদর্শক কাওসার আলী গ্রহণ করেছে।

রৌমারী উপজেলার চাকতাবাড়ি, আকন্দপাড়া, কাশিয়াবাড়ি, শিবেরডাঙ্গী, কোমরভাঙ্গি, ঠনঠনিয়া পাড়া, কড়াইকান্দি, বারবান্দা, তিনতলি, বাউশমারী, ধনারচর, ধুবলাবাড়ি, কলাবাড়ি গ্রামগুলো নতুন সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। কড়াইকান্দি গ্রামের চান মিয়া মেকার, হাশেম আলী এবং রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাদের গ্রামের ট্রান্স মিটার বসানোর কারনে ৬৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে মাঠ পরিদর্শক শীতল চন্দ্র ও শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া নতুন করে সংযোগ দিতে গ্রাহক প্রতি ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছে। ঘুষ না দিলে নতুন সংযোগ ভাগ্যে জোটে না।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাঠ পরিদর্শক পৃথকভাবে একই সুরে কথা বলেন। মাঠ পরিদর্শক কাওসার আহমেদ, শীতল চন্দ্র এবং শফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন সংযোগে ঘুষ নিয়েছি – এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। যারা অভিযোগ করেছেন তাদেরকে বলেন ঘুষের টাকা কার হাতে দিয়েছে। দালাল প্রসঙ্গে তারা বলেন, আমরা তো কাউকে টাকা দিতে বলিনি।

বিষয়গুলো নিয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুল জলিল সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, অভিযোগের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা হয়তো জানেন এর আগে এজিএম দীপক চন্দ্রকে ঘুষ গ্রহণের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।